যেভাবে ক্ষমতার শিখরে শুভেন্দু ।ছবি : সংগৃহীত
মেলবোর্ন,১০ মে- পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে দীর্ঘদিনের নাটকীয় পালাবদলের পর অবশেষে মুখ্যমন্ত্রীর আসনে বসলেন শুভেন্দু অধিকারী। তৃণমূল কংগ্রেসের একসময়ের প্রভাবশালী নেতা থেকে বিজেপির প্রধান মুখ হয়ে ওঠা এই রাজনীতিক শনিবার কলকাতার ব্রিগেড প্যারেড ময়দানে মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী Narendra Modi, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী Amit Shahসহ বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব ও বিভিন্ন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীরা।
২০২৬ সালের পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে ২৯৪ আসনের মধ্যে ২০৭টিতে জয় পেয়ে সরকার গঠন করে বিজেপি। এর মধ্য দিয়ে টানা ১৫ বছরের তৃণমূল শাসনের অবসান ঘটে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই জয়ের কেন্দ্রে ছিলেন শুভেন্দু অধিকারী, যিনি গত কয়েক বছর ধরে রাজ্যে বিজেপির অন্যতম প্রধান সংগঠক ও মুখপাত্র হিসেবে কাজ করেছেন।
রাজনৈতিক জীবনের শুরুটা হয়েছিল কংগ্রেসের রাজনীতি দিয়ে। পূর্ব মেদিনীপুরের কাঁথির রাজনৈতিক পরিবারে জন্ম নেওয়া শুভেন্দুর বাবা শিশির অধিকারী ছিলেন তৎকালীন কংগ্রেসের প্রভাবশালী নেতা। পরে Mamata Banerjee তৃণমূল কংগ্রেস গঠন করলে বাবা-ছেলে দুজনই সেই দলে যোগ দেন।
২০০৬ সালে কাঁথি দক্ষিণ আসন থেকে বিধায়ক নির্বাচিত হওয়ার পর শুভেন্দুর রাজনৈতিক উত্থান দ্রুত গতিতে এগোতে থাকে। বিশেষ করে নন্দীগ্রামে রাসায়নিক শিল্প হাব গড়ার বিরুদ্ধে কৃষক আন্দোলনের অন্যতম সংগঠক হিসেবে আলোচনায় আসেন তিনি। সেই আন্দোলনই পরবর্তীতে পশ্চিমবঙ্গে বামফ্রন্ট সরকারের পতনের পথ তৈরি করে বলে মনে করা হয়।
২০০৯ সালে সিপিআইএম নেতা লক্ষণ শেঠকে হারিয়ে লোকসভা সদস্য নির্বাচিত হন শুভেন্দু। পরে ২০১৬ সালে বিধায়ক হয়ে রাজ্যের পরিবহনমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেন। একইসঙ্গে তৃণমূলের সাংগঠনিক কাঠামোয়ও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠেন তিনি।
তবে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে দূরত্ব বাড়তে থাকে শুভেন্দুর। বিশেষ করে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে কেন্দ্র করে দলের অভ্যন্তরে নতুন ক্ষমতার বলয় গড়ে ওঠার পর থেকেই সম্পর্কে টানাপোড়েন স্পষ্ট হয়। শেষ পর্যন্ত ২০২০ সালে তৃণমূল ছেড়ে বিজেপিতে যোগ দেন শুভেন্দু।
বিজেপিতে যোগ দেওয়ার পরই রাজ্যের রাজনীতিতে বড় চমক তৈরি করেন তিনি। ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে নন্দীগ্রামে সরাসরি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে পরাজিত করে জাতীয় রাজনীতিতেও আলোচনায় উঠে আসেন। এরপর বিরোধী দলনেতা হিসেবে রাজপথ ও বিধানসভা দুই জায়গাতেই তৃণমূল সরকারের বিরুদ্ধে ধারাবাহিক আন্দোলন গড়ে তোলেন।
দুর্নীতি, শিক্ষক নিয়োগ কেলেঙ্কারি, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও অনুপ্রবেশ ইস্যুতে বারবার সরব ছিলেন শুভেন্দু। তার আক্রমণাত্মক রাজনৈতিক কৌশল এবং তৃণমূলের সাংগঠনিক দুর্বলতাকে কাজে লাগিয়েই বিজেপি এবার পশ্চিমবঙ্গে বড় জয়ের মুখ দেখে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
রাজনৈতিকভাবে সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ বিষয় হলো, যেই Bhowanipore আসনকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের শক্ত ঘাঁটি হিসেবে ধরা হতো, সেখান থেকেই এবার জয়ী হয়েছেন শুভেন্দু। এর আগে নন্দীগ্রামেও মমতাকে হারিয়েছিলেন তিনি।
একসময় যিনি মমতার ঘনিষ্ঠ সহযোদ্ধা ছিলেন, সেই শুভেন্দুই এখন পশ্চিমবঙ্গের নতুন ক্ষমতার কেন্দ্র। আর সেই পরিবর্তনের মধ্য দিয়েই রাজ্যের রাজনীতিতে শুরু হলো নতুন এক অধ্যায়।