বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশনের (বিএসসি) জাহাজ ‘এমভি বাংলার জয়যাত্রা’। ছবিঃ সংগৃহীত
মেলবোর্ন, ১৮ এপ্রিল- হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার ঘোষণার পরও তৃতীয় দফায় চেষ্টা করেও পার হতে পারেনি বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশনের জাহাজ এমভি বাংলার জয়যাত্রা। শুক্রবার রাতে নতুন করে যাত্রা শুরু করলেও কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ইরানের বাহিনীর নির্দেশে জাহাজটিকে আবার পারস্য উপসাগরে ফিরে যেতে হয়েছে। চলমান আঞ্চলিক উত্তেজনা ও অনিশ্চয়তার কারণে আন্তর্জাতিক নৌপথে চলাচল এখনো পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়নি বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
জাহাজটির ক্যাপ্টেন শফিকুল ইসলাম খান জানান, হরমুজ প্রণালি উন্মুক্ত করার ঘোষণার পর শুক্রবার রাতে তারা যাত্রা শুরু করেছিলেন। তবে পথেই ইরানের পক্ষ থেকে বেতারবার্তার মাধ্যমে জানানো হয়, জাহাজটি প্রণালি অতিক্রম করতে পারবে না এবং অবিলম্বে ফিরে যেতে হবে। নির্দেশনা পাওয়ার পর জাহাজটি নিরাপত্তার স্বার্থে আবার পারস্য উপসাগরের আগের অবস্থানে ফিরে যাচ্ছে।
এর আগে বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক কমোডর মাহমুদুল মালেক জানিয়েছিলেন, বাংলাদেশ সময় রাত ১১টা ৫০ মিনিটে জাহাজটি হরমুজ প্রণালিতে প্রবেশ করে এবং পরিকল্পনা অনুযায়ী ভোররাতের মধ্যে প্রণালি অতিক্রম করার কথা ছিল। কিন্তু পরিস্থিতির দ্রুত পরিবর্তনের কারণে সেই পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয়নি।

হরমুজ প্রণালিতে ইরানের সামরিক বাহিনীর টহল। ছবিঃ সংগৃহীত(২০১৯)
জাহাজ চলাচল পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা মেরিন ট্রাফিকের তথ্যেও একই চিত্র দেখা গেছে। শুক্রবার রাতে ইরানের পক্ষ থেকে প্রণালি খুলে দেওয়ার ঘোষণা আসার পর পারস্য উপসাগরে আটকে থাকা শতাধিক জাহাজ একযোগে নোঙর তুলে হরমুজের দিকে রওনা দেয়। তবে কিছুক্ষণের মধ্যেই আবার সব জাহাজকে ফিরে যেতে দেখা যায়। এই তালিকায় এমভি বাংলার জয়যাত্রাও ছিল।
বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশনের এই জাহাজটি গত ২ ফেব্রুয়ারি থেকে পারস্য উপসাগর এলাকায় অবস্থান করছে। শুরুতে এটি ওই অঞ্চলের বিভিন্ন বন্দরের মধ্যে পণ্য পরিবহনে নিয়োজিত ছিল। পরে গত ১১ মার্চ জাহাজটি দেশে ফিরিয়ে আনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হলেও তখনও হরমুজ প্রণালি অতিক্রমের অনুমতি পাওয়া যায়নি।
পরবর্তীতে সৌদি আরবের রাস আল খাইর বন্দর থেকে প্রায় ৩৭ হাজার টন সার বোঝাই করা হয় জাহাজটিতে, যা দক্ষিণ আফ্রিকার কেপটাউন বন্দরে পৌঁছানোর কথা। কিন্তু যুদ্ধ পরিস্থিতি এবং নিরাপত্তাজনিত কারণে দ্বিতীয় দফায়ও অনুমতি মেলেনি। ফলে জাহাজটি দীর্ঘ সময় ধরে হরমুজের কাছাকাছি পারস্য উপসাগরে নোঙর করে ছিল।
সর্বশেষ যুদ্ধবিরতির প্রেক্ষাপটে পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হওয়ার আশা তৈরি হলে তৃতীয়বারের মতো প্রণালি অতিক্রমের চেষ্টা করা হয়। কিন্তু এবারও শেষ মুহূর্তে বাধার মুখে পড়ে জাহাজটি। ফলে আন্তর্জাতিক এই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথে স্বাভাবিক নৌচলাচল পুনরুদ্ধার এখনো অনিশ্চিত রয়ে গেছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।