ট্রাম্প-পোপ বাকযুদ্ধে নতুন মাত্রা, ছবিঃ সংগৃহীত
মেলবোর্ন, ১৩ এপ্রিল- মধ্যপ্রাচ্যে চলমান মার্কিন-ইরান সংঘাতের মধ্যে হরমুজ প্রণালিতে নৌ অবরোধের ঘোষণা ঘিরে নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও পোপ লিও চতুর্দশ-এর মধ্যে প্রকাশ্য বাকবিতণ্ডা পরিস্থিতিকে আরও আলোচনায় এনে দিয়েছে।
পাকিস্তানে অনুষ্ঠিত দীর্ঘ শান্তি আলোচনা কোনো সমঝোতা ছাড়াই শেষ হওয়ার পর ট্রাম্প ঘোষণা দেন, যুক্তরাষ্ট্র নৌবাহিনী হরমুজ প্রণালিতে প্রবেশ ও প্রস্থানকারী সব জাহাজের ওপর অবরোধ কার্যক্রম শুরু করবে। নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে তিনি বলেন, “বিশ্বব্যাপী চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।”
প্রায় ২৪ ঘণ্টা ধরে চলা এই উচ্চপর্যায়ের আলোচনায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের প্রতিনিধিরা অংশ নিলেও যুদ্ধ অবসানের শর্তে কোনো ঐকমত্যে পৌঁছাতে পারেনি দুই পক্ষ। আলোচনায় ইরানের প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন দেশটির পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ। বৈঠক শেষে তিনি বলেন, “তারা যদি যুদ্ধ বেছে নেয়, আমরাও প্রস্তুত; আর যদি যুক্তির পথে আসে, আমরা যুক্তির মাধ্যমেই জবাব দেব।” তার বক্তব্যে স্পষ্ট হয়, ইরান কোনো ধরনের চাপ বা হুমকির কাছে নতি স্বীকার করতে প্রস্তুত নয়।
অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স। ইসলামাবাদে অনুষ্ঠিত বৈঠক শেষে তিনি কোনো চুক্তি ছাড়াই ফিরে যান। বিশ্লেষকদের মতে, ১৯৭৯ সালের ইসলামী বিপ্লবের পর এত উচ্চপর্যায়ের সরাসরি আলোচনা বিরল, ফলে এর ব্যর্থতা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।
এই প্রেক্ষাপটে নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে ট্রাম্প ও পোপের মন্তব্য-পাল্টা মন্তব্য। ট্রাম্প সামাজিক মাধ্যমে পোপকে ‘অপরাধ দমনে দুর্বল’ এবং ‘বিদেশনীতি বোঝেন না’ বলে সমালোচনা করেন। জবাবে পোপ লিও চতুর্দশ রাজনৈতিক বিতর্কে জড়াতে অস্বীকৃতি জানিয়ে বলেন, চার্চের কাজ সংঘাত উসকে দেওয়া নয়, বরং শান্তি ও সহাবস্থানের পথ সুগম করা।
হরমুজ প্রণালি বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ রুট হওয়ায় এই অঞ্চলে কোনো ধরনের সামরিক পদক্ষেপ বিশ্ব অর্থনীতিতে বড় প্রভাব ফেলতে পারে। ইতোমধ্যে সংঘাতের কারণে জ্বালানির বাজারে অস্থিরতা দেখা দিয়েছে এবং বিভিন্ন দেশ পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে।
এদিকে যুক্তরাজ্য স্পষ্ট জানিয়েছে, তারা মার্কিন নেতৃত্বাধীন এই অবরোধে অংশ নেবে না। তবে নৌ চলাচলের স্বাধীনতা বজায় রাখা এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে তারা নিজেদের কার্যক্রম চালিয়ে যাবে।
বিশ্লেষকদের মতে, আপাতত যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকলেও স্থায়ী কোনো রাজনৈতিক সমাধান না আসা পর্যন্ত মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি অনিশ্চিতই থাকবে এবং এর প্রভাব পড়বে বৈশ্বিক অর্থনীতিতেও।