বিশ্ব

টাটা কনসালটেন্সি সার্ভিসেস (টিসিএস)- এ ‘করপোরেট জিহাদ’

ভারতে হিন্দু মেয়েরা কীভাবে মুসলিম হতে বাধ্য হচ্ছে, ধরা পড়ল স্টিং অপারেশনে

সংস্থটির কয়েকজন মুসলিম কর্মীর বিরুদ্ধে হিন্দু মেয়েদের জোর করে যৌনসম্পর্ক স্থাপনে বাধ্য করার অভিযোগ উঠেছে

  • 4:01 pm - April 16, 2026
  • পঠিত হয়েছে:৬৭১ বার
টিসিএস: জোরপূর্বক ধর্মান্তরের অভিযোগ উঠেছে প্রতিষ্ঠানটির কয়েকজন মুসলিম কর্মীর বিরুদ্ধে। ছবি: সংগৃহীত

মেলবোর্ন. ১৬, এপ্রিল- ভারতের সবচেয়ে বড় তথ্য প্রযুক্তি সংস্থা টাটা কনসালটেন্সি সার্ভিসেসের (টিসিএস) একাধিক ব্রাঞ্চকে ব্যবহার করে হিন্দুদের নারীদের মুসলিম ধর্মে ধর্মান্তরের ভয়াবহ তথ্য পেয়েছে পুলিশ। শুধু তাই নয়, ওই সংস্থার মানবসম্পদ বিভাগের (এইচআর) ম্যানেজারসহ বেশ কয়েকজন মুসলিম কর্মকর্তা হিন্দু মেয়েদের টার্গেট করে যৌনসম্পর্ক স্থাপনে বাধ্য করতো বলেও জানা গেছে।

সম্প্রতি পুলিশের স্টিং অপারেশনে (ছদ্মবেশী অভিযান) একের পর এক এমন ঘটনার কথা প্রকাশ্যে আসে। এই ঘটনা প্রকাশের পর দেশজুড়ে তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ভারতে ‘লাভ জিহাদ’ ও  ‘ল্যান্ড জিহাদে’র পর এবার ‘করপোরেট জিহাদ’ শুরু করেছে উগ্রপন্থী মুসলমানরা। তাও আবার টাটা অ্যান্ড সন্সের মতো ভারতের ঐতিহ্যবাহী করপোরেট প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে!

ছদ্মবেশী ওই অভিযানে পুলিশের হাতে পুরো চক্রের তথ্য-প্রমাণ উঠে এসেছে। এই চক্রে জড়িত ছিলেন মহারাষ্ট্রের টিসিএস- এর নাসিক ব্রাঞ্চের ট্রেনিং টিমের একাধিক সদস্য, এইচআর ম্যানেজারসহ আরও কয়েকজন।

এরই মধ্যে ৭ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে জানিয়ে মহারাষ্ট্র পুলিশ বলছে, এই চক্রের মূল ব্যক্তি টিসিএস- এর এইচআর ম্যানেজার নিদা খান পালিয়ে গেছে। তবে যেখানেই পালিয়ে যাক না কেন- তাকে ধরে নিয়ে আসা হবে।

যেভাবে টার্গেট হিন্দু মেয়েরা
পুলিশের স্টিং অপারেশনের সময় পাওয়া তথ্য-প্রমাণে উঠে এসেছে, টিসিএসে যেসব হিন্দু মেয়ে নতুন চাকরিতে যোগ দিতো- এইচআর ম্যানেজার নিদা খান তাদের ব্যক্তিগত তথ্য জেনে নিতো। এরপর সেই তথ্য তার অন্য মুসলিম সহকর্মীকে সরবরাহ করতো। পরে চক্রটির প্রত্যেক সদস্য একটি করে হিন্দু মেয়েকে টার্গেট করে ধর্মান্তরের কাজ শুরু করে দিতো।

এই চক্রটির বেছে নেওয়া টার্গেটে সেইসব হিন্দু মেয়েরাই থাকতো, যাদের বেতন ১৮ থেকে ২৫ হাজার টাকার মধ্যে। এরা ছিল ওদের সহজ শিকার। প্রথমে তারা এইচআর ম্যানেজারের কাছ থেকে পাওয়া তথ্যগুলো যাচাই বাছাই করতো। এরপর যাদের আর্থিক অবস্থা ভালো নয়, পারিবারিক সমস্যা আছে, টাকার প্রয়োজন- এসব ভাগে ভাগে করা হতো।

