মমতার গলার কাঁটা হয়ে ভোটের সাত দিন আগে দল ছাড়লেন বিদায়ী বিধায়ক
মেলবোর্ন, ১৭ এপ্রিল- সিপিআইএমের বিরুদ্ধে জিতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যে বার প্রথম মুখ্যমন্ত্রী হন- সেইবারও আব্দুর রাজ্জাক মন্ডলকে হারাতে পারেনি তার দল তৃণমূল কংগ্রেস। ২০১১ সালে…
মেলবোর্ন, ১৬ এপ্রিল- ভারতের পশ্চিমবঙ্গে ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়া লক্ষ লক্ষ মানুষের জন্য নতুন করে ভোটাধিকার ফিরে পাওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে দেশটির সর্বোচ্চ আদালতের এক গুরুত্বপূর্ণ রায়ে। বুধবার (১৬ এপ্রিল) দেওয়া এ রায়ে বলা হয়েছে, ভোটগ্রহণের ঠিক আগ মুহূর্তেও নির্দিষ্ট শর্তে ভোটাধিকার ফিরে পেতে পারেন বাদ পড়া ভোটাররা।
এর আগে নির্বাচন সংক্রান্ত প্রচলিত আইনের আওতায় ভোটার তালিকা ‘ফ্রিজ’ বা চূড়ান্ত করে দেওয়া হয়েছিল। এর ফলে বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) প্রক্রিয়ায় যেসব ভোটারের নাম প্রথমে ‘বিবেচনাধীন’ হিসেবে চিহ্নিত হয়ে পরে তালিকা থেকে বাদ পড়ে যায়, তারা চলতি বছরের নির্বাচনে ভোট দিতে পারবেন না বলে ধারণা করা হচ্ছিল।
তালিকা থেকে বাদ পড়া এসব ভোটারদের জন্য একমাত্র সুযোগ ছিল বিশেষ ট্রাইব্যুনালে আবেদন করা। তবে ট্রাইব্যুনালে আবেদন করলেও ভোটগ্রহণের আগে তা নিষ্পত্তি না হলে ভোটাধিকার প্রয়োগের সুযোগ থাকত না।
এই প্রেক্ষাপটে বুধবারের রায়ে ভারতের সুপ্রিম কোর্ট গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা দিয়েছে। আদালত বলেছে, ভোটগ্রহণের মাত্র দুই দিন আগেও যদি কোনো ভোটারের আবেদন ট্রাইব্যুনালে অনুমোদন পায়, তবে তিনি ভোট দিতে পারবেন। অর্থাৎ, আগে যেখানে নির্দিষ্ট সময়সীমা পেরিয়ে গেলে আর ভোটাধিকার ফিরে পাওয়ার সুযোগ থাকত না, সেখানে এখন শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত একটি সুযোগ উন্মুক্ত রাখা হয়েছে।
গত ১৩ এপ্রিল এই সংক্রান্ত মামলার শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। সেই শুনানির ভিত্তিতেই ১৬ এপ্রিল চূড়ান্ত রায় ঘোষণা করে আদালত। রায়ের পরপরই পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন আলোচনা শুরু হয়েছে।
এই নির্দেশনার পর পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জী তালিকা থেকে বাদ পড়া ভোটারদের দ্রুত ট্রাইব্যুনালে আবেদন করার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, যাদের নাম বাদ গেছে তারা যেন দেরি না করে আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে তাদের অধিকার ফিরে পাওয়ার চেষ্টা করেন।
তবে বাস্তবায়ন নিয়ে ইতোমধ্যেই সংশয় দেখা দিয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, লক্ষ লক্ষ আবেদন অল্প সময়ের মধ্যে নিষ্পত্তি করা ট্রাইব্যুনালের পক্ষে বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ হতে পারে। এত বিপুল সংখ্যক মামলার দ্রুত নিষ্পত্তি সম্ভব হবে কি না, কিংবা কতজন ভোটার শেষ পর্যন্ত এই সুযোগের আওতায় ভোট দিতে পারবেন, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা থেকেই যাচ্ছে।
সব মিলিয়ে, সুপ্রিম কোর্টের এই রায় ভোটাধিকার পুনরুদ্ধারের একটি গুরুত্বপূর্ণ পথ খুলে দিলেও, বাস্তব পরিস্থিতিতে এর কার্যকারিতা কতটা হবে, তা এখন নির্ভর করছে প্রশাসনিক সক্ষমতা ও সময় ব্যবস্থাপনার ওপর।
সূত্রঃ বিবিসি
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au