চাপে পড়েছেন ইলন মাস্ক, ছবি: সংগৃহীত
মেলবোর্ন, ১ মে- যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ার একটি ফেডারেল আদালতে ইলন মাস্ক-এর সাক্ষ্য ঘিরে নতুন বিতর্ক তৈরি হয়েছে। ওপেনএআই সংক্রান্ত মামলায় জিজ্ঞাসাবাদের সময় তিনি স্বীকার করেছেন, তার প্রতিষ্ঠান টেসলা বর্তমানে কৃত্রিম সাধারণ বুদ্ধিমত্তা বা এজিআই নিয়ে কাজ করছে না। অথচ সাম্প্রতিক সময়ে সামাজিক মাধ্যমে তিনি এর বিপরীত দাবি করেছিলেন।
এই স্ববিরোধী বক্তব্য আদালতে তার অবস্থানকে প্রশ্নের মুখে ফেলেছে। মামলায় মাস্ক অভিযোগ করেন, ওপেনএআই শুরুতে অলাভজনকভাবে মানবকল্যাণের উদ্দেশ্যে প্রতিষ্ঠিত হলেও পরে তা মুনাফাভিত্তিক কাঠামোয় রূপান্তরিত হয়েছে, যা প্রতিষ্ঠার মূল লক্ষ্য থেকে বিচ্যুতি।
জেরা চলাকালে ওপেনএআইয়ের আইনজীবীরা তুলে ধরেন, মাস্ক নিজেই একসময় প্রতিষ্ঠানটিকে মুনাফাভিত্তিক করার প্রস্তাব দিয়েছিলেন। আদালতে মাস্ক স্বীকার করেন, ২০১৬ সালে এ ধরনের আলোচনা হয়েছিল এবং ২০১৭ সালে তিনি এমন একটি পরিকল্পনাও করেন যেখানে তার সংখ্যাগরিষ্ঠ মালিকানা থাকার কথা ছিল। পরিকল্পনাটি বাস্তবায়িত না হওয়ায় তিনি পরবর্তীতে আর্থিক সহায়তা কমিয়ে দেন, যদিও ২০২০ সাল পর্যন্ত কিছু খরচ বহন করেন।
মামলায় বিনিয়োগ নিয়েও প্রশ্ন ওঠে। আগে ১০০ মিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের দাবি করলেও বাস্তবে প্রায় ৩৮ মিলিয়ন ডলার দিয়েছেন বলে জানান তিনি। একই সঙ্গে তিনি বলেন, তার প্রভাব ও যোগাযোগও গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছে।
এদিকে মাইক্রোসফট-এর বিনিয়োগ কাঠামো পরিবর্তনের বিষয়টিও মামলার আলোচনায় এসেছে। মাস্কের দাবি, মুনাফার সীমা শিথিল করার সিদ্ধান্তই তাকে আইনি পদক্ষেপ নিতে প্রভাবিত করেছে।
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার নিরাপত্তা নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন মাস্ক। তার মতে, করপোরেট কাঠামোয় গেলে ঝুঁকি বাড়তে পারে, যদিও তিনি স্বীকার করেন এ ধরনের ঝুঁকি সব এআই প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য।
মামলার বিচারক ইভন গনজালেস রজার্স জানিয়েছেন, নিরাপত্তা ইস্যুতে আরও শুনানি হবে এবং মাস্ককে পুনরায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আদালতে তলব করা হতে পারে। একই সঙ্গে ওপেনএআইয়ের আরও কয়েকজন কর্মকর্তার সাক্ষ্য গ্রহণের কথাও জানিয়েছেন তিনি।