শুরু হতো হিন্দুদের দেব-দেবী নিয়ে অবমাননাকর মন্তব্য দিয়ে
পুলিশের তদন্তে উঠে আসে- যেসব হিন্দু মেয়েকে টার্গেট বানানো হতো, তাদের দেব-দেবী সম্পর্কে একের পর এক বাজে মন্তব্য করতো। যাতে তাদের ধর্ম বিশ্বাস টলিয়ে দেওয়া যায়। মূলত নতুন হিন্দু কর্মীদের ট্রেনিংয়ের সময় একটি নির্দিষ্ট কৌশলে তাদের দেব-দেবীদের নিয়ে অবমাননাকর মন্তব্য করা হতো।

টার্গেট করা হিন্দু মেয়েরা এমন কথাবার্তা শুনে কষ্ট পেতো। এরপর এগিয়ে আসতেন সেই এইচআর ম্যানেজার নিদা খান। যিনি নিজেও একজন নারী। পাশে থাকার আশ্বাস দিয়ে সেইসব হিন্দু কর্মীদের বিশ্বাস অর্জন করতেন। এরপর তাদের প্রভাবিত করে আস্তে আস্তে পোশাক ও জীবনযাত্রা বদলে দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করতেন। এক পর্যায়ে সেই নারীই হিন্দু মেয়েদের অন্য মুসলিম পুরুষ কর্মীর সাথে কথিত প্রেমের সম্পর্ক করিয়ে দিতো। সবশেষে হিন্দু ধর্ম ত্যাগ করাতে বাধ্য করতো।

পুলিশ স্টিং অপারেশন
আগেই লোকমুখে এসব কথা শুনতে পাচ্ছিল নাসিক পুলিশ। এরপর গত ফেব্রুয়ারিতে নাসিক সিটি পুলিশে কয়েকজন ব্যক্তি এ নিয়ে লিখিত অভিযোগ জানান। তারা দাবি করেন, টিসিএসের নাসিক ব্রাঞ্চের বিপিও ইউনিটে সন্দেহজনক কাজ হচ্ছে। যেখানে অনেক মুসলিম কর্মী কাজ করেন।

এমন অভিযোগ পেয়ে নাসিক সিটি পুলিশ গোপনে অভিযান শুরু করে। কয়েকজন মহিলা পুলিশ সদস্য ওই সংস্থায় হাউস কিপিং স্টাফ হিসাবে যোগ দেন। এরপর সেখানে শুরু হয় নজরদারি ও তথ্য সংগ্রহের কাজ। দিনের পর দিন ধরে চালানো ওই স্টিং অপারেশনেই উঠে আসে আসল সত্য।

পুলিশ দেখতে পায়, হিন্দু মেয়েদের কীভাবে যৌন হেনস্তা করা হচ্ছে, ধর্ষণ করছে একের পর এক মুসলিম ব্যক্তিরা। যৌন সর্ম্পক স্থাপনের পর তাদের জোর করে ধর্মান্তর করা হচ্ছে।

টিসিএস এর নাসিক ব্রাঞ্চে পুলিশের অভিযান। ছবি: সংগৃহীত

হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে সব তথ্য
পুলিশ এই স্টিং অপারেশনে একটি হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপের খোঁজ পায়। সেই গ্রুপ থেকেই সব তথ্য জানতে পারে তারা। ওই হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে ধর্মান্তরের পুরো পরিকল্পনা দিয়ে দেওয়া হতো। ধাপে ধাপে হিন্দু মেয়েদেরকে কিভাবে মুসলমান বানাতে হবে- তা নিয়ে নানান পরামর্শ ও নির্দেশনা দেওয়া হতো।

নাম প্রকাশ না করে সংস্থাটির একজন মহিলাকর্মী জানান, ‘২০২১ সাল থেকে এসব কর্মকাণ্ড চলছে। ওরা বলতো, যাও হিন্দু মেয়েদের সঙ্গে বন্ধুত্ব করো। তারপর বিয়ে করে ফেলো। শেষে ধর্ম বদলে মুসলমান বানাও। এর জন্য যত টাকা লাগে,  খরচ করো।’

