পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। ছবিঃ সংগৃহীত
মেলবোর্ন, ১ মে- ভারতের আসাম রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মার বাংলাদেশ নিয়ে সাম্প্রতিক মন্তব্যের প্রতিবাদে ঢাকায় নিযুক্ত ভারতের ভারপ্রাপ্ত হাইকমিশনার পাওয়ান বঢ়েকে তলব করেছে বাংলাদেশ সরকার। বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) বিকেলে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে তাকে ডেকে নিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রতিবাদপত্র (নোট ভারবাল) হস্তান্তর করা হয়।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, বিকেল ৫টার কিছু পর ভারতের ভারপ্রাপ্ত হাইকমিশনারকে মন্ত্রণালয়ে ডেকে নেওয়া হয়। সেখানে দক্ষিণ এশিয়া অনুবিভাগের মহাপরিচালক ইশরাত জাহান তার সঙ্গে বৈঠক করেন এবং বাংলাদেশের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক প্রতিবাদ জানানো হয়। পরে সন্ধ্যায় মন্ত্রণালয়ের একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা বিষয়টি গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেন।
বিষয়টি মূলত হিমন্ত বিশ্ব শর্মার একটি সাম্প্রতিক সাক্ষাৎকারকে কেন্দ্র করে। চলতি মাসের মাঝামাঝি সময়ে একটি ভারতীয় গণমাধ্যমে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক এবং সীমান্ত পরিস্থিতি নিয়ে এমন কিছু মন্তব্য করেন, যা ঢাকা “অবমাননাকর ও বিভ্রান্তিকর” বলে মনে করছে।
বিশেষ করে অবৈধ অনুপ্রবেশকারী ফেরত পাঠানো বা কথিত ‘পুশব্যাক’ প্রসঙ্গে তার বক্তব্য নিয়ে আপত্তি জানায় বাংলাদেশ। ওই সাক্ষাৎকারে তিনি দাবি করেন, ভারতীয় কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া এড়িয়ে অনেক সময় রাতের অন্ধকারে সীমান্তে সন্দেহভাজন ব্যক্তিদের পাঠানো হয়। তার এমন মন্তব্যকে ভিত্তিহীন ও দায়িত্বজ্ঞানহীন বলে অভিহিত করেছে ঢাকা।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বৈঠকে স্পষ্টভাবে জানায়, দুই দেশের সম্পর্ক অত্যন্ত সংবেদনশীল এবং এ ধরনের তথ্যপ্রমাণবিহীন বক্তব্য পারস্পরিক আস্থা ও সহযোগিতার পরিবেশকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে। সীমান্ত বা অভিবাসন সংক্রান্ত যেকোনো অমীমাংসিত বিষয় বিদ্যমান দ্বিপক্ষীয় কাঠামো এবং আন্তর্জাতিক আইন অনুসরণ করে সমাধান করা উচিত বলেও উল্লেখ করা হয়।
এছাড়া বাংলাদেশ পক্ষ থেকে আরও বলা হয়, ভবিষ্যতে এমন মন্তব্য করা থেকে ভারতীয় রাজনৈতিক নেতাদের বিরত থাকা উচিত, যা দুই দেশের দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ককে প্রশ্নবিদ্ধ করতে পারে।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এই কূটনৈতিক পদক্ষেপকে কেবল একটি প্রতিবাদ নয়, বরং দুই দেশের সম্পর্ক রক্ষায় সতর্ক বার্তা হিসেবে দেখা হচ্ছে। ঘটনাটি ঘিরে কূটনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনা তৈরি হয়েছে।