শাহ আলীর মাজারে হামলার অভিযোগ জামায়াত-শিবিরের বিরুদ্ধে। ছবিঃ সংগৃহীত
মেলবোর্ন, ১৬ মে- ঢাকার মিরপুরে ঐতিহাসিক শাহ আলী বোগদাদির মাজারে হামলার ঘটনা নিয়ে উত্তেজনা ও আলোচনা তৈরি হয়েছে। বৃহস্পতিবার গভীর রাতে মাজার প্রাঙ্গণে জড়ো হওয়া ভক্ত ও অনুসারীদের ওপর লাঠিসোঁটা নিয়ে হামলা চালানোর অভিযোগ উঠেছে জামায়াত-শিবিরের বিরুদ্ধে। হামলার ভিডিও ও ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর ঘটনাটি নিয়ে ব্যাপক সমালোচনা শুরু হয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দা, মাজারে আগত ভক্ত এবং প্রত্যক্ষদর্শীদের অভিযোগ, একদল ব্যক্তি হঠাৎ করে মাজার এলাকায় ঢুকে ভক্তদের মারধর করে এবং আতঙ্ক সৃষ্টি করে। অনেককে পিটিয়ে সেখান থেকে বের করে দেওয়া হয়। তবে এ ঘটনায় জামায়াতে ইসলামী বা এর অঙ্গসংগঠনের কোনো সম্পৃক্ততা নেই বলে দাবি করেছে দলটি।
মিরপুর ১ নম্বর সেকশনে অবস্থিত কয়েক শ বছর পুরোনো শাহ আলী বোগদাদির মাজারে প্রতি বৃহস্পতিবার রাতে ধর্মীয় জলসা বসে। এতে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে ভক্তরা অংশ নেন। বৃহস্পতিবার রাতেও একইভাবে জলসা চলছিল। প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, রাত প্রায় ১টার দিকে মুখে সার্জিক্যাল মাস্ক ও হাতে লাঠিসোঁটা নিয়ে একদল ব্যক্তি মাজারের পূর্ব পাশের খোলা স্থানে প্রবেশ করে। সেখানে মাদুর ও পলিথিন বিছিয়ে বসে থাকা ভক্তদের লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়।
এ সময় মাজার এলাকায় চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। নারী-পুরুষসহ অনেক ভক্ত দৌড়ে পালানোর চেষ্টা করেন। হামলাকারীরা একপর্যায়ে সেখানে অবস্থান নেওয়া লোকজনকে মারধর করে সরিয়ে দেয়। ঘটনায় কয়েকজন আহত হয়েছেন বলেও জানা গেছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, কয়েকজন ব্যক্তি লাঠি হাতে মাজারে আসা মানুষদের ধাওয়া ও মারধর করছেন। ভিডিওগুলো ঘিরে অনলাইনে তীব্র প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে।
ঘটনার বিষয়ে শাহ আলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ঘটনার শেষ দিকে পুলিশ সেখানে পৌঁছায়। তিনি জানান, মাজারের পূর্ব পাশে বাইরে থেকে আসা কিছু নারী ও পুরুষ অবস্থান করছিলেন। সেখানে মাদক সেবনের অভিযোগ রয়েছে বলে শোনা যাচ্ছে। তবে জুমার নামাজের জন্য ব্যবহৃত স্থানে কেউ গাঁজা সেবন করছিল না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
পুলিশের এই কর্মকর্তা আরও বলেন, হামলায় অংশ নেওয়া ব্যক্তিদের ‘জামায়াত-শিবির’ সংশ্লিষ্ট বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। একই ধরনের তথ্যের কথা জানিয়েছেন পুলিশের মিরপুর বিভাগের উপকমিশনার মোস্তাক সরকারও। তিনি বলেন, জামায়াত-শিবিরের একটি অংশ হামলায় জড়িত থাকার অভিযোগ পাওয়া গেছে এবং বিষয়টি তদন্ত করা হচ্ছে।
তবে অভিযোগ সরাসরি নাকচ করেছে জামায়াতে ইসলামী। দলের ঢাকা মহানগর উত্তর শাখার আমির সেলিম উদ্দিন বলেন, জামায়াত বা শিবিরের কর্মীদের হামলা করার কোনো কারণ নেই। তিনি দাবি করেন, এ ঘটনায় তাদের কোনো নেতাকর্মী জড়িত নন।
উল্লেখ্য, শাহ আলীর মাজার যে এলাকায় অবস্থিত, সেটি ঢাকা-১৪ সংসদীয় আসনের অন্তর্ভুক্ত। গত ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এই আসন থেকে জামায়াতের প্রার্থী মীর আহমদ বিন কাসেম আরমান সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।
এদিকে মাজারে হামলার এই ঘটনাকে ঘিরে সুফিবাদ ও মাজারকেন্দ্রিক অনুসারীদের মধ্যে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে । ২০২৪ সালের জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পর দেশের বিভিন্ন স্থানে ধারাবাহিকভাবে মাজারে হামলার ঘটনা ঘটেছে বলে অভিযোগ রয়েছে। সুফি সমাজকেন্দ্রিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান ‘মাকাম: সেন্টার ফর সুফি হেরিটেজ’-এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০২৪ সালের আগস্ট থেকে ২০২৫ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত ১৭ মাসে দেশে অন্তত ৯৭টি মাজারে হামলার ঘটনা ঘটেছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি হামলার ঘটনা ঘটেছে ঢাকা ও চট্টগ্রাম বিভাগে।
শাহ আলী মাজারে সর্বশেষ এই হামলার ঘটনায় শুক্রবার সন্ধ্যা পর্যন্ত কোনো মামলা হয়নি এবং কাউকে আটকও করা যায়নি বলে জানিয়েছে পুলিশ। তদন্ত শেষে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
সূত্রঃ প্রথম আলো