মেলবোর্ন,১০ মে- গণতান্ত্রিক কঙ্গো প্রজাতন্ত্রের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় ইতুরি প্রদেশে ভয়াবহ মিলিশিয়া হামলায় অন্তত ৬৯ জন নিহত হয়েছেন। স্থানীয় প্রশাসন ও নিরাপত্তা সূত্র জানিয়েছে, খনিজসম্পদসমৃদ্ধ এই অঞ্চলে স্বর্ণখনির নিয়ন্ত্রণকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন ধরে চলা সহিংসতার মধ্যেই নতুন করে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়ে।
আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, লেন্দু সম্প্রদায়ের সমর্থক হিসেবে পরিচিত ‘কোঅপারেটিভ ফর দ্য ডেভেলপমেন্ট অব কঙ্গো’ বা কোডেকো মিলিশিয়ার সদস্যরা গত ২৮ এপ্রিল ইতুরি প্রদেশের কয়েকটি গ্রামে একযোগে হামলা চালায়। এতে নারী-শিশুসহ বহু মানুষ নিহত হন। হামলার পর আতঙ্কে বহু পরিবার এলাকা ছেড়ে পালিয়ে যায়।
স্থানীয় সূত্রের দাবি, এর আগে হেমা সম্প্রদায়ের ঘনিষ্ঠ বলে পরিচিত ‘কনভেনশন ফর দ্য পপুলার রেভলিউশন’ বা সিআরপি গোষ্ঠী কঙ্গোর সেনাবাহিনীর একটি অবস্থানে হামলা চালায়। পিম্বো এলাকার কাছে ওই হামলার জের ধরেই পাল্টাপাল্টি সংঘর্ষ আরও ভয়াবহ রূপ নেয়।
নাগরিক সমাজের নেতা দিয়ুদোনে লোসা জানিয়েছেন, এপ্রিলের শেষ সপ্তাহে কোডেকো মিলিশিয়া ও প্রতিপক্ষের হামলা-পাল্টা হামলায় ৭০ জনেরও বেশি মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন। নিহতদের মধ্যে সাধারণ নাগরিক ছাড়াও অন্তত ১৯ জন মিলিশিয়া সদস্য ও সেনাসদস্য রয়েছেন বলে নিরাপত্তা সূত্র জানিয়েছে।
কোডেকো যোদ্ধাদের উপস্থিতির কারণে কয়েকদিন ধরে নিহতদের মরদেহ উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। স্থানীয় কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, শনিবার পর্যন্ত মাত্র ২৫টি মরদেহ দাফন করা গেছে। বাকি মরদেহ উদ্ধারে অভিযান চলছে।
পূর্ব কঙ্গোতে দীর্ঘদিন ধরেই বিভিন্ন জাতিগত সশস্ত্র গোষ্ঠীর মধ্যে সংঘর্ষ চলছে। বিশেষ করে স্বর্ণ ও খনিজসম্পদ নিয়ন্ত্রণকে কেন্দ্র করে অঞ্চলটিতে সহিংসতা, লুটপাট ও মানবিক সংকট ক্রমেই তীব্র হয়ে উঠছে।