বিশ্ব

ইরানকে চুক্তিতে বাধ্য করতে যেভাবে চাপ দিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র

  • 1:57 am - April 17, 2026
  • পঠিত হয়েছে:১১৮ বার
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের শান্তিচুক্তি নিয়ে আলোচনার অগ্রগতি নেই। ছবিঃ সংগৃহীত

মেলবোর্ন, ১৭ এপ্রিল- মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যে ইরানকে চুক্তিতে রাজি করাতে যুক্তরাষ্ট্রের চাপ আরও বাড়ছে। দেশটি স্পষ্ট করে জানিয়েছে, প্রয়োজন হলে তারা সামরিক পদক্ষেপ নিতেও প্রস্তুত। একই সঙ্গে ইরানের ওপর অর্থনৈতিক ও সামরিক অবরোধ জোরদার করে পরিস্থিতিকে নিজেদের পক্ষে আনতে চেষ্টা করছে ওয়াশিংটন।

ওয়াশিংটনে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ বলেন, ইরানের বিরুদ্ধে অবরোধ যতদিন প্রয়োজন ততদিন চালিয়ে যাওয়া হবে। তিনি জানান, বর্তমানে মার্কিন নৌবাহিনী হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল কার্যত নিয়ন্ত্রণ করছে। তার দাবি, ইরানের কার্যকর নৌ সক্ষমতা না থাকায় এই নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা সম্ভব হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, ইরান যদি যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাবিত কোনো চুক্তিতে সম্মত না হয়, তবে মার্কিন বাহিনী যুদ্ধ শুরু করতে প্রস্তুত রয়েছে। একই সঙ্গে তিনি উল্লেখ করেন, যুদ্ধবিরতির সময় চীন ইরানে অস্ত্র সরবরাহ করবে না বলে যুক্তরাষ্ট্রকে আশ্বস্ত করেছে।

হরমুজ প্রণালি প্রসঙ্গে হেগসেথ বলেন, এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথ উন্মুক্ত রাখতে যুক্তরাষ্ট্র অন্যান্য দেশের সহযোগিতাও স্বাগত জানাবে। কারণ, এই প্রণালি বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

এদিকে লেবাননেও পরিস্থিতি গুরুত্বপূর্ণ মোড় নিচ্ছে। দেশটিতে খুব শিগগিরই যুদ্ধবিরতি কার্যকর হতে পারে বলে জানা গেছে। ইসরায়েলি বাহিনী ইতোমধ্যে সে অনুযায়ী প্রস্তুতি শুরু করেছে। গত ২ মার্চ থেকে লেবাননে সামরিক অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে ইসরায়েল। যদিও ৮ এপ্রিল থেকে ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল হামলা বন্ধ রেখেছে, কিন্তু লেবাননে সংঘাত অব্যাহত রয়েছে।

যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়ানোর বিষয়ে আলোচনা চালাচ্ছে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র , ছবিঃ সংগৃহীত

মার্কিন শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তা জেনারেল ড্যান কেইন জানিয়েছেন, ইরানকে সহায়তা করছে এমন কোনো জাহাজকেই ছাড় দেওয়া হবে না। তিনি বলেন, ইরানি তেলবাহী জাহাজসহ যেসব জাহাজ অবরোধ অমান্য করবে, সেগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করা হবে।

তিনি আরও জানান, ইরানের বন্দরে যাওয়া বা সেখান থেকে আসা সব ধরনের জাহাজ এই অবরোধের আওতায় রয়েছে। অবরোধ না মানলে প্রয়োজন হলে বলপ্রয়োগ করা হবে। ইতোমধ্যে ১৩টি জাহাজকে ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে এবং অবরোধ কার্যকর করতে ১০ হাজারের বেশি নৌসেনা, মেরিন ও বিমানসেনা মোতায়েন রয়েছে।

তবে তিনি স্পষ্ট করে বলেন, এই অবরোধ সরাসরি হরমুজ প্রণালির ওপর নয়, বরং ইরানের বন্দরকেন্দ্রিক কার্যক্রমকে লক্ষ্য করে পরিচালিত হচ্ছে।

মধ্যপ্রাচ্যের এই উত্তেজনা বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারেও বড় প্রভাব ফেলছে। আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থার প্রধান ফাতিহ বিরোল সতর্ক করে বলেছেন, ইউরোপে জেট জ্বালানির মজুত হয়তো ছয় সপ্তাহ বা তার কিছু বেশি সময়ের জন্যই যথেষ্ট। সরবরাহ পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হলে খুব শিগগিরই ফ্লাইট বাতিলের মতো পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে।

ইরানের কেশম দ্বীপের কাছে হরমুজ প্রণালি দিয়ে মাছ ধরার নৌকা ও পণ্যবাহী কনটেইনার জাহাজ চলাচল করছে,
ছবিঃ সংগৃহীত

তিনি বলেন, হরমুজ প্রণালি কার্যত বন্ধ হয়ে যাওয়ার কারণে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহে বড় ধরনের সংকট তৈরি হয়েছে, যা বিশ্ব অর্থনীতিতেও চাপ সৃষ্টি করছে।

এদিকে ইসরায়েল ও লেবাননের মধ্যে সম্ভাব্য যোগাযোগ নিয়েও আলোচনা চলছে। ইসরায়েলের এক মন্ত্রী জানিয়েছেন, দেশটির প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু লেবাননের প্রেসিডেন্ট জোসেফ আউনের সঙ্গে ফোনে কথা বলতে পারেন। দীর্ঘদিনের বিচ্ছিন্নতার পর এমন যোগাযোগ হলে তা পরিস্থিতি উন্নয়নের পথে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

