খুলনায় সিঁধ কেটে ঘরে ঢুকে হিন্দু ওষুধ ব্যবসায়ীকে কুপিয়ে হত্যা
মেলবোর্ন, ১৮ মে- খুলনার কয়রা উপজেলায় ঘরের বেড়া কেটে ভেতরে ঢুকে ভবতোষ মৃধা খোকা (৪৫) নামের এক হিন্দু ওষুধ ব্যবসায়ীকে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। এ…
মেলবোর্ন, ১৮ মে- কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজের শিক্ষার্থী ও নাট্যকর্মী সোহাগী জাহান তনু হত্যা মামলায় নতুন তথ্য সামনে এসেছে। তনুর পোশাক থেকে সংগ্রহ করা নমুনার ডিএনএ পরীক্ষায় তিনজন পুরুষের শুক্রাণুর পাশাপাশি আরও একজনের রক্তের অস্তিত্ব পাওয়া গেছে। এর ফলে মামলায় সন্দেহভাজনের সংখ্যা বেড়ে চারজনে দাঁড়িয়েছে বলে জানিয়েছেন তদন্তসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
মামলাটির তদন্ত কর্মকর্তা পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের ঢাকার পরিদর্শক মো. তরিকুল ইসলাম রোববার রাতে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
তিনি জানান, কয়েক মাস আগে অপরাধ তদন্ত বিভাগকে চিঠি দিয়ে তনুর পোশাকে পাওয়া নমুনা সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে চাওয়া হয়েছিল। পরে প্রায় এক মাস আগে তদন্ত কর্মকর্তাকে জানানো হয়, তনুর পোশাক থেকে সংগৃহীত নমুনায় তিনজন পুরুষের শুক্রাণুর পাশাপাশি আরও একজনের রক্তের উপস্থিতি শনাক্ত হয়েছে।
তরিকুল ইসলাম বলেন, “২০১৭ সালে তনুর পোশাকে তিনজন পুরুষের শুক্রাণু পাওয়ার তথ্য প্রকাশ হয়েছিল। এখন নতুন করে আরেকজনের রক্তের অস্তিত্ব পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া গেছে। এতে মামলার তদন্তে নতুন মাত্রা যুক্ত হয়েছে।”
২০১৬ সালের ২০ মার্চ সন্ধ্যায় কুমিল্লা সেনানিবাস এলাকায় টিউশনি করতে গিয়ে নিখোঁজ হন তনু। পরে সেনানিবাসের পাওয়ার হাউসসংলগ্ন একটি ঝোপ থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। ঘটনাটি দেশজুড়ে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হয়, তাকে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছে।
ঘটনার পরদিন তনুর বাবা, কুমিল্লা ক্যান্টনমেন্ট বোর্ডের অফিস সহায়ক ইয়ার হোসেন অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে কুমিল্লা কোতোয়ালি মডেল থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন।
তবে মামলার তদন্ত শুরু থেকেই নানা প্রশ্ন ও বিতর্কের জন্ম দেয়। ওই বছর দুই দফা ময়নাতদন্ত হলেও কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ফরেনসিক বিভাগ মৃত্যুর সুনির্দিষ্ট কারণ নির্ধারণ করতে পারেনি। এতে ক্ষোভ ও হতাশা বাড়ে পরিবার ও সাধারণ মানুষের মধ্যে।
পরে তদন্তের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে ওঠে ডিএনএ পরীক্ষা। ২০১৭ সালের মে মাসে অপরাধ তদন্ত বিভাগ তনুর পোশাক থেকে সংগৃহীত নমুনা পরীক্ষা করে তিনজন পুরুষের শুক্রাণুর অস্তিত্ব পাওয়ার তথ্য জানায়। সে সময় বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় আসে।
একই বছরের অক্টোবর মাসে তনুর মায়ের সন্দেহভাজন তিন ব্যক্তিকে ঢাকা সেনানিবাসে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করে অপরাধ তদন্ত বিভাগের একটি দল। তবে তখন তাদের পরিচয় প্রকাশ করা হয়নি।
এদিকে মামলার সর্বশেষ অগ্রগতিতে চলতি বছরের ৬ এপ্রিল আদালতে একটি প্রতিবেদন জমা দেয় পিবিআই। সেখানে তিন সন্দেহভাজনের ডিএনএ নমুনা পুনরায় যাচাই বা ক্রস চেক করার অনুমতি চাওয়া হয়।
এরই ধারাবাহিকতায় গত ২১ এপ্রিল ঢাকার কেরানীগঞ্জ এলাকা থেকে সন্দেহভাজন অবসরপ্রাপ্ত সেনাসদস্য হাফিজুর রহমানকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরদিন তাকে কুমিল্লার আদালতে হাজির করে তিন দিনের রিমান্ডে নেয় পিবিআই।
জিজ্ঞাসাবাদ শেষে আদালতের নির্দেশে বর্তমানে তিনি কুমিল্লা কেন্দ্রীয় কারাগারে আছেন। আদালতে হাজির করার আগে ঢাকায় অপরাধ তদন্ত বিভাগের ফরেনসিক পরীক্ষাগারে তার নমুনা সংগ্রহ করা হয়। তদন্ত কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সেই নমুনা তনুর পোশাকে পাওয়া ডিএনএ নমুনার সঙ্গে মিলিয়ে দেখা হচ্ছে।
হাফিজুর রহমান সেনাবাহিনীর সাবেক সিনিয়র ওয়ারেন্ট অফিসার। ঘটনার সময় তিনি কুমিল্লা সেনানিবাসের সিগন্যাল ইউনিটে কর্মরত ছিলেন বলে তনুর বাবা তাকে শনাক্ত করেছেন।
দীর্ঘ নয় বছরেও আলোচিত এই হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটন না হওয়ায় ক্ষোভ রয়েছে তনুর পরিবার ও সচেতন মহলের মধ্যে। নতুন ডিএনএ তথ্য মামলার তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি আনতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au