“শুভ নববর্ষ” ধ্বনিতে মুখরিত গ্লোরিয়া পাইক নেটবল কমপ্লেক্স । ছবি: ওটিএন বাংলা
মেলবোর্ন, ২৬ এপ্রিল (রবিবার): প্রবাসের মাটিতে বাঙালিয়ানার আবহে বিপুল উৎসাহ ও উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে পালিত হয়েছে বাংলা বর্ষবরণ ১৪৩৩। ভিক্টোরিয়ার ডেন্ডিনংয়ের গ্লোরিয়া পাইক নেটবল কমপ্লেক্সে দিনব্যাপী এই আয়োজনের যৌথ উদ্যোগ নেয় বাংলা আর্ট সেন্টার ভিক্টোরিয়া এবং বেঙ্গলি পূজা অ্যান্ড কালচারাল সোসাইটি অফ ভিক্টোরিয়া।
সকাল ১১টা থেকে শুরু হয়ে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত চলা এ উৎসব পরিণত হয় এক প্রাণবন্ত বাঙালি মিলনমেলায়। ভিক্টোরিয়ার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আগত শত শত মানুষ—বাংলাদেশি ও ভিন্ন সংস্কৃতির দর্শনার্থী—উপভোগ করেন বাঙালির ঐতিহ্য, সংস্কৃতি ও উৎসবের অনন্য রূপ।
“বর্ষবরণ উৎসব ১৪৩৩ আমাদের বাঙালি কমিউনিটির ক্রমবর্ধমান অবদান, পরিচয় ও প্রভাবের এক গভীর তাৎপর্যপূর্ণ প্রতিফলন। এই উৎসব প্রমাণ করে, একসঙ্গে পথ চলার মধ্য দিয়ে আমরা কীভাবে পারস্পরিক শ্রদ্ধা, সম্প্রীতি এবং সামাজিক সংহতির এক শক্ত ভিত্তি গড়ে তুলছি। সরকার ও স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃত্বের সম্মানিত প্রতিনিধিদের উপস্থিতি আমাদের জন্য বিশেষ তাৎপর্য বহন করে, কারণ তাঁদের অংশগ্রহণ আমাদের অন্তর্ভুক্তিমূলক সমাজ গঠনের অঙ্গীকারকে আরও দৃঢ় ও স্বীকৃত করে তোলে।”-কুমার রাতুল সাহা, পাবলিক রিলেশন এক্সিকিউটিভ

বহুসাংস্কৃতিক অস্ট্রেলিয়ায় বাংলা নববর্ষে সম্প্রীতির বার্তা। ছবি: ওটিএন বাংলা
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অ্যাসিস্ট্যান্ট মন্ত্রী (সিটিজেনশিপ অ্যান্ড মাল্টিকালচারাল অ্যাফেয়ার্স) এবং ব্রুস আসনের এমপি জুলিয়ান হিল। তিনি বলেন, “আমি বহু বাংলাদেশিকে চিনি যারা উচ্চশিক্ষিত, পিএইচডি ও মাস্টার্সধারী। বাংলাদেশিরা অস্ট্রেলিয়ার অর্থনীতি, শিক্ষা, গবেষণা এবং সংস্কৃতিতে অসাধারণ অবদান রাখছে।”
এছাড়া উপস্থিত ছিলেন ট্রান্সপোর্ট ইনফ্রাস্ট্রাকচার এবং পাবলিক অ্যান্ড অ্যাক্টিভ ট্রান্সপোর্ট বিষয়ক মন্ত্রী ও ডেন্ডিনং আসনের এমপি গ্যাব্রিয়েল উইলিয়ামস। তিনি বলেন, “আলবানিজ সরকারের মাল্টিকালচারাল নীতি বাংলাদেশি কমিউনিটির সক্রিয় অংশগ্রহণে আরও সমৃদ্ধ হচ্ছে। এই সহযোগিতা ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে বলে আমি আশাবাদী।”
মালগ্রেভ আসনের এমপি এডেন ফস্টার তার বক্তব্যে ব্যক্তিগত অনুভূতি প্রকাশ করে বলেন, “আমার মা-ও একজন অভিবাসী ছিলেন। আমি অভিবাসন ও বৈচিত্র্যে গর্ববোধ করি। বাংলা ভাষা বলতে না পারলেও বাংলা সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যকে আমি গভীরভাবে শ্রদ্ধা করি। এখানে এলে আমার মনে হয় আমি নিজের ঘরেই আছি।”
গ্রেটার ড্যান্ডেনং সিটির মেয়র ক্র সোফি ট্যান বলেন, “আমরা সত্যিই সৌভাগ্যবান যে এমন একটি বহুসাংস্কৃতিক সমাজে বাস করি। বাংলা নববর্ষ উপলক্ষে সবাইকে জানাই আন্তরিক শুভেচ্ছা।” তিনি বাংলায় “শুভ নববর্ষ” জানালে উপস্থিত দর্শকরা করতালির মাধ্যমে তাকে অভিনন্দন জানান।
অনুষ্ঠানের অন্যতম উদ্যোক্তা কুমার রাতুল সাহা, যিনি বাংলা আর্ট সেন্টার ভিক্টোরিয়া এবং বেঙ্গলি পূজা অ্যান্ড কালচারাল সোসাইটি অফ ভিক্টোরিয়ার পাবলিক রিলেশন এক্সিকিউটিভ হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন, তিনি বলেন, “
বর্ষবরণ উৎসব ১৪৩৩ আমাদের বাঙালি কমিউনিটির ক্রমবর্ধমান অবদান, পরিচয় ও প্রভাবের এক গভীর তাৎপর্যপূর্ণ প্রতিফলন। এই উৎসব প্রমাণ করে, একসঙ্গে পথ চলার মধ্য দিয়ে আমরা কীভাবে পারস্পরিক শ্রদ্ধা, সম্প্রীতি এবং সামাজিক সংহতির এক শক্ত ভিত্তি গড়ে তুলছি। সরকার ও স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃত্বের সম্মানিত প্রতিনিধিদের উপস্থিতি আমাদের জন্য বিশেষ তাৎপর্য বহন করে, কারণ তাঁদের অংশগ্রহণ আমাদের অন্তর্ভুক্তিমূলক সমাজ গঠনের অঙ্গীকারকে আরও দৃঢ় ও স্বীকৃত করে তোলে।”

অস্ট্রেলিয়ান রাজনীতিবিদদের অংশগ্রহণে বহুসাংস্কৃতিক বন্ধনের দৃঢ় বার্তা । ছবি: ওটিএন বাংলা
উৎসবজুড়ে ছিল সাংস্কৃতিক পরিবেশনা, সংগীত, নৃত্য এবং ঐতিহ্যবাহী নানা আয়োজন। মেলায় সাজানো ছিল বিভিন্ন খাবারের স্টল, শাড়ি-গয়না, খেলনা ও হস্তশিল্পের দোকান, যা পুরো পরিবেশকে করে তোলে এক টুকরো বাংলাদেশের প্রতিচ্ছবি।

শিশু থেকে প্রবীণ—সবাই মেতেছেন বর্ষবরণের আনন্দে । ছবি: ওটিএন বাংলা
ওটিএন বাংলার সঙ্গে কথা বলে অনেকেই জানান, এই আয়োজন যেন প্রবাসে বসে বাংলাদেশের গ্রামীণ মেলার অনুভূতি এনে দিয়েছে। দর্শনার্থীরা স্টল ঘুরে ঘুরে দেখেন এবং উপভোগ করেন বাঙালির রঙিন ঐতিহ্য।
সামগ্রিকভাবে, বাংলা আর্ট সেন্টার ভিক্টোরিয়ার এই উদ্যোগ প্রবাসে বাংলা সংস্কৃতি তুলে ধরার ক্ষেত্রে এক সফল ও প্রশংসনীয় পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হয়েছে।
-OTN Bangla report