মুখ্যমন্ত্রী হচ্ছেন থালাপতি ,ছবিঃ সংগৃহীত
মেলবোর্ন,৬ মে- তামিলনাড়ুর রাজনীতিতে বড় ধরনের পরিবর্তনের ইঙ্গিত মিলেছে। অভিনেতা থেকে রাজনীতিবিদে পরিণত হওয়া বিজয়ের দল তামিলাগা ভেট্টি কাজাগাম (টিভিকে) বিধানসভা নির্বাচনে ১০৮টি আসন জিতে রাজ্যের সবচেয়ে বড় দল হিসেবে উঠে এসেছে। ২৩৪ আসনের বিধানসভায় সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজন ১১৮ আসন, ফলে তারা সংখ্যাগরিষ্ঠতা থেকে মাত্র ১০টি আসন দূরে ছিল।
এই পরিস্থিতিতে ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেস (এআইসিসি) টিভিকেকে সমর্থন দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে জানা গেছে। তামিলনাড়ু প্রদেশ কংগ্রেস কমিটির ভার্চুয়াল বৈঠকের পর এই সিদ্ধান্ত আসে, যদিও সমর্থনের সঙ্গে কিছু শর্ত যুক্ত রয়েছে। দলটি নতুন মন্ত্রিসভায় দুটি মন্ত্রী পদ এবং কয়েকটি সরকারি বোর্ডের গুরুত্বপূর্ণ পদ দাবি করতে পারে।
দীর্ঘদিন ধরে রাজ্যে ক্ষমতার কেন্দ্র ছিল দ্রাবিড় মুনেত্র কাঝগম (ডিএমকে) এবং অল ইন্ডিয়া আন্না দ্রাবিড় মুনেত্র কাঝগম (এআইএডিএমকে)। কিন্তু এবারের ফলাফলে সেই সমীকরণ ভেঙে গেছে। ডিএমকে পরাজিত হয়েছে এবং এআইএডিএমকে নেমে গেছে তৃতীয় স্থানে।
নবনির্বাচিত বিধায়কদের সঙ্গে চেন্নাইয়ে বৈঠকের পর টিভিকে নেতৃত্বের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ৭ মে বিজয় তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিতে পারেন। তার সঙ্গে আরও কয়েকজন মন্ত্রীও শপথ নেবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
কংগ্রেস ছাড়াও টিভিকে বাম দল, ভিসিকে এবং আইইউএমএল-এর মতো ছোট দলগুলোর সঙ্গে জোট গঠনের আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে। এসব দল সমর্থন দিলে রাজ্যে একটি স্থিতিশীল জোট সরকার গঠনের সম্ভাবনা তৈরি হবে।
ডিএমকে অবশ্য এখনও আশা করছে, বাম দলগুলো তাদের পাশে থাকবে। তবে কংগ্রেসের অবস্থান স্পষ্ট হওয়ার পর রাজনৈতিক চাপ আরও বেড়েছে।
সব মিলিয়ে চেন্নাইয়ে ৭ মে-র শপথ অনুষ্ঠানকে ঘিরে তীব্র রাজনৈতিক উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। সিনেমার পর্দার ‘থালাপতি’ এবার বাস্তব রাজনীতিতে রাজ্যের শাসকের ভূমিকায় আসতে চলেছেন, যা তামিলনাড়ুর রাজনীতিতে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা হিসেবে দেখা হচ্ছে।