বিশ্ব

বিধানসভা নির্বাচন

পশ্চিমবঙ্গে ভোটগণনায় নজিরবিহীন নিরাপত্তা,ফলাফল ৪ মে

  • 2:56 pm - May 01, 2026
  • পঠিত হয়েছে:২১ বার
পশ্চিমবঙ্গে ভোটগণনায় নজিরবিহীন নিরাপত্তা। ছবিঃ সংগৃহীত

মেলবোর্ন, ১ মে- পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনের ভোটগ্রহণ পর্ব শেষ হওয়ার পর এখন পুরো রাজ্যের দৃষ্টি নিবদ্ধ রয়েছে ভোটগণনার দিকে। আগামী ৪ মে ফলাফল ঘোষণাকে কেন্দ্র করে এই গণনাকে প্রশাসন, নির্বাচন কমিশন এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনী একযোগে নজিরবিহীন নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। বিশেষ করে হাওড়া জেলাসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় কঠোর নিরাপত্তা বলয় গড়ে তোলা হয়েছে, যাতে গণনা প্রক্রিয়ায় কোনো ধরনের অনিয়ম, সহিংসতা বা বিশৃঙ্খলা না ঘটে এবং সম্পূর্ণ স্বচ্ছতার সঙ্গে ফলাফল ঘোষণা করা যায়।

এবারের ভোটগণনায় সবচেয়ে আলোচিত ও গুরুত্বপূর্ণ সংযোজন হলো প্রযুক্তিনির্ভর নিরাপত্তা ব্যবস্থা। প্রথমবারের মতো গণনাকেন্দ্রে প্রবেশের ক্ষেত্রে কিউআর কোড সংবলিত পরিচয়পত্র বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য হলো অনুমোদনহীন প্রবেশ পুরোপুরি বন্ধ করা এবং প্রতিটি প্রবেশকারীর পরিচয় শতভাগ নিশ্চিত করা। প্রতিটি গণনাকেন্দ্রে প্রবেশের জন্য নির্ধারিত স্ক্যানিং পয়েন্ট স্থাপন করা হয়েছে, যেখানে দায়িত্বপ্রাপ্ত নিরাপত্তাকর্মীরা কিউআর কোড স্ক্যান করে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির পরিচয় যাচাই করবেন। কেবলমাত্র বৈধ অনুমোদন পাওয়া ব্যক্তিরাই গণনাকক্ষে প্রবেশ করতে পারবেন।

নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করতে চালু করা হয়েছে ত্রিস্তরীয় যাচাই প্রক্রিয়া। প্রথম স্তরে গণনাকেন্দ্রের প্রবেশপথে পরিচয়পত্র পরীক্ষা করা হবে। দ্বিতীয় স্তরে ভেতরে প্রবেশের আগে আবারও যাচাই করা হবে, যাতে কোনো ধরনের ভুল বা জালিয়াতি ধরা পড়ে। তৃতীয় ও চূড়ান্ত ধাপে কিউআর কোড স্ক্যানের মাধ্যমে নিশ্চিত করা হবে যে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি সত্যিই অনুমোদিত। এই তিনটি স্তর অতিক্রম করার পরেই কেউ গণনাকক্ষে প্রবেশ করতে পারবেন। রিটার্নিং অফিসার, সহকারী রিটার্নিং অফিসার, গণনাকর্মী, কারিগরি কর্মী, প্রার্থী, নির্বাচন এজেন্ট এবং কাউন্টিং এজেন্টদের জন্য এই বিশেষ পরিচয়পত্র প্রদান করা হয়েছে।

পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচন নিয়ে নানা ইঙ্গিত বুথফেরত সমীক্ষায়। ছবিঃ সংগৃহীত

গণনাকেন্দ্রের নিরাপত্তা শুধু ভেতরে সীমাবদ্ধ নয়, বাইরের এলাকাতেও কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে। স্ট্রংরুম কম্পাউন্ড বা গণনাকেন্দ্রের প্রধান গেটের ২০০ মিটারের মধ্যে কোনো ধরনের অননুমোদিত ব্যক্তির উপস্থিতি বা জমায়েত সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এই এলাকায় শুধুমাত্র অনুমোদিত পাসধারীরা নির্দিষ্ট সীমা পর্যন্ত যেতে পারবেন। এর বাইরে কাউকে অবস্থান করতে দেওয়া হবে না। এই সিদ্ধান্তের মাধ্যমে সম্ভাব্য বিশৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা ঝুঁকি অনেকটাই কমিয়ে আনা সম্ভব হবে বলে মনে করছে প্রশাসন।

