নিভে গেল কারিনা কায়সারের জীবন। ছবিঃ সংগৃহীত
মেলবোর্ন, ১৬ মে- কয়েক দিন ধরে জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে লড়াইয়ের পর না ফেরার দেশে পাড়ি জমালেন বাংলাদেশের জনপ্রিয় কনটেন্ট ক্রিয়েটর ও অভিনেত্রী কারিনা কায়সার। লিভার জটিলতায় ভারতের চেন্নাইয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শুক্রবার (১৫ মে) তিনি মারা যান। তার মৃত্যুতে শোক নেমে এসেছে দেশের বিনোদন অঙ্গন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এবং ভক্ত-অনুরাগীদের মধ্যে।
কারিনার মৃত্যুর খবর গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন তার বাবা, জাতীয় ফুটবল দলের সাবেক তারকা খেলোয়াড় কায়সার হামিদ। তিনি জানান, চেন্নাইয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় হঠাৎ শারীরিক অবস্থার মারাত্মক অবনতি ঘটে কারিনার। ফুসফুসে অ্যান্টিবায়োটিক প্রয়োগের সময় তার রক্তচাপ আশঙ্কাজনকভাবে কমে যায়। পরে চিকিৎসকরা সর্বোচ্চ চেষ্টা চালালেও শেষ পর্যন্ত তাকে আর বাঁচানো সম্ভব হয়নি।
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, শুরুতে জ্বর ও দুর্বলতায় আক্রান্ত হন কারিনা। পরে বিভিন্ন পরীক্ষায় তার শরীরে সংক্রমণ ধরা পড়ে। একই সঙ্গে হেপাটাইটিস এ ও ই-জনিত জটিলতা দেখা দিলে তার লিভার মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। আগে থেকেই তার ‘ফ্যাটি লিভার’-এর সমস্যা ছিল বলে পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। সংক্রমণের কারণে পরিস্থিতি দ্রুত জটিল হয়ে পড়ে এবং গত সপ্তাহে তার লিভার ফেইলিউর হয়।
অবস্থার অবনতি হলে প্রথমে রাজধানীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে তাকে ভর্তি করা হয়। সেখানে আইসিইউতে রেখে চিকিৎসা দেওয়া হয় এবং পরে লাইফ সাপোর্টে নেওয়া হয়। কিন্তু অবস্থার উন্নতি না হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য গত সোমবার রাতে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে তাকে ভারতের চেন্নাইয়ে নেওয়া হয়।
চেন্নাইয়ের ভেলোরে অবস্থিত খ্রিস্টান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের তত্ত্বাবধানে তার চিকিৎসা চলছিল। চিকিৎসকরা প্রথমে ফুসফুসের সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করেন। পাশাপাশি লিভার ট্রান্সপ্লান্টের প্রস্তুতিও নেওয়া হচ্ছিল। তবে শারীরিক অবস্থার দ্রুত অবনতির কারণে শেষ পর্যন্ত সব প্রচেষ্টা ব্যর্থ হয়।
কারিনা কায়সার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রাণবন্ত উপস্থাপনা, অভিনয় এবং নিজস্ব কনটেন্ট নির্মাণের মাধ্যমে তরুণদের কাছে জনপ্রিয় হয়ে ওঠেন। অভিনয়ের পাশাপাশি তিনি চিত্রনাট্য রচনাতেও যুক্ত ছিলেন। স্বল্প সময়ের মধ্যেই অনলাইনভিত্তিক কনটেন্ট জগতে নিজের আলাদা পরিচিতি তৈরি করেছিলেন তিনি।
তার অকাল মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেছেন সহকর্মী, ভক্ত ও শুভাকাঙ্ক্ষীরা। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেকেই তার স্মৃতিচারণ করে শোকবার্তা দিচ্ছেন। পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, প্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিকতা শেষে তার মরদেহ দেশে আনার প্রস্তুতি চলছে।