ইরানকে চুক্তিতে বাধ্য করতে যেভাবে চাপ দিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র
মেলবোর্ন, ১৭ এপ্রিল- মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যে ইরানকে চুক্তিতে রাজি করাতে যুক্তরাষ্ট্রের চাপ আরও বাড়ছে। দেশটি স্পষ্ট করে জানিয়েছে, প্রয়োজন হলে তারা সামরিক পদক্ষেপ নিতেও…
মেলবোর্ন, ১৭ এপ্রিল- সিপিআইএমের বিরুদ্ধে জিতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যে বার প্রথম মুখ্যমন্ত্রী হন- সেইবারও আব্দুর রাজ্জাক মন্ডলকে হারাতে পারেনি তার দল তৃণমূল কংগ্রেস। ২০১১ সালে মুর্শিদাবাদের জলঙ্গি বিধানসভা কেন্দ্রে বিপুল ভোটে জয়লাভ করেন তিনি। ২০১৬ সালে পরের বিধানসভা নির্বাচনেও তাকে হারানো সম্ভব হয়নি। তাই কৌশল পাল্টে ২০১৯ সালে বিধায়ক থাকা অবস্থাতেই সিপিআইএম থেকে তৃণমূলে নিয়ে আসা হয় রাজ্জাককে।
পুরস্কার হিসেবে একই আসন থেকে ২০২১ সালের নির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেসের টিকিট পেয়ে আবারও জয়লাভ করেন তিনি। কিন্তু এবার আর টিকিট পাননি আব্দর রাজ্জাক মন্ডল। তাই দলের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে ভোটের মাত্র সাতদিন আগে পদত্যাগ করেছেন তৃণমূল কাংগ্রেস থেকে।
শুধু পদত্যাগই করেই ক্ষান্ত হননি, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে জানিয়ে দিয়েছেন- এই বিধানসভা নির্বাচনে সংখ্যালঘু মুসলিম অধ্যুষিত ডোমকল মহকুমার ৩টি আসনেই হারবে তৃণমূলের প্রার্থীরা।
২০২৬ সালের নির্বাচনে জলঙ্গি বিধানসভা কেন্দ্রে আব্দুর রাজ্জাক মণ্ডলের পরিবর্তে বাবর আলিকে প্রার্থী করেছে তৃণমূল কংগ্রেস।
তার অভিযোগ, নির্বাচনী পরামর্শদাতা সংস্থা আইপ্যাককে টাকা না দেওয়ায় তাকে এবার তৃণমূল থেকে টিকিট দেওয়া হয়নি। এছাড়াও তার প্রার্থী হতে না পারার জন্য পাশের বিধানসভা কেন্দ্র রানিনগরের প্রার্থী সৌমিক হোসেনকেও দায়ী করেন তিনি।
বুধবার রাতে জলঙ্গির কাঁটাবাড়িতে নিজের বিধায়ক কার্যালয়ে সাংবাদিক সম্মেলন করে তৃণমূলের সঙ্গে সমস্ত সম্পর্ক ছিন্ন করার কথা ঘোষণা করেন টানা তিনবারের বিধায়ক আব্দুর রাজ্জাক মন্ডল।
তিনি বলেন, ‘ডোমকল মহকুমার তিনটি আসনেই তৃণমূল প্রার্থীরা পরাজিত হবে। আর এই পরাজয়ের দায় ভবিষ্যতে আমার ওপর চাপানো হতে পারে। এ কারণেই দলের সঙ্গে সমস্ত সম্পর্ক ছিন্ন করছি।’
তবে তৃণমূল ছাড়লেও তিনি রাজনীতি থেকে সরে দাঁড়াচ্ছেন না। ভবিষ্যতে অন্য কোনও দলে যোগ দিতে পারেন বলেও ইঙ্গিত দিয়ে বলেন, ‘আমি সাধারণ ভোটার হিসেবেই ভোট দেব। তৃণমূল বা অন্য কোনও দল, যাকে ইচ্ছা ভোট দিতে পারি।’
রাজ্যে তৃণমূলের সামগ্রিক নির্বাচনী ফলাফল নিয়ে সংশয় প্রকাশ করে রাজ্জাক মন্ডল বলেন, ‘আইপ্যাক বিভিন্নভাবে আমার কাছ থেকে টাকা নেওয়ার চেষ্টা করেছিল। শুধু আমার কাছ থেকে নয়, অধিকাংশ বিধানসভা আসনেই টাকার বিনিময়ে প্রার্থী দেওয়া হয়েছে। যার ফল হবে নির্বাচনে তৃণমূলের পরাজয়।’

মমতা ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। ছবি: সংগৃহীত
তিনি আরও বলেন, ‘জলঙ্গিতে আমিই তৃণমূলকে প্রতিষ্ঠা করেছি। অথচ আমাকেই বদনাম করা হল। এমনকি তাকে কোনও নির্বাচনী কমিটিতেও স্থান দেওয়া হয়নি।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এমনিতেই মুর্শিদাবাদে তৃণমূলের সাবেক বিধায়ক হুমায়ূন কবির বাবরি মসজিদ নির্মাণের ঘোষণা দিয়ে নতুন দল তৈরি করেছেন। এরই মধ্যে দলটি দুই’শর বেশি আসনে প্রার্থী দিয়ে নির্বাচনের মাঠে তৃণমূলকে চাপে রেখেছেন তিনি। তার মধ্যে আবার আব্দুর রাজ্জাক মন্ডলের পদত্যাগ মমতার গলার কাঁটা হয়ে ফুটলো।
তারা নিশ্চিত করে বলছেন, মুর্শিদাবাদে তৃণমূল কংগ্রেসের ফলাফল আগের নির্বাচনগুলো থেকে এবার খারাপ হবে। এতে অবশ্যই লাভবান হবে বিজেপি।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au