মমতার গলার কাঁটা হয়ে ভোটের সাত দিন আগে দল ছাড়লেন বিদায়ী বিধায়ক
মেলবোর্ন, ১৭ এপ্রিল- সিপিআইএমের বিরুদ্ধে জিতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যে বার প্রথম মুখ্যমন্ত্রী হন- সেইবারও আব্দুর রাজ্জাক মন্ডলকে হারাতে পারেনি তার দল তৃণমূল কংগ্রেস। ২০১১ সালে…
মেলবোর্ন, ১৬ এপ্রিল- মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধজনিত জ্বালানি সংকটের প্রেক্ষাপটে জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করতে বড় পদক্ষেপ নিয়েছে অস্ট্রেলিয়া। দেশটির প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি আলবানিজ জানিয়েছেন, অতিরিক্ত জ্বালানি সরবরাহ বাড়াতে ১০০ মিলিয়ন লিটার ডিজেল কেনা হয়েছে, যা ব্রুনেই ও দক্ষিণ কোরিয়া থেকে অস্ট্রেলিয়ায় পাঠানো হবে।
মালয়েশিয়া সফরকালে দেওয়া এক ঘোষণায় তিনি বলেন, নতুন আইনি ক্ষমতার আওতায় এই জ্বালানি কেনা সম্ভব হয়েছে। গত মাসে দেশটির সংসদে পাস হওয়া আইনের ফলে সরকার এখন জ্বালানি আমদানির ক্ষেত্রে আর্থিক ঝুঁকি নিজেই বহন করতে পারছে। এর ফলে বেসরকারি কোম্পানিগুলো জ্বালানি কিনলেও উচ্চমূল্যের কারণে যে চালানগুলো আগে আনা কঠিন ছিল, সেগুলো এখন সহজে নিশ্চিত করা যাচ্ছে।
প্রধানমন্ত্রী জানান, মোট ৫ লাখ ৭০ হাজার ব্যারেল সমপরিমাণ এই ডিজেল দুটি চালানের মাধ্যমে আনা হবে। এগুলোই নতুন ব্যবস্থার আওতায় প্রথম চালান, এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের আরও অনেক চালান আসবে বলে আশা করা হচ্ছে। এই উদ্যোগ বাস্তবায়নে দেশটির রপ্তানি অর্থায়ন সংস্থাও সহায়তা দিচ্ছে।
মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতকে এই পদক্ষেপের প্রধান কারণ হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, চলমান পরিস্থিতিতে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহে বড় ধরনের ধাক্কা লেগেছে। ফলে জ্বালানির বিকল্প উৎস নিশ্চিত করা এখন জরুরি হয়ে পড়েছে। তিনি বলেন, অতিরিক্ত এই জ্বালানি দেশের প্রয়োজনীয় খাতে সরবরাহ করা হবে, বিশেষ করে কৃষি খাতকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।

অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি আলবানিজ ব্রুনাই সফর করে সুলতান হাজি হাসানাল বলকিয়াহ-এর সঙ্গে বৈঠক করেছেন।ছবিঃ এএপি
এই ডিজেল আমদানির দায়িত্ব পালন করছে অস্ট্রেলিয়ার জ্বালানি কোম্পানি ভিভা এনার্জি। সম্প্রতি ভিক্টোরিয়া অঙ্গরাজ্যের জিলং এলাকায় প্রতিষ্ঠানটির একটি তেল শোধনাগারে আগুন লাগার ঘটনা ঘটেছিল। যদিও এতে কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি, তবে জ্বালানি সরবরাহে কিছুটা প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, ক্ষতিগ্রস্ত স্থাপনাগুলো দ্রুত সচল করতে সরকার কোম্পানিটির সঙ্গে কাজ করছে।
মালয়েশিয়ার রাজধানী কুয়ালালামপুরে দেশটির প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম-এর সঙ্গে যৌথ সংবাদ সম্মেলনে আলবানিজ জানান, জ্বালানি সরবরাহ অব্যাহত রাখতে দুই দেশ ‘নো সারপ্রাইজেস’ ভিত্তিতে কাজ করার বিষয়ে একমত হয়েছে। অর্থাৎ জ্বালানি বাণিজ্যে হঠাৎ কোনো পরিবর্তন বা বাধা সৃষ্টি না করে স্বচ্ছ ও স্থিতিশীল সরবরাহ নিশ্চিত করা হবে।
গত এক সপ্তাহের মধ্যে এশিয়ার দেশগুলোর সঙ্গে এটি ছিল অস্ট্রেলিয়ার তৃতীয় জ্বালানি চুক্তি। এর আগে ব্রুনেই ও সিঙ্গাপুরের সঙ্গেও একই ধরনের সমঝোতা করেছে দেশটি। এই ধারাবাহিক কূটনৈতিক উদ্যোগের মাধ্যমে অস্ট্রেলিয়া তার জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।
প্রধানমন্ত্রী আলবানিজ বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থায় নজিরবিহীন চাপ সৃষ্টি করেছে। এই পরিস্থিতিতে নাগরিকদের ওপর প্রভাব কমাতে সরকার সক্রিয়ভাবে কাজ করছে। তিনি আরও বলেন, খাদ্য ও জ্বালানির মতো অত্যাবশ্যক পণ্যের সরবরাহ যাতে ব্যাহত না হয়, সে জন্য আঞ্চলিক অংশীদারদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে সমন্বয় করা হচ্ছে।
মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম বলেন, গত বছরের তুলনায় বৈশ্বিক পরিস্থিতি এখন অনেকটাই বদলে গেছে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালির দীর্ঘ সময় ধরে বন্ধ থাকা, জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা এবং সরবরাহ শৃঙ্খলে বিঘ্ন বিশ্ব অর্থনীতিতে বড় ধরনের প্রভাব ফেলছে। তিনি আশ্বাস দিয়ে বলেন, মালয়েশিয়া সবসময় অস্ট্রেলিয়ার নির্ভরযোগ্য অংশীদার হিসেবে থাকবে।
বর্তমানে অস্ট্রেলিয়ার জ্বালানি আমদানিতে মালয়েশিয়ার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। দেশটি অস্ট্রেলিয়ার মোট ডিজেলের প্রায় ১৪ শতাংশ, পেট্রলের ১০ শতাংশ এবং জেট ফুয়েলের ১১ শতাংশ সরবরাহ করে থাকে।
অস্ট্রেলিয়া এই অঞ্চলের জন্যও একটি গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্য অংশীদার। দেশটি মালয়েশিয়াকে বিপুল পরিমাণ তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস এবং কৃষিপণ্য সরবরাহ করে। প্রধানমন্ত্রী আলবানিজ বলেন, অস্ট্রেলিয়ার সম্পদ এই অঞ্চলের জ্বালানি চাহিদা পূরণে সহায়তা করছে এবং কৃষিপণ্য সরবরাহের মাধ্যমে খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করছে।
মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের কারণে তৈরি হওয়া বৈশ্বিক জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় কূটনৈতিক তৎপরতা ও বিকল্প সরবরাহ নিশ্চিত করার মাধ্যমে অস্ট্রেলিয়া তার জ্বালানি নিরাপত্তা জোরদার করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।
সূত্রঃ এবিসি নিউজ
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au