ধর্ষণে দোষী সাব্যস্ত নরওয়ের যুবরাজের সৎপুত্র, ৪ বছরের কারাদণ্ড
মেলবোর্ন, ১৫ জুন- নরওয়ের যুবরাজ হাকনের সৎপুত্র মারিউস বর্গ হয়বি ধর্ষণ, পারিবারিক সহিংসতা এবং অন্যান্য অপরাধে দোষী সাব্যস্ত হয়েছেন। দেশটির রাজধানী অসলোর একটি আদালত সোমবার…
মেলবোর্ন, ১৩ জুন- বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দায়িত্ব গ্রহণের পর প্রথম বিদেশ সফরে ভারতকে নয়, মালয়েশিয়া ও চীনকে বেছে নিয়েছেন। চলতি মাসের ২১ থেকে ২২ জুন মালয়েশিয়া এবং ২৩ থেকে ২৫ জুন চীন সফরের মধ্য দিয়ে নতুন সরকারের কূটনৈতিক অগ্রাধিকার ও পররাষ্ট্রনীতির বার্তা স্পষ্ট হতে যাচ্ছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
ঢাকার পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, এই সফরসূচি কোনো দেশের প্রতি বিরূপ মনোভাব নয়; বরং বাংলাদেশের জাতীয় স্বার্থকে কেন্দ্র করে স্বাধীন ও ভারসাম্যপূর্ণ পররাষ্ট্রনীতির প্রতিফলন। তবে ভারতের আগে মালয়েশিয়া ও চীনকে বেছে নেওয়ার সিদ্ধান্ত দক্ষিণ এশিয়ার কূটনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, সফরের প্রথম গন্তব্য মালয়েশিয়া হওয়ার পেছনে রয়েছে বাস্তব অর্থনৈতিক ও জনশক্তি সংশ্লিষ্ট কারণ। বর্তমানে মালয়েশিয়ায় প্রায় আট লাখ বাংলাদেশি কর্মরত রয়েছেন, যারা দেশটির উৎপাদন, নির্মাণ, কৃষি ও বাগান খাতের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। সফরে শ্রমবাজার পুনরায় সম্প্রসারণ, কর্মীদের অধিকার, নিয়োগব্যয় কমানো এবং বৈধ অভিবাসন প্রক্রিয়া নিয়ে আলোচনা হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
এ ছাড়া মালয়েশিয়ার সঙ্গে বাণিজ্য, নবায়নযোগ্য জ্বালানি, শিক্ষা এবং দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোর জোট আসিয়ানের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক জোরদারের বিষয়ও গুরুত্ব পাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
অন্যদিকে, চীন সফরে বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভের আওতায় চলমান অবকাঠামো প্রকল্প, প্রযুক্তি খাতে বিনিয়োগ, নবায়নযোগ্য জ্বালানি, কৃষি, স্বাস্থ্যসেবা এবং শিল্পায়ন নিয়ে আলোচনা হবে। একই সঙ্গে স্থগিত হয়ে থাকা কয়েকটি বড় প্রকল্প পুনরায় সচল করার চেষ্টা করবে ঢাকা।
শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মোহাম্মদ শাকিল ভূঁইয়া বলেন, বাংলাদেশ উন্নয়ন ও বিনিয়োগের স্বার্থে চীনের কাছ থেকে আরও অনুকূল অর্থায়ন ও নতুন বিনিয়োগ আকর্ষণের চেষ্টা করবে।
বিশ্লেষকদের মতে, সফরের সময়সূচি নির্ধারণে সবচেয়ে বড় বিষয় হচ্ছে নতুন সরকারের ‘বাংলাদেশ ফার্স্ট’ কৌশল। এর মাধ্যমে ঢাকা শুরুতেই ভারত বা চীনের কোনো এক পক্ষের দিকে ঝুঁকে পড়ার ধারণা এড়াতে চাইছে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগী অধ্যাপক ড. শফি মোস্তফা বলেন, বর্তমান সরকার বাংলাদেশকে একটি স্বাধীন ও বহুমাত্রিক পররাষ্ট্রনীতির রাষ্ট্র হিসেবে তুলে ধরতে চায়। তবে এর অর্থ এই নয় যে বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের অবনতি ঘটছে। কারণ ভৌগোলিক, অর্থনৈতিক ও কৌশলগত কারণে ভারত বাংলাদেশের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রতিবেশী।
সম্প্রতি সীমান্ত উত্তেজনা, অভিবাসন ইস্যু, পানিবণ্টন বিরোধ এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ভারতে আশ্রয় দেওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে দুই দেশের সম্পর্কে কিছুটা দূরত্ব তৈরি হয়েছে। তবুও বিশ্লেষকদের মতে, দিল্লি ও ঢাকার মধ্যে সম্পর্ক পুনর্গঠন উভয় দেশের জন্যই গুরুত্বপূর্ণ।
দিল্লিভিত্তিক অবজারভার রিসার্চ ফাউন্ডেশনের গবেষক সোহিনী বসু মনে করেন, মালয়েশিয়া দিয়ে সফর শুরু করা একটি বাস্তবসম্মত সিদ্ধান্ত। এতে বাংলাদেশকে ভারত-চীন প্রতিদ্বন্দ্বিতার কোনো এক পক্ষের ঘনিষ্ঠ হিসেবে দেখার সুযোগ কমে যায়।
এদিকে আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষক মো. হিমেল রহমান বলেন, মালয়েশিয়া সফরের মাধ্যমে সরকার অভ্যন্তরীণভাবে ‘বাংলাদেশ ফার্স্ট’ নীতির বার্তা দিতে চায়। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে জানাতে চায় যে বাংলাদেশ ভারত-চীন প্রতিযোগিতায় কোনো পক্ষ বেছে নেওয়ার পথে হাঁটছে না।
তিনি আরও বলেন, মালয়েশিয়ার সঙ্গে শ্রমবাজার পুনরায় চালু করা, বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য উচ্চশিক্ষার সুযোগ বাড়ানো এবং রোহিঙ্গা সংকট মোকাবিলায় সহযোগিতা চাওয়া সফরের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হতে পারে।
বিশ্লেষকদের অভিমত, শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর রাজনৈতিক অস্থিরতা কাটিয়ে বাংলাদেশ এখন আন্তর্জাতিক অঙ্গনে স্থিতিশীল ও আত্মবিশ্বাসী রাষ্ট্র হিসেবে নিজেদের উপস্থাপন করতে চাইছে। মালয়েশিয়া ও চীন সফর সেই কৌশলেরই অংশ, যেখানে অর্থনীতি, বিনিয়োগ, শ্রমবাজার ও আঞ্চলিক কূটনীতিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
তবে তারা মনে করেন, মালয়েশিয়া ও চীন সফরের পর ভারত সফরও সময়ের ব্যাপার মাত্র। কারণ বাংলাদেশের দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক উন্নয়ন, বাণিজ্য, জ্বালানি নিরাপত্তা এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার জন্য ভারত এখনও অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au