পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র তাহির আন্দ্রাবি(বামে), সজীব ওয়াজেদ জয়(ডানে)। ছবিঃ সংগৃহীত
মেলবোর্ন, ৮ আগষ্ট- পাকিস্তানের গোয়েন্দা সংস্থা ইন্টার-সার্ভিসেস ইন্টেলিজেন্স (আইএসআই) বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে প্রভাব বিস্তার করছে বলে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয়ের অভিযোগ সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছে পাকিস্তান। ইসলামাবাদ বলেছে, তারা বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে কোনো ধরনের হস্তক্ষেপ করে না। একই সঙ্গে ভারতের প্রতি ইঙ্গিত করে পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মন্তব্য করেছেন, আইএসআই নিয়ে ভারতের ‘অতিরিক্ত সন্দেহ’ থেকেই এ ধরনের অভিযোগ উঠে আসছে।
শুক্রবার (৭ আগস্ট) ইসলামাবাদে সাপ্তাহিক সংবাদ ব্রিফিংয়ে পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র তাহির আন্দ্রাবি এ কথা বলেন।
তিনি বলেন, “আমরা তথাকথিত আইএসআইয়ের ভূমিকা নিয়ে করা সব ধরনের ইঙ্গিত বা অভিযোগ স্পষ্টভাবে প্রত্যাখ্যান করছি।”
ভারতের প্রসঙ্গ টেনে তিনি আরও বলেন, “আইএসআই নিয়ে ভারত অযৌক্তিকভাবে আতঙ্কিত। সম্ভবত সেই প্রভাবই তাঁর (সজীব ওয়াজেদ জয়) ওপরও পড়েছে। তিনি যেহেতু ভারতে অবস্থান করছেন, হয়তো সে কারণেই এমন মন্তব্য করেছেন।”
তাহির আন্দ্রাবি বলেন, পাকিস্তান বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে কখনোই হস্তক্ষেপ করে না এবং দেশটির রাজনৈতিক বিরোধ নিয়েও কোনো মন্তব্য করতে চায় না।
তিনি বলেন, “বাংলাদেশের দুটি রাজনৈতিক পক্ষ নিজেদের মধ্যে বিভিন্ন বক্তব্য দিচ্ছে। এ বিষয়ে পাকিস্তানের কোনো অবস্থান নেই। শেখ হাসিনা ও বাংলাদেশের বর্তমান সরকারের রাজনৈতিক বিরোধ সম্পর্কেও আমরা কোনো মন্তব্য করব না।”
এ সময় তিনি জানান, দিল্লিতে অনুষ্ঠিত এক অনুষ্ঠানে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে সজীব ওয়াজেদ জয় যে বক্তব্য দিয়েছেন, তা তিনি ব্যক্তিগতভাবে দেখেননি।
গত বুধবার নয়াদিল্লিতে ফরেন করেসপন্ডেন্টস ক্লাব অব সাউথ এশিয়া আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে বক্তব্য দেন শেখ হাসিনা ও তাঁর ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয়। ওই অনুষ্ঠানে জয় অভিযোগ করেন, সরকার পরিবর্তনের পর বাংলাদেশে পাকিস্তানের আইএসআইয়ের প্রভাব উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।
জয়ের দাবি, “বাংলাদেশে এখন পাকিস্তানের আইএসআইয়ের অবাধ প্রভাব রয়েছে। আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে গ্রেপ্তার হওয়া শত শত জঙ্গিকে মুক্তি দেওয়া হয়েছে। এটি শুধু ভারতের জন্য নয়, পুরো বিশ্বের জন্যই উদ্বেগের বিষয়।”
তিনি আরও অভিযোগ করেন, শেখ হাসিনার সরকারের সময় গ্রেপ্তার, দণ্ডিত ও কারাবন্দি হওয়া অনেক অপরাধী এখন মুক্ত রয়েছে। তাঁর দাবি, উগ্রপন্থি সংগঠনগুলো আবার সক্রিয় হয়ে উঠেছে এবং হিজবুত তাহরীরের মতো সংগঠনের কার্যক্রম প্রকাশ্যে দেখা যাচ্ছে। পাশাপাশি জনসমাবেশে আল-কায়েদার সদস্যদের উপস্থিতির অভিযোগও করেন তিনি। তবে এসব দাবির পক্ষে তিনি কোনো প্রমাণ উপস্থাপন করেননি।
সজীব ওয়াজেদ জয় আরও বলেন, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে না আনা গেলে ভবিষ্যতে বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসবাদের নতুন উৎসে পরিণত হতে পারে।
তিনি বলেন, “এখনই ব্যবস্থা নেওয়া না হলে ভবিষ্যতের বৈশ্বিক সন্ত্রাসীরা বাংলাদেশ থেকেই উঠে আসবে।”
ভারতের নিরাপত্তা পরিস্থিতির প্রসঙ্গ টেনে জয় বলেন, ভারতের পশ্চিম সীমান্তে পাকিস্তান যেমন একটি নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ, তেমনি বর্তমানে পূর্ব সীমান্তেও একই ধরনের পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে বলে তাঁর দাবি।
উল্লেখ্য, একই অনুষ্ঠানে শেখ হাসিনা ঘোষণা দেন যে, তিনি চলতি বছরের ডিসেম্বরের মধ্যে বাংলাদেশে ফিরে আসতে চান। তাঁর এ বক্তব্যকে ঘিরে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে নতুন করে কূটনৈতিক আলোচনা ও প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে।
সূত্রঃ হিন্দুস্তান টাইমস