অভিযোগ করেও কোনো লাভ হয়নি
টিসিএসের নাসিক ব্রাঞ্চের বিপিও ইউনিটের কমপক্ষে ৮ জন হিন্দু মহিলা কর্মী বিভিন্ন সময়ে কর্তৃপক্ষের কাছে অভিযোগ করেছিলেন। তাদের অভিযোগ ছিল, সংস্থার সিনিয়র মুসলিম কর্মীরা তাদের যৌন ও মানসিক হেনস্তা করছেন। অথচ মানবসম্পদ বিভাগ এসব অভিযোগ আমলে নেয়নি। কারণ সেই দায়িত্বে যিনি ছিলেন, তিনিও একজন মুসলিম। ২০২১ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে এ বছরের মার্চ পর্যন্ত একের পর এক ঘটনা ঘটে।

আরেক কর্মীর অভিযোগ, তাদের কয়েকজনকে জোর করে অফিসে নামাজ পড়ানো ও কলমা পাঠ করানো হতো। এছাড়াও তাদের ধর্মীয় বিশ্বাসের বাইরে গিয়ে গো-মাংস বা নিরামিষাশী কর্মীদের আমিষ খাবার খেতে বাধ্য করতো।

প্রথম গ্রেপ্তার দানিশ শেখ
এই ঘটনায় পুলিশ প্রথমে গ্রেপ্তার করে দানিশ শেখকে। তার বিরুদ্ধে এক হিন্দু তরুণী অভিযোগ করেন, তিনি ওই তরুণীকে বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে শারীরিক সম্পর্কে জড়ান। শুধু তাই নয়, নিজের বিবাহিত পরিচয়ও গোপন করেন। এরপর ক্রমন্বয়ে সামনে আসে আরও অভিযোগ। অন্যদের মধ্যে যাদের গ্রেপ্তার করা হয়, তারা হলেন- আসিফ আনসারি, শাফি শেখ, শাহরুখ কুরেশি, রেজা মেমন ও তৌসিফ আত্তার।

কে এই নিদা খান
এই চক্রের মূল হোতা হিসেবে এইচআর ম্যানেজার নিদা খানকে চিহ্নিত করেছে পুলিশ। নিদা খানই নতুন হিন্দু নারী কর্মীদের অভিযুক্তদের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দিতেন। এছাড়াও তার বিরুদ্ধে  হিন্দু মেয়েদের মগজ ধোলাইয়ের কাজ করার প্রমাণ পেয়েছে পুলিশ।

একজন অভিযোগকারী জানান, তার পক্ষাঘাতগ্রস্ত বাবাকে সুস্থ করে তোলার টোপ দিয়ে তাকে ধর্মান্তরিত হওয়ার জন্য চাপ দিচ্ছিলেন নিদা খান।

সবার যোগ মালয়েশিয়ার এক ধর্ম প্রচাররের সঙ্গে
এই ঘটনার তদন্ত করতে গিয়ে তদন্তকারীরা কয়েকজনের কাছে থাকা হোয়াটসঅ্যাপ চ্যাটে কমন একটি নাম পেয়েছেন। যার অবস্থান চিহ্নিত করা হয়েছে মালয়েশিয়ায়। তাকে ধর্মপ্রচারক ‘ইর্মান’ বলে হোয়াটসঅ্যাপ চ্যাটগুলোতে উল্লেখ করা হয়েছে।

‘ইর্মান’ নামের এই ব্যক্তি ভিডিও কলের মাধ্যমে তরুণীদের সঙ্গে যোগাযোগ করতেন। তার নির্দেশনায় ওই ১৮ থেকে ২৫ বছরের তরুণীদের টার্গেট করে ধর্মান্তর করা হতো। এই ব্যক্তির সম্পর্কে আরও তথ্য পাওয়ার চেষ্টা করছে পুলিশ।

ব্যাংক অ্যাকাউন্টে পুলিশের নজর
নাসিক সিটি পুলিশ উচ্চ পর্যায়ের তদন্ত টিম গঠন করেছে। এরই মধ্যে তারা গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খতিয়ে দেখছে। বিশেষ করে ধর্মান্তর চক্র চালাতে যে বিশাল খরচ, তা কোথা থেকে আসতো। অভিযুক্তরা বিদেশ থেকে অর্থ পেয়েছে কি না- তাও খোঁজ নিচ্ছে পুলিশ।

