অস্ট্রেলিয়া জুড়ে অ্যানজাক (ANZAC) ডে পালিত
মেলবোর্ন, ২৫ এপ্রিল: ২৫ এপ্রিল শনিবার অস্ট্রেলিয়া জুড়ে যথাযোগ্য মর্যাদা, নীরবতা এবং গভীর শ্রদ্ধার মধ্য দিয়ে পালিত হয়েছে অ্যানজাক (ANZAC) ডে। ভোরের প্রথম প্রহর থেকেই…
মেলবোর্ন, ২৫ এপ্রিল- নড়াইলের লোহাগড়া উপজেলায় যাতায়াতের একমাত্র রাস্তায় প্রাচীর নির্মাণ করে প্রায় ২৫টি হিন্দু জেলে পরিবারকে অবরুদ্ধ করে রাখার অভিযোগের পর প্রশাসনের হস্তক্ষেপে শেষ পর্যন্ত রাস্তাটি উন্মুক্ত করা হয়েছে। দীর্ঘদিনের বিরোধের জেরে সৃষ্ট এই পরিস্থিতি স্থানীয়ভাবে চরম উত্তেজনা ও ভোগান্তির জন্ম দিলেও আলোচনার মাধ্যমে ‘শান্তিপূর্ণ’ সমাধান হয়েছে বলে জানিয়েছে প্রশাসন।
জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার লক্ষ্মীপাশা গ্রামের মালোপাড়ায় সীমানা প্রাচীর নির্মাণকে কেন্দ্র করে এ বিরোধ তৈরি হয়। গত ১৬ এপ্রিল পাশের জমির মালিক ব্যারিস্টার দেদার-ই-এলাহী ও তাঁর সহযোগীরা সংশ্লিষ্ট জমিতে প্রাচীর নির্মাণ শুরু করলে গ্রামের ভেতরের বসতবাড়ির সঙ্গে জেলে পাড়ার প্রায় ২৫টি পরিবারের যোগাযোগ সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। এতে পরিবারগুলো কার্যত অবরুদ্ধ অবস্থায় পড়ে যায়।
এ ঘটনার পর ১৮ এপ্রিল বিষয়টি সংবাদমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে প্রশাসন দ্রুত সক্রিয় হয়। জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে মঙ্গলবার বিকাল ৪টা থেকে রাত সাড়ে ৯টা পর্যন্ত দীর্ঘ সমঝোতা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট লিংকন বিশ্বাসের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এ বৈঠকে প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরের কর্মকর্তা, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, জেলে পাড়ার বাসিন্দাদের প্রতিনিধি এবং জমির মালিক পক্ষের লোকজন অংশ নেন।
বৈঠকে আলোচনার পর উভয় পক্ষ যাতায়াতের রাস্তা খুলে দেওয়ার বিষয়ে একমত হন। পরদিন বুধবার সকাল থেকেই প্রাচীর অপসারণের কাজ শুরু হয় এবং রাস্তাটি পুনরায় চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়। অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট বলেন, এর মাধ্যমে দীর্ঘদিনের ভোগান্তির অবসান হবে এবং এলাকায় সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় থাকবে বলে তারা আশা করছেন। রাস্তা ফিরে পেয়ে মালোপাড়ার বাসিন্দারা স্বস্তি প্রকাশ করেছেন।
স্থানীয় বাসিন্দা সুশান্ত বিশ্বাস বলেন, চলাচলের একমাত্র পথ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় তারা কয়েকদিন ধরে চরম দুর্ভোগে ছিলেন। প্রশাসনের হস্তক্ষেপে সমস্যার সমাধান হওয়ায় তারা সন্তুষ্ট ও কৃতজ্ঞ। আরেক বাসিন্দা ধ্রুব বিশ্বাস জানান, পথ বন্ধ থাকায় তিনি ভ্যান নিয়ে কাজে বের হতে পারেননি এবং পুরো পাড়ার মানুষ কার্যত ঘরবন্দি হয়ে পড়েছিলেন। তাদের আয়-রোজগার বন্ধ হয়ে যায়।
স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, এই পথটি বহু বছর ধরে তাদের একমাত্র যাতায়াতের রাস্তা হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। জেলে পরিবারগুলোর দাবি, লক্ষ্মীপাশা মৌজার নির্দিষ্ট দাগের এই জমি ব্রিটিশ আমল থেকে চলাচলের রাস্তা হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে এবং সরকারি নথিতেও এটি রাস্তা হিসেবে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এর আগে একই বিষয় নিয়ে দুইবার বিরোধ তৈরি হলেও প্রশাসনের হস্তক্ষেপে রাস্তা উন্মুক্ত করা হয়েছিল।
অন্যদিকে জমির মালিক পক্ষের দাবি ভিন্ন। ব্যারিস্টার দেদার-ই-এলাহী বলেন, সংশ্লিষ্ট জমির একটি অংশ তাদের ক্রয়কৃত সম্পত্তির অন্তর্ভুক্ত এবং এ নিয়ে আদালতে মামলাও হয়েছে। তিনি দাবি করেন, যে জায়গায় প্রাচীর নির্মাণ করা হয়েছে তা মামলার বাইরে এবং জেলে পরিবারগুলোর জন্য বিকল্প রাস্তা রয়েছে। তাঁর অভিযোগ, কিছু ব্যক্তি উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে বিষয়টিকে ভিন্নভাবে উপস্থাপন করছেন। এছাড়া নিরাপত্তার কারণেও ওই এলাকায় প্রবেশ নিয়ন্ত্রণের প্রয়োজন ছিল বলে তিনি উল্লেখ করেন।
তবে প্রশাসন উভয় পক্ষের বক্তব্য বিবেচনা করে আপাতত চলাচলের পথ উন্মুক্ত রাখার সিদ্ধান্ত নেয়। স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ভবিষ্যতে যাতে এ ধরনের বিরোধ আর না ঘটে সে জন্য বিষয়টি স্থায়ীভাবে সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হবে।
ঘটনাটি স্থানীয়ভাবে সংবেদনশীল হয়ে উঠলেও শেষ পর্যন্ত প্রশাসনের মধ্যস্থতায় সমঝোতার মাধ্যমে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ায় এলাকায় স্বস্তি ফিরেছে। তবে দীর্ঘদিন ধরে চলা এই বিরোধের স্থায়ী সমাধান নিয়ে এখনো অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au