স্ট্রংরুমের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ডবল-লক এবং সিলগালা পদ্ধতি অনুসরণ করা হচ্ছে। প্রতিটি স্ট্রংরুমের গেট সিল করে রাখা হয়েছে এবং নিয়মিত সেই সিল পরীক্ষা করছেন দায়িত্বপ্রাপ্ত নিরাপত্তা সদস্যরা। ভবনের ভেতরে কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন রয়েছে এবং বাইরের অংশে রয়েছে সশস্ত্র পুলিশ। পাশাপাশি নির্দিষ্ট সময় পরপর সেক্টর অফিসাররা স্ট্রংরুম পরিদর্শন করছেন, যাতে কোনো ধরনের অনিয়ম বা সন্দেহজনক কার্যক্রম ধরা পড়লে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া যায়। পোস্টাল ব্যালট, ইভিএম এবং ভিভিপ্যাট সংক্রান্ত যাচাই-বাছাইয়ের সময় প্রার্থী এবং তাঁদের এজেন্টরা নির্দিষ্ট অনুমতি নিয়ে স্ট্রংরুম এলাকায় প্রবেশ করতে পারছেন।

হাওড়া জেলায় একাধিক গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে গণনাকেন্দ্র হিসেবে নির্ধারণ করা হয়েছে। বালি, উত্তর হাওড়া এবং মধ্য হাওড়া কেন্দ্রের ভোট গণনা অনুষ্ঠিত হবে হাওড়া যোগেশচন্দ্র গার্লস স্কুলে। শিবপুর অঞ্চলের কয়েকটি কেন্দ্রের গণনা হবে একটি সরকারি শিল্প প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানে। পাঁচলা, ডোমজুড় এবং জগৎবল্লভপুর কেন্দ্রের ভোট গণনা অনুষ্ঠিত হবে হাওড়া বিবেকানন্দ ইন্সটিটিউটে। এছাড়া উলুবেড়িয়া কেন্দ্রের গণনা হবে ওমদয়াল গ্রুপ অফ ইন্সটিটিউটে। প্রতিটি কেন্দ্রেই উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে এবং ২৪ ঘণ্টা নজরদারি চালানো হচ্ছে।

পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে রেকর্ডভাঙা ভোট। ছবিঃ সংগৃহীত

ইতোমধ্যে ইভিএম মেশিনগুলো গণনাকেন্দ্রে স্থানান্তরের কাজ শুরু হয়েছে। এই কাজ সম্পন্ন করা হচ্ছে কেন্দ্রীয় বাহিনী এবং স্থানীয় পুলিশের যৌথ তত্ত্বাবধানে। স্ট্রংরুম থেকে ইভিএম বের করে নির্দিষ্ট গণনাকেন্দ্রে পৌঁছানোর পুরো প্রক্রিয়াটি কড়া নিরাপত্তার মধ্যে সম্পন্ন হচ্ছে। প্রতিটি পরিবহন রুটে নিরাপত্তা বাহিনী মোতায়েন রয়েছে এবং কোনো ধরনের অনিয়ম যাতে না ঘটে, সেদিকে বিশেষ নজর রাখা হচ্ছে।

তবে এই কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থার মধ্যেও রাজনৈতিক উত্তেজনা তৈরি হয়েছে বিভিন্ন স্থানে। বিশেষ করে কিছু স্ট্রংরুমকে ঘিরে অভিযোগ উঠেছে, সংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিদের উপস্থিতি নিশ্চিত না করেই কিছু কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়েছে। কয়েকজন প্রার্থী দাবি করেছেন, তাঁদের না জানিয়েই স্ট্রংরুমে প্রবেশ করে কিছু কাজ করা হয়েছে, যা নির্বাচন প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। তারা অভিযোগ করেছেন, লাইভ সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যাচ্ছে ভেতরে কিছু মানুষ কাজ করছেন, অথচ তাঁদের সেখানে ঢুকতে দেওয়া হচ্ছে না।

এই অভিযোগকে কেন্দ্র করে কিছু এলাকায় বিক্ষোভ, অবস্থান কর্মসূচি এবং উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। কয়েকজন প্রার্থী স্ট্রংরুমের বাইরে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছেন এবং নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগ তুলেছেন। তাঁদের দাবি, স্ট্রংরুম খোলার সময় সব দলের প্রতিনিধিদের উপস্থিতি বাধ্যতামূলক হলেও তা মানা হয়নি। এতে করে নির্বাচনের ফলাফল নিয়ে সন্দেহ তৈরি হতে পারে বলে তারা আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন।

জমে উঠেছে পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচন। ছবিঃ আনন্দবাজার

