সরকার পতনের জন্য ফেডারেল সরকারের ২ কোটি ৯৫ লাখ ডলার কারা পেয়েছিলেন
মেলবোর্ন, ২৫ এপ্রিল- ‘ বাংলাদেশের শেখ হাসিনা সরকার পতনের উদ্দেশ্যে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থ ব্যবহার করা হয়েছে’ এমন গুরুতর অভিযোগ ঘিরে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আন্তর্জাতিক…
মেলবোর্ন, ২৫ এপ্রিল- বিশ্ব ফুটবলের সবচেয়ে বড় আসর ফিফা বিশ্বকাপ-২০২৬ ঘিরে টিকিটের অস্বাভাবিক মূল্য নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। ফাইনাল ম্যাচের একটি টিকিটের দাম বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ২৮ কোটি টাকায় পৌঁছেছে, যা সাধারণ দর্শকদের নাগালের বাইরে চলে যাওয়ার শঙ্কা তৈরি করেছে।
ফিফার অনুমোদিত পুনর্বিক্রয় প্ল্যাটফর্মে ফাইনালের চারটি টিকিট বিক্রির জন্য তালিকাভুক্ত করা হয়েছে। প্রতিটির দাম ধরা হয়েছে প্রায় ২৩ লাখ মার্কিন ডলার বা বাংলাদেশি টাকায় প্রায় ২৮ কোটি ২১ লাখ। এসব টিকিট যুক্তরাষ্ট্রের মেটলাইফ স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিতব্য ফাইনাল ম্যাচের জন্য, যা অনুষ্ঠিত হবে আগামী ১৯ জুলাই। স্টেডিয়ামের নিচতলার ১২৪ নম্বর ব্লকের ৪৫ নম্বর সারিতে গোলপোস্টের পেছনের ৩৩ থেকে ৩৬ নম্বর আসনগুলোর জন্য এই মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
ফিফা এই পুনর্বিক্রয় প্ল্যাটফর্মে টিকিটের দাম নির্ধারণ করে না। ফলে বিক্রেতারা নিজেদের ইচ্ছামতো দাম নির্ধারণ করতে পারেন। তবে প্রতিটি লেনদেনে ক্রেতা ও বিক্রেতা উভয়ের কাছ থেকে ১৫ শতাংশ করে কমিশন নেয় সংস্থাটি। সে হিসাবে, এই চারটি টিকিট নির্ধারিত দামে বিক্রি হলে কমিশন বাবদই ফিফার আয় হবে প্রায় ২৬ লাখ ৯৯ হাজার ডলার, যা বাংলাদেশি টাকায় ৩৩ কোটির বেশি।
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য টেলিগ্রাফ জানিয়েছে, ফাইনাল ঘিরে টিকিটের বাজারে অস্থিরতা ক্রমেই বাড়ছে। শুধু উচ্চমূল্যের টিকিটই নয়, তুলনামূলক কমদামি টিকিটের ক্ষেত্রেও দাম বেড়েছে কয়েক গুণ। সবচেয়ে কম দামের টিকিট কিনতেও খরচ করতে হচ্ছে প্রায় ১০ হাজার ৯২৩ ডলার, যা বাংলাদেশি টাকায় প্রায় ১৩ লাখ।
ফিফা সরাসরি বিক্রির জন্য যে টিকিট ছাড়ছে, সেখানেও দাম কম নয়। তাদের ওয়েবসাইটে ফাইনালের টিকিটের মূল্য ধরা হয়েছে প্রায় ১০ হাজার ৯৯০ ডলার বা প্রায় ১৩ লাখ ৪৮ হাজার টাকা। একইভাবে সেমিফাইনাল ম্যাচের টিকিটও বিক্রি হচ্ছে কয়েক হাজার ডলারে। টেক্সাসের আর্লিংটনে ১৪ জুলাইয়ের সেমিফাইনালের টিকিটের দাম প্রায় ১১ হাজার ১৩০ ডলার, আর আটলান্টায় ১৫ জুলাইয়ের ম্যাচের টিকিট ৯ হাজার ৬৬০ থেকে ৪ হাজার ৩৬০ ডলারের মধ্যে।

ফিফা। ছবিঃ সংগৃহীত
এই অস্বাভাবিক ব্যয় নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন ম্যানচেস্টার সিটির কোচ পেপ গুয়ার্দিওলা। তিনি বলেন, একসময় বিশ্বকাপ ছিল সাধারণ মানুষের উৎসব, যেখানে সবাই সহজে অংশ নিতে পারত। কিন্তু এখন এটি অত্যন্ত ব্যয়বহুল হয়ে উঠেছে এবং সাধারণ দর্শকদের জন্য অংশগ্রহণ কঠিন হয়ে পড়ছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ভবিষ্যতে এ বিষয়টি নতুন করে বিবেচনা করবে।
বিশ্লেষকদের মতে, টিকিটের এই অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধির পেছনে অন্যতম কারণ ‘ডায়নামিক প্রাইসিং’ পদ্ধতি, যেখানে চাহিদা অনুযায়ী মূল্য বাড়ানো হয়। এর পাশাপাশি ফিফার অনুমোদিত পুনর্বিক্রয় ব্যবস্থাও দামের ঊর্ধ্বগতিতে ভূমিকা রাখছে। অনেকেই একে বৈধতার আড়ালে টিকিটের কালোবাজারি হিসেবে দেখছেন।
শুধু টিকিট নয়, বিশ্বকাপকে ঘিরে অন্যান্য খরচও বেড়েছে ব্যাপকভাবে। আয়োজক দেশগুলোর বিভিন্ন শহরে হোটেল ভাড়া কয়েক গুণ বেড়েছে। কিছু ক্ষেত্রে আবাসন ব্যয় চার গুণ পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছে। একইভাবে পরিবহন খরচেও বড় ধরনের উল্লম্ফন দেখা গেছে। নিউ জার্সিতে স্বাভাবিক সময়ে ট্রেনভাড়া যেখানে প্রায় ১৩ ডলার, বিশ্বকাপ চলাকালে তা বেড়ে ১৫০ ডলারের বেশি হয়েছে।
স্টেডিয়ামে গাড়ি পার্কিংয়ের খরচও কম নয়। মেটলাইফ স্টেডিয়ামে একটি গাড়ি পার্কিং করতে খরচ করতে হবে প্রায় ২২৫ ডলার। বোস্টনের জিলেট স্টেডিয়ামেও পার্কিং খরচ নির্ধারণ করা হয়েছে ১৭৫ ডলার।
এবার নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে ফ্যান জোনে প্রবেশমূল্য নিয়েও। সাধারণত বিশ্বকাপের ফ্যান জোনগুলো উন্মুক্ত থাকলেও এবার নিউ জার্সিতে সেখানে প্রবেশ করতে টিকিট কিনতে হবে, যার মূল্য ধরা হয়েছে ১২ ডলার ৫০ সেন্ট।
২০২৬ বিশ্বকাপ ধীরে ধীরে একটি উচ্চ ব্যয়বহুল বাণিজ্যিক ইভেন্টে পরিণত হচ্ছে। এতে সাধারণ ফুটবলপ্রেমীরা ক্রমেই পিছিয়ে পড়ছেন, আর বিশ্বকাপের ঐতিহ্যবাহী উৎসবমুখর পরিবেশ হারানোর আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au