ইরানি জাহাজ আটকের আগে ছয় ঘণ্টা ধরে সতর্ক করা হয়েছে: যুক্তরাষ্ট্র , ছবিঃ সংগৃহীত
মেলবোর্ন, ২০ এপ্রিল- যুক্তরাষ্ট্র-ইরান উত্তেজনার নতুন অধ্যায়ে ছয় ঘণ্টার অচলাবস্থার পর ইরানের একটি কন্টেইনার জাহাজে অভিযান চালিয়েছে মার্কিন সামরিক বাহিনী। অভিযানের ভিডিও ফুটেজ প্রকাশের পর পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে বলে সতর্ক করেছেন বিশ্লেষকরা।
যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, ‘তুসকা’ নামের ইরানি পতাকাবাহী একটি বড় কার্গো জাহাজ দেশটির আরোপিত নৌ অবরোধ অতিক্রম করার চেষ্টা করলে সেটিকে ওমান উপসাগরে আটকানো হয়। প্রায় ৯০০ ফুট দীর্ঘ এই জাহাজটিকে থামাতে মার্কিন নৌবাহিনীর গাইডেড মিসাইল ডেস্ট্রয়ার ইউএসএস স্প্রুয়েন্স অভিযান চালায়।
ট্রাম্প সামাজিক মাধ্যমে দাবি করেন, সতর্কবার্তা উপেক্ষা করায় জাহাজটির ইঞ্জিনরুম লক্ষ্য করে গুলি চালানো হয়, ফলে এটি অচল হয়ে পড়ে। পরে মার্কিন মেরিনরা জাহাজটির নিয়ন্ত্রণ নেয়। তিনি আরও বলেন, পূর্বের অবৈধ কার্যকলাপের কারণে ‘তুসকা’ জাহাজটি আগেই মার্কিন ট্রেজারি বিভাগের নিষেধাজ্ঞার আওতায় ছিল এবং বর্তমানে জাহাজটির ভেতরে কী রয়েছে তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
অভিযানের এই ঘটনার পরই যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরে ভিন্নমতও সামনে এসেছে। ট্রাম্প প্রশাসনের সাবেক সন্ত্রাসবাদবিরোধী প্রধান জো কেন্ট সতর্ক করে বলেছেন, এই সংঘাতে যুক্তরাষ্ট্রের জন্য ইতিবাচক ফল অর্জন কঠিন। তিনি দ্রুত যুদ্ধ থেকে সরে আসার পরামর্শ দিয়ে বলেন, “সমঝোতা বা উত্তেজনা বৃদ্ধির বাইরে আরও একটি পথ আছে—সেটি হলো এই সংঘাত থেকে বেরিয়ে আসা।”
পর্যবেক্ষকদের মতে, সাম্প্রতিক এই অভিযান শুধু দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনাই বাড়াবে না, বরং আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতিকেও আরও অনিশ্চয়তার দিকে ঠেলে দিতে পারে।