‘আমরা একটি মসজিদও চাই না’, প্রতিবাদে জাপানের রাজপথে হাজারো মানুষ। ছবিঃ সংগৃহীত
মেলবোর্ন, ১৫ এপ্রিল- জাপানের উপকূলবর্তী শহর ফুজিসাওয়া-এ একটি প্রস্তাবিত মসজিদ নির্মাণকে কেন্দ্র করে তীব্র বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। এই ইস্যুকে ঘিরে কয়েক হাজার স্থানীয় বাসিন্দা রাস্তায় নেমে বিক্ষোভ করেছেন। “আমাদের শহরে একটি মসজিদও চাই না” এমন স্লোগানে মুখর হয়ে ওঠে পুরো এলাকা, যা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর দেশজুড়ে আলোচনা-সমালোচনার জন্ম দিয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শী সূত্র ও ভাইরাল ভিডিওতে দেখা যায়, বিপুলসংখ্যক মানুষ প্ল্যাকার্ড ও পোস্টার হাতে নিয়ে মিছিল করছেন এবং প্রস্তাবিত মসজিদ নির্মাণের বিরুদ্ধে অবস্থান জানাচ্ছেন। বিক্ষোভকারীদের একটি অংশের দাবি, তাঁদের ঐতিহ্যবাহী সামাজিক ও ধর্মীয় পরিবেশ পরিবর্তিত হয়ে যেতে পারে, যা তারা মেনে নিতে প্রস্তুত নন।
স্থানীয় পর্যবেক্ষকদের মতে, এই ঘটনা বিচ্ছিন্ন নয়; বরং গত কয়েক দশকে জাপানে মুসলিম জনসংখ্যা বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে এ ধরনের উদ্বেগও বেড়েছে। ঐতিহ্যগতভাবে জাপান-এর অধিকাংশ মানুষ শিন্তো ও বৌদ্ধ ধর্ম অনুসরণ করে থাকেন। এ অবস্থায় একটি অংশের নাগরিক মনে করছেন, নতুন ধর্মীয় অবকাঠামো নির্মাণ তাঁদের সামাজিক ভারসাম্যে প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষ করে, মসজিদে আজান প্রচারের মতো বিষয় নিয়েও আপত্তির কথা উঠে এসেছে কিছু বিক্ষোভকারীর বক্তব্যে।
তবে বিক্ষোভের পর পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা করেছেন প্রস্তাবিত ‘ফুজিসাওয়া মসজিদ’-এর প্রতিনিধিরা। তাঁদের একজন জানান, তারা জাপানের আইন ও নিয়মকানুন মেনেই সব কার্যক্রম পরিচালনা করতে চান এবং স্থানীয় সংস্কৃতির প্রতি সম্মান দেখাতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। একই সঙ্গে তিনি স্বীকার করেন, স্থানীয় বাসিন্দাদের একটি অংশের মধ্যে “জনসংখ্যাগত পরিবর্তন” নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে, যা পরিস্থিতিকে জটিল করে তুলছে।
এই ঘটনাকে ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। কেউ কেউ বিক্ষোভকারীদের সমর্থন জানিয়ে বলছেন, সময় থাকতে এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া প্রয়োজন, যাতে ভবিষ্যতে সামাজিক সংঘাত না বাড়ে। অন্যদিকে, অনেকেই আইনি দিকটি সামনে এনে প্রশ্ন তুলেছেন, মসজিদ নির্মাণের জন্য প্রশাসনিক অনুমোদন রয়েছে কি না এবং ধর্মীয় স্বাধীনতার বিষয়টি কীভাবে বিবেচনায় নেওয়া হচ্ছে।
বিশ্লেষকদের মতে, এই ঘটনা জাপানের মতো তুলনামূলকভাবে একজাতিগত সমাজে অভিবাসন, ধর্মীয় বৈচিত্র্য এবং সামাজিক সহাবস্থানের প্রশ্নকে নতুন করে সামনে নিয়ে এসেছে। এখন দেখার বিষয়, স্থানীয় প্রশাসন এবং সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলো কীভাবে এই সংবেদনশীল ইস্যুর সমাধান করে এবং উভয় পক্ষের উদ্বেগ ও অধিকারের মধ্যে একটি ভারসাম্য প্রতিষ্ঠা করতে পারে।