অস্ট্রেলিয়া জুড়ে অ্যানজাক (ANZAC) ডে পালিত
মেলবোর্ন, ২৫ এপ্রিল: ২৫ এপ্রিল শনিবার অস্ট্রেলিয়া জুড়ে যথাযোগ্য মর্যাদা, নীরবতা এবং গভীর শ্রদ্ধার মধ্য দিয়ে পালিত হয়েছে অ্যানজাক (ANZAC) ডে। ভোরের প্রথম প্রহর থেকেই…
মেলবোর্ন, ২৫ এপ্রিল- দেশে হামের প্রাদুর্ভাব বাড়তে থাকলেও তা মোকাবিলায় বিশেষজ্ঞদের গুরুত্বপূর্ণ সুপারিশ যথাযথভাবে বাস্তবায়ন করা হচ্ছে না বলে অভিযোগ উঠেছে। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মধ্যে সমন্বয়ের ঘাটতি এবং সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে ধীরগতির কারণে পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
গত ১২ এপ্রিল অনুষ্ঠিত একটি যৌথ বিশেষজ্ঞ সভা থেকে বহুপক্ষীয় একটি কারিগরি কমিটি গঠনসহ বেশ কিছু জরুরি সুপারিশ করা হলেও এখন পর্যন্ত সেগুলোর বাস্তবায়নের দৃশ্যমান অগ্রগতি নেই। সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, এই কমিটি গঠন করা হলে রোগ শনাক্তকরণ, ঝুঁকি নির্ধারণ এবং প্রমাণভিত্তিক সিদ্ধান্ত গ্রহণে কার্যকর দিকনির্দেশনা পাওয়া যেত।
২৩ এপ্রিল যোগাযোগ করলে স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন জানান, বিশেষজ্ঞদের পক্ষ থেকে কমিটি গঠনের এমন কোনো সুপারিশ তাঁর কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে পৌঁছায়নি। তাঁর এই বক্তব্য স্বাস্থ্য খাতে সমন্বয়হীনতার বিষয়টিকে আরও স্পষ্ট করে তুলেছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
হামের সংক্রমণ মার্চের দ্বিতীয় সপ্তাহ থেকে ছড়িয়ে পড়ার পর ১২ এপ্রিল প্রথমবারের মতো দুটি বিশেষজ্ঞ কমিটির যৌথ সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন দেশের টিকাবিষয়ক কারিগরি পরামর্শক কমিটি নাইট্যাগের চেয়ারম্যান বিশিষ্ট বিজ্ঞানী ফিরদৌসী কাদরী। এই কমিটি সরকারকে স্বাধীনভাবে টিকাদান ও সংক্রামক রোগ প্রতিরোধ বিষয়ে পরামর্শ দিয়ে থাকে।
ওই সভায় শিশুস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ, রোগতত্ত্ববিদ, ভাইরাস বিশেষজ্ঞ, ল্যাব বিশেষজ্ঞসহ সংশ্লিষ্টদের নিয়ে একটি বহুপক্ষীয় কমিটি গঠনের সুপারিশ করা হয়। এই কমিটির মূল দায়িত্ব হিসেবে নির্ধারণ করা হয় রোগ শনাক্তকরণে অগ্রাধিকার নির্ধারণ এবং বৈজ্ঞানিক তথ্যের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত গ্রহণে সহায়তা করা। কিন্তু এখন পর্যন্ত এই কমিটি গঠনের কোনো কার্যকর পদক্ষেপ দেখা যায়নি।
সভায় নাইট্যাগের পাশাপাশি হাম ও রুবেলা নির্মূল পরিস্থিতি মূল্যায়নকারী আরেকটি কমিটির প্রতিনিধিরাও উপস্থিত ছিলেন। সেখানে হামের বিস্তার রোধে সমন্বিত পরিকল্পনা, কার্যকর জনসচেতনতা এবং টিকাদান কার্যক্রমের মান নিশ্চিত করার ওপর জোর দেওয়া হয়। বিশেষজ্ঞরা টিকাদান কর্মসূচিকে কঠোর পর্যবেক্ষণের আওতায় রাখারও সুপারিশ করেন।
এর আগেই ৫ এপ্রিল থেকে দেশের ৩০টি উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় হামের টিকাদান শুরু হয়। ১২ এপ্রিল থেকে ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ, বরিশাল ও ময়মনসিংহ সিটি করপোরেশন এলাকায় টিকাদান কার্যক্রম চালু করা হয় এবং জাতীয় পর্যায়ে টিকা কর্মসূচির সময়সূচিও নির্ধারণ করা হয়। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নের মধ্যে সমন্বয়ের অভাব থাকায় কার্যক্রমের মান নিয়ে প্রশ্ন থেকে যাচ্ছে।
যৌথ সভায় উপস্থিত থাকা দুজন জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, স্বাস্থ্য অধিদপ্তর এবং সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচির কর্মকর্তাদের সক্রিয়তায় ঘাটতি রয়েছে। তাঁদের একজন বলেন, মন্ত্রণালয় ও মাঠপর্যায়ের কার্যক্রমের মধ্যে কার্যকর সমন্বয় না থাকায় সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে বিলম্ব হচ্ছে। অন্যজন বলেন, স্বাস্থ্যমন্ত্রীর কাছে গুরুত্বপূর্ণ সুপারিশ না পৌঁছানোই প্রমাণ করে যে পুরো ব্যবস্থাপনায় যোগাযোগের দুর্বলতা রয়েছে।
এ বিষয়ে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সচিব মো. কামরুজ্জামান চৌধুরী বলেন, সরকার বসে নেই এবং দ্রুত টিকাদান কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের সুপারিশ অনুযায়ী কমিটি গঠনের প্রক্রিয়াও চলমান রয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।
তবে বাস্তব চিত্র ভিন্ন বলেই মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। বিশেষজ্ঞ সভায় যেসব কারিগরি বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছিল, যেমন কোন রোগীকে আইসোলেশনে রাখা হবে, কীভাবে সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণ করা হবে কিংবা কক্সবাজারের রোহিঙ্গা শিবিরে শিশুদের টিকাদান জোরদার করা—এসব বিষয়ে এখনো দৃশ্যমান অগ্রগতি পাওয়া যায়নি।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। অন্যদিকে সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচির প্রধান পদেও প্রশাসনিক পরিবর্তনের কারণে কার্যক্রমে নেতৃত্ব সংকট তৈরি হয়েছে বলে জানা গেছে।
জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ আবু জামিল ফয়সাল বলেন, পুরো পরিস্থিতিতে একধরনের অবহেলা ও অনীহা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। তাঁর মতে, বিশেষজ্ঞদের সুপারিশ বাস্তবায়নে বিলম্ব এবং মন্ত্রণালয়ের ভেতরে যোগাযোগ ঘাটতি বর্তমান পরিস্থিতিকে আরও ঝুঁকিপূর্ণ করে তুলছে।
সব মিলিয়ে হামের মতো সংক্রামক রোগ মোকাবিলায় দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণ, কার্যকর সমন্বয় এবং বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ বাস্তবায়নের ওপর গুরুত্ব না দিলে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au