কঙ্গোতে যুক্তরাষ্ট্রের বিতাড়িত অভিবাসীদের দুর্বিষহ জীবন, বাড়ছে সংকট
মেলবোর্ন, ২৩ এপ্রিল- যুক্তরাষ্ট্র থেকে বিভিন্ন দেশে বিতাড়িত লাতিন আমেরিকার একটি অভিবাসী দল এখন আফ্রিকার দেশ গণতান্ত্রিক কঙ্গো প্রজাতন্ত্রে (ডিআর কঙ্গো) আটকে পড়েছেন। উন্নত জীবনের…
মেলবোর্ন, ১৭ এপ্রিল- লেবানন ও ইসরায়েলের মধ্যে দীর্ঘদিনের সংঘাতের পর অবশেষে ১০ দিনের যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়েছে। মধ্যরাতে শুরু হওয়া এই বিরতির সঙ্গে সঙ্গেই বৈরুতসহ বিভিন্ন এলাকায় স্বস্তি ও অনিশ্চয়তার মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা যায়। তবে যুদ্ধবিরতি কার্যকরের আগ মুহূর্ত পর্যন্ত দুই পক্ষের মধ্যে তীব্র হামলা-পাল্টা হামলা চলতে থাকে,
স্থানীয় সময় মধ্যরাতে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর রাজধানী বৈরুতের দক্ষিণাঞ্চল থেকে বিজয়সূচক গুলির শব্দ শোনা যায়।
আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমগুলোর তথ্য অনুযায়ী, যুদ্ধবিরতি কার্যকরের প্রায় ১০ মিনিট আগে হিজবুল্লাহ ইসরায়েলি সেনাদের লক্ষ্য করে শেষ হামলার দাবি করে। স্থানীয় সময় রাত ১১টা ৫০ মিনিটে (জিএমটি ২০:৫০) এই হামলা চালানো হয় বলে জানানো হয়। এর বিপরীতে ইসরায়েলি বাহিনী যুদ্ধবিরতি কার্যকরের মাত্র এক থেকে দুই মিনিট আগ পর্যন্তও বিমান হামলা অব্যাহত রাখে।
যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর থেকে হিজবুল্লাহর পক্ষ থেকে নতুন কোনো হামলার খবর পাওয়া যায়নি। তবে লেবাননের সেনাবাহিনী অভিযোগ করেছে, যুদ্ধবিরতির শর্ত থাকা সত্ত্বেও ইসরায়েল একাধিকবার তা লঙ্ঘন করেছে। স্থানীয় বিভিন্ন সূত্রে কয়েকটি গ্রামে আর্টিলারি গোলাবর্ষণের ঘটনাও রিপোর্ট করা হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, এই পরিস্থিতি যুদ্ধবিরতির সরাসরি লঙ্ঘন হিসেবে গণ্য হবে কি না, তা এখনো স্পষ্ট নয়। কারণ যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ব্যাখ্যায় বলা হয়েছে, চুক্তির আওতায় হিজবুল্লাহকে লক্ষ্য করে প্রয়োজন অনুযায়ী হামলা চালানোর সুযোগ রাখা হয়েছে। তবে লেবাননের সেনাবাহিনী ও স্থানীয় কর্তৃপক্ষ এই ব্যাখ্যাকে ভিন্নভাবে দেখছে।
এই পরিস্থিতিতে লেবাননে একদিকে স্বস্তি থাকলেও অন্যদিকে গভীর অনিশ্চয়তা ও উদ্বেগ কাজ করছে। যুদ্ধবিরতি কার্যকরের প্রায় ছয় ঘণ্টা পরও এটি মূলত বহাল রয়েছে বলে জানা গেছে। বৈরুত থেকে দক্ষিণ লে

লেবাননের বৈরুতে বাস্তুচ্যুতদের একটি অস্থায়ী শিবিরে একটি পরিবার তাদের তাঁবুর বাইরে আগুনের পাশে বসে আছে। ছবিঃ রয়টার্স
বানন পর্যন্ত প্রধান মহাসড়কে যানবাহনের চাপ দেখা যায়, বহু মানুষ যুদ্ধবিরতির খবর পাওয়ার পর নিজ নিজ বাড়ির দিকে রওনা দেয়।
