অস্ট্রেলিয়ায় জন্ম নেওয়া বিদেশের মানুষের মধ্যে শীর্ষে ভারত। ছবিঃ সংগৃহীত
মেলবোর্ন, ৩০ এপ্রিল- অস্ট্রেলিয়ায় বসবাসরত বিদেশে জন্ম নেওয়া মানুষের নিজেদের দেশের তালিকায় বড় পরিবর্তন এসেছে। দেশটির সরকারি পরিসংখ্যান সংস্থা অস্ট্রেলিয়ান পরিসংখ্যান ব্যুরো-এর সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, প্রথমবারের মতো ইংল্যান্ডকে সামান্য ব্যবধানে ছাড়িয়ে অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে জন্ম নেওয়া বিদেশের মানুষের মধ্যে শীর্ষ অবস্থান দখল করেছে ভারত।
অস্ট্রেলিয়ান পরিসংখ্যান ব্যুরো-এর তথ্য অনুযায়ী, অস্ট্রেলিয়ায় বসবাসরত মোট ৮৮ লাখ বিদেশে জন্ম নেওয়া মানুষের মধ্যে ভারতীয় বংশোদ্ভূত মানুষের সংখ্যা ৯ লাখ ৭১ হাজার ২০ জন। অন্যদিকে ইংল্যান্ডে জন্ম নেওয়া মানুষের সংখ্যা ৯ লাখ ৭০ হাজার ৯৫০ জন, যা খুব সামান্য ব্যবধানে দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে।
পরিসংখ্যান বলছে, ২০১৫ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে অস্ট্রেলিয়ায় ভারতীয় বংশোদ্ভূত মানুষের সংখ্যা সবচেয়ে বেশি বেড়েছে। এই এক দশকে দেশটিতে ভারতীয় বংশোদ্ভূত মানুষের সংখ্যা ৫ লাখেরও বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে, যা অভিবাসন প্রবণতার বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত দেয়।
এই সময়ের মধ্যে আরও তিনটি দেশ চীন, ফিলিপাইন ও নেপাল- অস্ট্রেলিয়ায় জন্মস্থানভিত্তিক জনসংখ্যার তালিকায় শীর্ষে উঠে এসেছে। এই চারটি দেশের মানুষের সম্মিলিত বৃদ্ধি এক দশকে ১০ লাখের বেশি হয়েছে।
অন্যদিকে একই সময়ে ইংল্যান্ড, ইতালি, গ্রিস ও জার্মানিতে জন্ম নেওয়া মানুষের সংখ্যা মিলিয়ে ১ লাখের বেশি কমেছে। বিশেষ করে ইউরোপীয় দেশগুলো থেকে অভিবাসনের হার কমে যাওয়াকে এই পরিবর্তনের অন্যতম কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
অস্ট্রেলিয়ার জনসংখ্যার ইতিহাসে বিদেশে জন্ম নেওয়া মানুষের অনুপাত উল্লেখযোগ্যভাবে ওঠানামা করেছে। ১৮৯১ সালের প্রাথমিক পরিসংখ্যানে দেখা যায়, সে সময় মোট জনসংখ্যার প্রায় ৩২ শতাংশই বিদেশে জন্ম নেওয়া ছিল। তবে পরবর্তী সময়ে দুই বিশ্বযুদ্ধ ও মহামন্দার প্রভাবে এই হার কমে প্রায় ১০ শতাংশে নেমে আসে।
গত দুই দশকে অস্ট্রেলিয়ায় অভিবাসনের প্রবাহ তুলনামূলকভাবে স্থিতিশীল রয়েছে। প্রতি বছর গড়ে প্রায় ৩ শতাংশ হারে এই জনসংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে, যা দেশটির অর্থনীতি ও সমাজে অভিবাসনের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার ইঙ্গিত দেয়।
বিশ্লেষকদের মতে, এ ধরনের পরিবর্তন অস্ট্রেলিয়ার জনসংখ্যাগত কাঠামো, শ্রমবাজার এবং সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্যে দীর্ঘমেয়াদে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে।
সূত্র; news.com.au