কি বলছে টিসিএস
এই ধর্মান্তর বিতর্ক প্রকাশ্যে আসার পর টিসিএস জানিয়েছে, মহিলা কর্মীদের হয়রানির বিরুদ্ধে তারা জিরো টলারেন্সনীতি মেনে চলে। এরই মধ্যে যৌন হেনস্তায় অভিযুক্ত কর্মীদের বরখাস্ত করা হয়েছে। এছাড়াও টিসিএসের চিফ অপারেটিং অফিসার আরতি সুব্রহ্মণ্যমের নেতৃত্বে অভ্যন্তরীণ তদন্ত কমিটিও কাজ শুরু করেছে।

টাটা সন্সের চেয়ারম্যান এন চন্দ্রশেখরন এই ঘটনা প্রসঙ্গে বলেছেন, ‘এটা অত্যন্ত উদ্বেগজনক এবং বেদনাদায়ক’।

টিসিএস
টাটা কনসালটেন্সি সার্ভিসেস (টিসিএস) টাটা গ্রুপের অধীনে পরিচালিত ভারতের শীর্ষস্থানীয় বহুজাতিক তথ্য প্রযুক্তি (আইটি) পরিষেবা প্রদানকারী সংস্থা। পাশাপাশি আইটি বিষয়ক পরামর্শ এবং ব্যবসায়িক সমাধানও দিয়ে থাকে সংস্থাটি।

১৯৬৮ সালে প্রতিষ্ঠিত এই সংস্থাটি বর্তমানে এশিয়ার বৃহত্তম এবং বিশ্বের অন্যতম সেরা আইটি পরিষেবা দাতা প্রতিষ্ঠান। বিশ্বজুড়ে বিভিন্ন শিল্পে ডিজিটাল রূপান্তর, এআই পরিচালিত কার্যক্রম, ক্লাউড কম্পিউটিং এবং সাইবার নিরাপত্তা পরিষেবা দিয়ে যাচ্ছে।

এই শাখার আরও খবর

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ওপর স্বাধীন নজরদারি প্রতিষ্ঠান গঠনের আহ্বান ফলকার টুর্কের

বাংলাদেশের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কর্মকাণ্ডের ওপর নজরদারি এবং তাদের জবাবদিহি নিশ্চিত করতে একটি শক্তিশালী ও স্বাধীন জাতীয় প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনার…

গণপতি পরিবারের ছয়-সাত ভরি স্বর্ণ গেল কোথায়? উদ্ধার সম্ভব নয় কেন বলছে পুলিশ?

রংপুর নগরের মাছুয়াপাড়ায় অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তীসহ একই পরিবারের চারজনকে হত্যার ঘটনায় একাধিক প্রশ্নের উত্তর এখনও মেলেনি। এর মধ্যে সবচেয়ে বড় প্রশ্নগুলোর একটি হলো, হত্যার…

ডেঙ্গুতে ৪২ হাজারের বেশি আক্রান্ত, মৃত্যু ১১৭

বাংলাদেশে চলতি বছর ডেঙ্গু পরিস্থিতির দ্রুত অবনতি হচ্ছে। বছরের শুরু থেকে এ পর্যন্ত ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে ৪২ হাজার ৫৯০ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এ সময়ে…

সুন্দরবন ও বাঘ সংরক্ষণে বাংলাদেশ-ভারতের পরবর্তী বৈঠক বাংলাদেশে

সুন্দরবনের জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ এবং রয়েল বেঙ্গল টাইগার রক্ষায় বাংলাদেশ ও ভারত বিদ্যমান সহযোগিতা কাঠামোর আওতায় পরবর্তী বৈঠকগুলো বাংলাদেশে আয়োজনের বিষয়ে সম্মত হয়েছে। একই সঙ্গে আন্তসীমান্ত…

ভয়াল সেই ভোররাতে ছোট বোনকে ফোন করেছিলেন গণপতির স্ত্রী, রিসিভ না করলেও ২ দিন খোঁজ নেয়নি পূজা

রংপুরের মাছুয়াপাড়া এলাকার একই পরিবারের চার সদস্য হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদ্ঘাটনে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিতে পারেন নিহত প্রীতিলতা চক্রবর্তীর ছোট বোন এবং শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তীর শ্যালিকা পূজা…

ব্রিকস সম্মেলনে তারেক রহমানের উপস্থিতি কেন ভারতের জন্য গুরুত্বপূর্ণ?

আগামী ১২ ও ১৩ সেপ্টেম্বর নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ব্রিকস সম্মেলন ২০২৬। গুরুত্বপূর্ণ এই আন্তর্জাতিক সম্মেলনে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ নিয়ে এখনো স্পষ্ট কোনো সিদ্ধান্ত জানা যায়নি।…

স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au