তবে লেবাননের কিছু কর্মকর্তা এই ধরনের কোনো যোগাযোগের বিষয়ে অবগত নন বলে জানিয়েছেন, যা বিষয়টিকে আরও অনিশ্চিত করে তুলেছে।

অন্যদিকে সামরিক পরিস্থিতির মধ্যেই পারস্য উপসাগরে একটি গুরুত্বপূর্ণ নজরদারি ড্রোন হারিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। এমকিউ-৪সি ট্রাইটন মডেলের এই ড্রোনটি গত ৯ এপ্রিল উড্ডয়নের পর নিখোঁজ হয় এবং পরে সেটি বিধ্বস্ত হয়েছে বলে নিশ্চিত করা হয়।

ফ্লাইট তথ্য অনুযায়ী, ড্রোনটি ইতালির একটি নৌঘাঁটি থেকে উড্ডয়ন করে হরমুজ প্রণালির ওপর দিয়ে উড়ছিল। এক পর্যায়ে এটি হঠাৎ দ্রুত নিচে নামতে থাকে এবং গ্রাউন্ড কন্ট্রোলের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। পরে জরুরি সংকেত পাঠানোর পর সম্পূর্ণভাবে রাডার থেকে হারিয়ে যায়।

মার্কিন নৌবাহিনী ড্রোনটি বিধ্বস্ত হওয়ার বিষয়টি স্বীকার করলেও এর কারণ এখনো প্রকাশ করেনি। এই ড্রোনটি বিশ্বের অন্যতম উন্নত নজরদারি প্রযুক্তিসম্পন্ন এবং অত্যন্ত ব্যয়বহুল সামরিক সম্পদ হিসেবে বিবেচিত হয়।

সব মিলিয়ে মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি এখনো অত্যন্ত উত্তেজনাপূর্ণ। একদিকে সম্ভাব্য যুদ্ধবিরতির আলোচনা, অন্যদিকে সামরিক প্রস্তুতি ও অবরোধ জোরদার—এই দ্বৈত অবস্থার মধ্যে অঞ্চলটি অনিশ্চয়তার মধ্যেই রয়েছে। পরিস্থিতি কোন দিকে যাবে, তা নির্ভর করছে কূটনৈতিক আলোচনার অগ্রগতি ও সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর সিদ্ধান্তের ওপর।

সূত্রঃ আল জাজিরা

এই শাখার আরও খবর

ইউরোপের মাটিতে ইতিহাস গড়ে সান মারিনোকে হারালো বাংলাদেশ

মেলবোর্ন, ৬ জুন- ইউরোপের মাটিতে ইতিহাস গড়েছে বাংলাদেশ জাতীয় ফুটবল দল। স্বাগতিক সান মারিনোকে ২-১ গোলে হারিয়ে প্রথমবারের মতো ইউরোপের কোনো দলের বিপক্ষে জয় পেয়েছে…

আইভীর মুক্তি: আওয়ামী লীগের পুনর্গঠনের ইঙ্গিত নাকি নতুন সমীকরণ?

মেলবোর্ন, ৬ জুন- বিএনপি সরকার সেলিনা হায়াৎ আইভীকে কেন জামিন দিলো? হ্যাঁ, বাংলাদেশে আদালত জামিন দেয় না, জামিন দেয় যারা সরকারে থাকে। তো, আইভীকে কেন…

ঈদুল গাদিরে দুই হাজারের বেশি বন্দিকে সাধারণ ক্ষমা দিলেন মোজতবা খামেনি

মেলবোর্ন,০৬জুন-ইরানের গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় উৎসব ঈদুল গাদির উপলক্ষে দুই হাজারের বেশি দণ্ডপ্রাপ্ত বন্দির সাজা মওকুফ করেছেন দেশটির সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ সাইয়্যেদ মোজতবা খামেনি। শুক্রবার ইরানের বিচার…

তৃতীয় লিঙ্গের শিক্ষার্থীদের জন্য বাউবির দরজা সবসময় খোলা: উপাচার্য

মেলবোর্ন,০৬জুন-তৃতীয় লিঙ্গের শিক্ষার্থীদের শিক্ষার মূলধারায় সম্পৃক্ত করতে বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় (বাউবি) প্রতিশ্রুতিবদ্ধ বলে জানিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ছিদ্দিকুর রহমান খান। তিনি বলেছেন, শিক্ষা…

অস্ট্রেলিয়া সিরিজে জাতীয় দলে ফিরছেন সালাউদ্দিন, কোচিং স্টাফে বড় পরিবর্তন

মেলবোর্ন,০৬জুন-আসন্ন অস্ট্রেলিয়া সিরিজকে সামনে রেখে বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলের কোচিং স্টাফে বেশ কিছু পরিবর্তন আনা হয়েছে। কোচিং স্টাফে জনবল সংকট দেখা দেওয়ায় আবারও জাতীয় দলের…

বউকে বাঁচাতে গিয়ে শাশুড়ির মৃত্যু, কটিয়াদীতে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে প্রাণ গেল দুজনের

মেলবোর্ন,০৬জুন-কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী উপজেলায় মর্মান্তিক বিদ্যুৎস্পৃষ্টের ঘটনায় এক গৃহবধূ ও তার শাশুড়ির মৃত্যু হয়েছে। শুক্রবার দুপুরে উপজেলার আচমিতা ইউনিয়নের উখরাশাল গ্রামে এ দুর্ঘটনা ঘটে। পরিবারের এক…

স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au