গাজীপুরে এক পরিবারের ৫ জনকে গলা কেটে হত্যা , ছবি : সংগৃহীত
মেলবোর্ন,১০ মে- গাজীপুরের কাপাসিয়া উপজেলার রাউৎকোনা গ্রামে এক হৃদয়বিদারক ঘটনায় একই পরিবারের পাঁচজনের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। নিহতদের মধ্যে রয়েছেন এক নারী, তাঁর তিন সন্তান এবং শ্যালক। ঘটনায় অভিযুক্ত গৃহকর্তা ফোরকান মিয়া (৪০) পলাতক রয়েছেন।
শনিবার সকালে স্থানীয় একটি বাড়ির নিচতলা থেকে মরদেহগুলো উদ্ধার করা হয়। পরে ঘটনাস্থলে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি), পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) এবং স্থানীয় থানা পুলিশ আলামত সংগ্রহে কাজ শুরু করে।
নিহতরা হলেন ফোরকান মিয়ার স্ত্রী শারমিন আক্তার (৩০), তাদের তিন সন্তান-মীম খানম (১৫), উম্মে হাবিবা (৮) ও ফারিয়া (২), এবং শ্যালক রসুল মিয়া (২২)।
পুলিশ ও স্বজনদের ভাষ্য অনুযায়ী, ফোরকান মিয়া নিজেই ফোন করে এক স্বজনকে হত্যার কথা জানান। ফোনে তিনি বলেন, “সবাইকে মাইরা ফেলছি, আমারে আর পাবি না।” এ খবর ছড়িয়ে পড়ার পর এলাকাজুড়ে চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়।
নিহত শারমিন আক্তারের ফুফু জেসমিন আক্তার জানান, খবর পেয়ে তারা ঘটনাস্থলে গিয়ে ঘরের বিভিন্ন স্থানে মরদেহ পড়ে থাকতে দেখেন। আরেক ফুফু ইভা আক্তার বলেন, ভেতরে প্রবেশ করতেই তারা বিছানা ও মেঝেতে মরদেহ ছড়িয়ে থাকতে দেখেন এবং ৯৯৯ নম্বরে পুলিশকে খবর দেন।
পরিবার ও স্বজনদের অভিযোগ, ফোরকান মিয়া দীর্ঘদিন ধরে পারিবারিক কলহে জড়িত ছিলেন। দ্বিতীয় বিয়ে নিয়ে দাম্পত্য সম্পর্ক আরও জটিল হয়ে ওঠে। এর আগে শারমিন আক্তারের সঙ্গে তার মারধর ও মানসিক নির্যাতনের ঘটনাও ঘটেছিল বলে দাবি করা হয়।
এদিকে ঘর থেকে একটি লিখিত অভিযোগের কপি উদ্ধার করেছে পুলিশ, যেখানে পারিবারিক বিরোধ ও আর্থিক লেনদেন সংক্রান্ত নানা অভিযোগ উল্লেখ রয়েছে।
গাজীপুর পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. আসাদুজ্জামান জানিয়েছেন, প্রাথমিকভাবে এটি পারিবারিক কলহজনিত হত্যাকাণ্ড বলে ধারণা করা হচ্ছে। অভিযুক্তকে গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে এবং পুরো ঘটনাটি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
ঘটনাটি ঘিরে পুরো এলাকায় শোক ও আতঙ্কের ছায়া নেমে এসেছে।