তবে কর্তৃপক্ষ জনগণকে সতর্ক থাকার নির্দেশ দিয়েছে। পরিস্থিতি পুরোপুরি স্থিতিশীল না হওয়া পর্যন্ত বাড়ি ফেরায় বিলম্ব করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। নিরাপত্তা ঝুঁকির কারণে অনেকেই এখনো নিজ এলাকায় ফিরছেন না।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, এই যুদ্ধবিরতি মধ্যপ্রাচ্যের জন্য একটি “ঐতিহাসিক মুহূর্ত”। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশালে তিনি লেখেন, “লেবাননের জন্য এটি ঐতিহাসিক দিন হতে পারে। ভালো কিছু ঘটছে।”
তিনি আরও দাবি করেন, ইরানের সঙ্গে একটি চুক্তি প্রায় চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। এর আগে ওয়াশিংটনে তিনি বলেন, ইরান ইস্যুতে অগ্রগতি হচ্ছে এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আছে।
অন্যদিকে রাজনৈতিক বিশ্লেষক আবেদ আবু শাদেহ আল জাজিরাকে দেওয়া মন্তব্যে বলেন, ইসরায়েলের উত্তরাঞ্চলের মানুষ সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে হিজবুল্লাহর হামলায়। যুদ্ধবিরতির খবরে তারা হতাশা প্রকাশ করেছে, কারণ তাদের প্রত্যাশা ছিল “সম্পূর্ণ বিজয়”। কিন্তু বাস্তবে সেই লক্ষ্য অর্জিত হয়নি।
তিনি আরও বলেন, ইসরায়েলি সরকারের পক্ষ থেকে জনগণকে সব তথ্য জানানো হয়নি, ফলে অনেকের মধ্যে আস্থাহীনতা তৈরি হয়েছে। যুদ্ধবিরতি ও আঞ্চলিক কূটনৈতিক প্রক্রিয়া নিয়ে জনমনে নানা প্রশ্ন রয়েছে।

ইরান যুদ্ধের কারণে এখনও অচলবস্থা হরমুজ প্রাণালিতে, ছবিঃ সংগৃহীত
এদিকে আন্তর্জাতিক কূটনীতিতেও নতুন আলোচনা তৈরি হয়েছে।
অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি আলবানিজ জানিয়েছেন, হরমুজ প্রণালীতে নিরাপত্তা সহায়তা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে নতুন কোনো অনুরোধ আসেনি। তিনি জানান, আগের অনুরোধের ভিত্তিতে অস্ট্রেলিয়া ইতোমধ্যে সংযুক্ত আরব আমিরাতে নজরদারি বিমান ও প্রতিরক্ষামূলক সহায়তা পাঠিয়েছে।
এর আগে ডোনাল্ড ট্রাম্প অস্ট্রেলিয়ার ভূমিকা নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেন এবং বলেন, হরমুজ ইস্যুতে তারা প্রত্যাশিত সহায়তা দেয়নি।
এছাড়া ইসরায়েলের বিরোধী নেতা ইয়াইর লাপিদ যুদ্ধবিরতি চুক্তির কড়া সমালোচনা করেছেন। তিনি বলেন, সরকারের দেওয়া প্রতিশ্রুতি বাস্তবতার সঙ্গে মিলছে না। তার মতে, উত্তরাঞ্চলের নিরাপত্তা নিশ্চিত না করে এই সংকটের সমাধান সম্ভব নয়। তিনি বর্তমান সরকারকে ব্যর্থতার দায় নিয়ে ভবিষ্যতে রাজনৈতিক পরিবর্তনের মাধ্যমে সমাধানের দাবি জানান।
সূত্রঃ আল-জাজিরা
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au