অন্যদিকে নির্বাচন কমিশন এসব অভিযোগ সরাসরি নাকচ করে দিয়েছে। মুখ্য নির্বাচন কর্মকর্তার দাবি, পুরো প্রক্রিয়া আইন অনুযায়ী সম্পন্ন হয়েছে এবং কোনো ধরনের কারচুপি হয়নি। তিনি জানিয়েছেন, সংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক দলগুলোকে আগেই ই-মেইলের মাধ্যমে জানানো হয়েছিল এবং প্রার্থীদেরও অবহিত করা হয়েছিল। স্ট্রংরুমে যেসব কার্যক্রম হয়েছে, তা মূলত পোস্টাল ব্যালট সংক্রান্ত প্রক্রিয়ার অংশ এবং এটি সম্পূর্ণ নিয়ম মেনেই করা হয়েছে।

প্রশাসনের পক্ষ থেকে আরও জানানো হয়েছে, গণনাকেন্দ্রের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সশস্ত্র পুলিশ, কেন্দ্রীয় বাহিনী এবং বিশেষ নজরদারি দল মোতায়েন করা হয়েছে। প্রতিটি প্রবেশপথে চেকপোস্ট বসানো হয়েছে এবং সন্দেহজনক যে কোনো গতিবিধির ওপর কড়া নজর রাখা হচ্ছে। পাশাপাশি গণনাকেন্দ্রের আশপাশে ড্রোন নজরদারির ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে কিছু ক্ষেত্রে, যাতে কোনো ধরনের নিরাপত্তা ঝুঁকি আগে থেকেই চিহ্নিত করা যায়।

রাজনৈতিক দলগুলোর পক্ষ থেকেও কর্মীদের সতর্ক থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। মমত ব্যানার্জিসহ অনেক নেতা নিজে স্ট্রংরুম পরিদর্শনে গিয়েছেন এবং কর্মীদের গণনাকেন্দ্র পাহারা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। তাদের বক্তব্য, গণনার প্রতিটি ধাপ নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করতে হবে, যাতে কোনো ধরনের কারচুপি বা অনিয়মের সুযোগ না থাকে। একই সঙ্গে কর্মীদের শান্ত ও সংযত থাকার আহ্বানও জানানো হয়েছে, যাতে কোনো ধরনের সহিংসতা না ঘটে।

এই শাখার আরও খবর

ট্রাম্পের ‘মার্কিন নাগরিকত্বের আবেদন যাচাইয়ে স্থগিতাদেশ’ অবৈধ: আদালত

মেলবোর্ন, ১ মে- মার্কিন অভিবাসন নীতিকে ঘিরে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের সিদ্ধান্ত আবারও বড় আইনি চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে। ৩৯টি দেশের নাগরিকদের জন্য নাগরিকত্ব, গ্রিনকার্ড ও…

যুক্তরাষ্ট্র নতুন করে হামলা চালালে ‘কঠোর জবাব’ দেবে ইরান

মেলবোর্ন, ১ মে- যুক্তরাষ্ট্র পুনরায় হামলা চালালে কঠোর প্রতিক্রিয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে ইরান। দেশটির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, নতুন করে আঘাত এলে যুক্তরাষ্ট্রের আঞ্চলিক স্থাপনাগুলোতে পাল্টা…

কারাবাস থেকে আবারও গৃহবন্দী অং সান সু চি

মেলবোর্ন, ১ মে- মিয়ানমারের সাবেক রাষ্ট্রনেত্রী অং সান সু চি-কে কারাগার থেকে সরিয়ে গৃহবন্দী করা হয়েছে বলে জানিয়েছে দেশটির রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম। দীর্ঘদিনের কারাবাসের পর এই…

শ্রমজীবী মানুষের অধিকার আদায়ের সংগ্রামের ঐতিহাসিক দিন আজ

মেলবোর্ন, ১ মে- আজ মহান মে দিবস। বিশ্বের শ্রমজীবী মানুষের অধিকার আদায়ের সংগ্রামের এক অবিস্মরণীয় দিন হিসেবে দিনটি পালিত হচ্ছে বাংলাদেশসহ সারা বিশ্বে। ১৮৮৬ সালের…

শিশুহত্যার ঘটনায় উত্তাল অস্ট্রেলিয়ার অ্যালিস স্প্রিংস, অভিযুক্তকে গণপিটুনির পর পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ

মেলবোর্ন, ১ মে- অস্ট্রেলিয়ার অ্যালিস স্প্রিংস শহরে পাঁচ বছর বয়সী এক শিশুকে হত্যার অভিযোগে আটক ব্যক্তিকে ঘিরে তীব্র সহিংসতা ও পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে।…

সমীক্ষাকে ‘রাজনৈতিক চক্রান্ত’ বললেন মমতা, ভোটের ফল নিয়ে আত্মবিশ্বাসী তৃণমূল

মেলবোর্ন, ১ মে- পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচন শেষ হওয়ার পর বুথফেরত সমীক্ষা ঘিরে নতুন করে রাজনৈতিক উত্তাপ ছড়িয়ে পড়েছে রাজ্যজুড়ে। ভোট শেষ হওয়ার পর থেকেই বিভিন্ন…

স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au