আরও ৪৫ দিন বাড়ল ইসরায়েল-লেবানন যুদ্ধবিরতির মেয়াদ। ছবিঃ সংগৃহীত
মেলবোর্ন, ১৬ মে- ইসরায়েল ও লেবাননের মধ্যে চলমান যুদ্ধবিরতির মেয়াদ আরও ৪৫ দিন বাড়ানো হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় বলে নিশ্চিত করেছে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর।
শুক্রবার মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের মুখপাত্র টমি পিগট জানান, দুই পক্ষের মধ্যে চলমান উত্তেজনা কমাতে এবং সীমান্ত পরিস্থিতি স্থিতিশীল রাখতে যুদ্ধবিরতি আরও ৪৫ দিন কার্যকর থাকবে। তিনি আরও জানান, আগামী ২ ও ৩ জুন ওয়াশিংটনে ইসরায়েল ও লেবাননের মধ্যে চতুর্থ দফা আলোচনা অনুষ্ঠিত হবে।
এর আগে বৃহস্পতিবার ওয়াশিংটনে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরে দুই দেশের প্রতিনিধিদের মধ্যে নতুন দফার সরাসরি আলোচনা শুরু হয়। আলোচনায় লেবাননের পক্ষ থেকে অংশ নেন সাবেক রাষ্ট্রদূত সাইমন কারাম, রাষ্ট্রদূত নাদা হামাদেহ মুআওয়াদ এবং কয়েকজন সামরিক কর্মকর্তা। অন্যদিকে ইসরায়েলি প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেন রাষ্ট্রদূত ইয়েচিয়েল লেইটার। বৈঠকে যুক্তরাষ্ট্রের লেবানন ও ইসরায়েলবিষয়ক বিশেষ দূত মিশেল ইসা এবং মাইক হাকাবিও উপস্থিত ছিলেন।
এর আগে গত ১৬ এপ্রিল যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সীমান্তে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে ইসরায়েল ও লেবাননের মধ্যে ১০ দিনের যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করেন। পরে পরিস্থিতি কিছুটা নিয়ন্ত্রণে রাখতে সেই যুদ্ধবিরতির মেয়াদ দুই দফায় বাড়ানো হয়।
তবে যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকার পরও দক্ষিণ লেবাননে পুরোপুরি শান্তি ফিরেনি। বিভিন্ন এলাকায় সংঘর্ষ ও হামলার ঘটনা অব্যাহত রয়েছে। স্থানীয় সূত্র ও পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, ইসরায়েল তেবনিন, হারুফ এবং বেইত ইয়াহুনসহ একাধিক এলাকায় হামলা চালিয়েছে। এর পাল্টা জবাবে হিজবুল্লাহও ড্রোন, রকেট ও গোলাবর্ষণের মাধ্যমে ইসরায়েলি অবস্থান লক্ষ্য করে হামলা অব্যাহত রেখেছে।
লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, গত ২ মার্চ থেকে শুরু হওয়া ইসরায়েলি হামলায় এখন পর্যন্ত ২ হাজার ৯৫১ জন নিহত এবং ৮ হাজার ৯৮৮ জন আহত হয়েছেন। পরিস্থিতি এখনও অত্যন্ত উত্তেজনাপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে বলে জানানো হয়েছে, এবং যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকা সত্ত্বেও পূর্ণ শান্তি প্রতিষ্ঠা নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে।