ম্যানচেস্টার সিটির ড্রয়ে নিশ্চিত হলো আর্সেনালের শিরোপা
মেলবোর্ন, ২০ মে- ম্যানচেস্টার সিটির ড্রয়ের পর নিশ্চিত হয়ে গেছে ২২ বছর পর ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের শিরোপা জিতেছে আর্সেনাল। বোর্নমাউথের মাঠে ১-১ গোলে ড্র করে…
মেলবোর্ন, ২০ মে- যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সমঝোতায় পৌঁছাতে ব্যর্থ হলে আগামী দুই থেকে তিন দিনের মধ্যেই ইরানের ওপর নতুন করে হামলা চালানো হতে পারে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি বলেছেন, যুদ্ধ থামাতে একটি চুক্তিতে পৌঁছানোর জন্য তেহরানের হাতে খুব অল্প সময় রয়েছে। তা না হলে ইরানকে আবারও সামরিক হামলার মুখোমুখি হতে হবে।
মঙ্গলবার (১৯ মে) রাতে কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরা এক লাইভ প্রতিবেদনে ট্রাম্পের এ বক্তব্য প্রকাশ করে। প্রতিবেদনে বলা হয়, সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে উত্তেজনা দ্রুত বাড়ছে এবং কূটনৈতিক প্রচেষ্টা সত্ত্বেও উভয় পক্ষের অবস্থান আরও কঠোর হয়ে উঠছে।
ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে এক বার্তায় লেখেন, ‘ইরানের সময় ফুরিয়ে আসছে। তাদের দ্রুত পদক্ষেপ নিতে হবে, নইলে আর কিছুই অবশিষ্ট থাকবে না। সময় অত্যন্ত মূল্যবান।’
এদিকে ইরানও পাল্টা কঠোর অবস্থান নিয়েছে। ইরানের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা বলেছেন, যেকোনো মুহূর্তে ব্যাপক হামলার মার্কিন হুমকির জবাব দৃঢ়ভাবে দেওয়া হবে এবং ইরান যেকোনো সামরিক আগ্রাসন মোকাবিলার জন্য প্রস্তুত রয়েছে।
ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান বলেছেন, সংলাপ মানেই আত্মসমর্পণ নয়। তেহরান মর্যাদা, সার্বভৌমত্ব ও জাতির অধিকার রক্ষার মনোভাব নিয়েই আলোচনায় অংশ নিচ্ছে।
বর্তমান উত্তেজনার মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যোগাযোগ বজায় রাখতে সক্রিয় ভূমিকা রাখছে পাকিস্তান। তবে দুই পক্ষের ক্রমবর্ধমান অনমনীয় অবস্থান ইসলামাবাদের মধ্যস্থতার প্রচেষ্টাকে কঠিন করে তুলেছে।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যৌথভাবে ইরানে সামরিক অভিযান চালায়। পরে ৮ এপ্রিল যুদ্ধবিরতি কার্যকর হলে হামলা-পাল্টা হামলা বন্ধ হয়। কিন্তু সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে আবারও পরিস্থিতি অস্থিতিশীল হয়ে উঠেছে।
এ অবস্থায় পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহসিন নাকভি গত শনিবার দুই দিনের সফরে তেহরান যান। সফরে তিনি প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এস্কান্দার মোমেনি এবং পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফের সঙ্গে বৈঠক করেন। গালিবাফ বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে শান্তি আলোচনায় ইরানের প্রধান আলোচক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছেন।
বিশ্লেষকদের ধারণা, যুদ্ধবিরতি পুরোপুরি ভেঙে পড়া ঠেকাতেই পাকিস্তান এই কূটনৈতিক উদ্যোগ নিয়েছে। তবে একই সময়ে ট্রাম্পের কঠোর বার্তা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।
সপ্তাহের শেষের দিকে ট্রাম্প জাতীয় নিরাপত্তা দলের শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গেও বৈঠক করেন। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন ভাইস প্রেসিডেন্ট জে ডি ভ্যান্স, পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও, সিআইএ পরিচালক জন র্যাটক্লিফ, প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ এবং বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ।
তবে তেহরানের বক্তব্য ওয়াশিংটনের অবস্থানের সম্পূর্ণ বিপরীত। ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই বলেছেন, ট্রাম্প প্রকাশ্যে ইরানের অবস্থানকে অগ্রহণযোগ্য বললেও পাকিস্তানি মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র নতুন সংশোধিত প্রস্তাব পাঠিয়েছে। ইরানও সেই একই চ্যানেলে নিজেদের জবাব দিয়েছে।
ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা তাসনিম জানিয়েছে, ওয়াশিংটনের কাছে পৌঁছে দেওয়ার জন্য পাকিস্তানের হাতে ১৪ দফা প্রস্তাব দিয়েছে তেহরান।
এদিকে আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতিও আরও নাজুক হয়ে উঠছে। সপ্তাহান্তে সংযুক্ত আরব আমিরাতের বারাকাহ পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের বাইরে একটি বিদ্যুৎ জেনারেটরে ড্রোন হামলা হয়। অন্যদিকে সৌদি আরব জানিয়েছে, তারা ইরাকের আকাশসীমা থেকে ছোড়া তিনটি ড্রোন ভূপাতিত করেছে।
পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বারাকাহ বিদ্যুৎকেন্দ্রে হামলার নিন্দা জানিয়ে একে আন্তর্জাতিক আইনের গুরুতর লঙ্ঘন বলে উল্লেখ করেছে এবং সব পক্ষকে সর্বোচ্চ সংযম প্রদর্শনের আহ্বান জানিয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, ৪০ দিন আগে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হলেও কূটনৈতিক পরিস্থিতি দ্রুত অবনতি হয়েছে। দুই পক্ষই বিভিন্ন প্রস্তাব বিনিময় করলেও একে অপরের শর্ত প্রত্যাখ্যান করছে এবং সামরিক হুমকি আরও বাড়াচ্ছে।
যুদ্ধবিরতির পর পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় ওয়াশিংটন ও তেহরান আলোচনা চালিয়ে গেলেও মূল বিরোধ থেকে গেছে পারমাণবিক কর্মসূচি ও নিরাপত্তা ইস্যুতে।
গত ২৮ এপ্রিল ইরান ১৪ দফার একটি পাল্টা প্রস্তাব দেয়। এতে ৩০ দিনের মধ্যে স্থায়ী যুদ্ধবিরতি, সীমান্তসংলগ্ন এলাকা থেকে মার্কিন বাহিনী প্রত্যাহার, নৌ অবরোধ প্রত্যাহার, জব্দ সম্পদ ফেরত, যুদ্ধের ক্ষতিপূরণ এবং হরমুজ প্রণালি পরিচালনায় নতুন ব্যবস্থার দাবি জানানো হয়। তবে এতে পারমাণবিক কর্মসূচির বিষয়টি ইচ্ছাকৃতভাবে বাদ রাখা হয়।
জবাবে মে মাসের শুরুতে যুক্তরাষ্ট্র নিজেদের প্রস্তাব দেয়। ওয়াশিংটনের দাবি অনুযায়ী, ইরানকে ২০ বছরের জন্য ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ বন্ধ রাখতে হবে। পাশাপাশি প্রায় ৪০০ কেজি ৬০ শতাংশ সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুত বিদেশে পাঠাতে হবে এবং নাতাঞ্জ, ইস্পাহান ও ফোরদোর পারমাণবিক স্থাপনা ভেঙে ফেলতে হবে।
ইরান পরে জানায়, কিছু সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম তৃতীয় কোনো দেশে পাঠাতে তারা রাজি থাকলেও স্থায়ী যুদ্ধবিরতির আগে পারমাণবিক আলোচনা শুরু করবে না। কিন্তু ট্রাম্প সেই প্রস্তাবকে ‘সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য’ বলে প্রত্যাখ্যান করেন।
ইসমাইল বাঘাই বলেছেন, পারমাণবিক অস্ত্র বিস্তার রোধ চুক্তির অধীনে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের অধিকার ইরানের রয়েছে এবং এ বিষয়ে কোনো আপস করা হবে না।
ইরান আলোচনায় বসার জন্য পাঁচটি পূর্বশর্তও দিয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে লেবাননসহ সব রণাঙ্গনে যুদ্ধ বন্ধ, নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার, জব্দ সম্পদ ফেরত, যুদ্ধের ক্ষতিপূরণ এবং হরমুজ প্রণালির ওপর ইরানের সার্বভৌমত্বের স্বীকৃতি।
তেহরানভিত্তিক আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষক জাভাদ হেইরান-নিয়া বলেছেন, দুই পক্ষের বিরোধ শুধু কৌশলগত নয়, বরং কাঠামোগত। তাঁর মতে, যুক্তরাষ্ট্র পারমাণবিক আলোচনার সময় নৌ অবরোধকে চাপ প্রয়োগের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করতে চায়, আর ইরান সেই পরিস্থিতি এড়াতে আগে হরমুজ ইস্যুর সমাধান চাচ্ছে।
তিনি বলেন, ২০১৮ সালে যুক্তরাষ্ট্র পারমাণবিক চুক্তি থেকে বেরিয়ে যাওয়ার পর থেকেই ইরান দীর্ঘমেয়াদি নিরাপত্তা নিশ্চয়তা চাইছে। অন্যদিকে ওয়াশিংটন সামরিক ও অর্থনৈতিক চাপের মাধ্যমে সর্বোচ্চ ছাড় আদায়ের চেষ্টা করছে।
কাতারের জর্জটাউন বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের অধ্যাপক মেহরান কামরাভা বলেছেন, যুদ্ধবিরতি ভেঙে গেলেও পাকিস্তানের গুরুত্ব কমবে না। তাঁর মতে, ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে যোগাযোগের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম হিসেবেই ইসলামাবাদ টিকে থাকবে।
তবে জাভাদ হেইরান-নিয়া মনে করেন, ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র যদি ওমান বা কাতারের মতো বিকল্প চ্যানেলে আলোচনা শুরু করে, তাহলে পাকিস্তানের ভূমিকা দুর্বল হয়ে পড়তে পারে।
এর মধ্যেই সামরিক উত্তেজনাও দ্রুত বাড়ছে। মার্কিন সংবাদমাধ্যম নিউইয়র্ক টাইমসের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হরমুজ প্রণালির আশপাশে থাকা ইরানের ৩৩টি ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটির মধ্যে ৩০টিই আবার সক্রিয় হয়েছে। একই সঙ্গে দেশটির ক্ষেপণাস্ত্র মজুত যুদ্ধপূর্ব অবস্থার প্রায় ৭০ শতাংশে পুনরুদ্ধার হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
অন্যদিকে সিএনএন জানিয়েছে, মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তর পেন্টাগন সম্ভাব্য হামলার লক্ষ্যবস্তুর তালিকা প্রস্তুত করেছে। এতে ইরানের জ্বালানি ও অবকাঠামো স্থাপনাও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আবুল ফাজল শেকারচি গত ১৭ মে সতর্ক করে বলেন, যুক্তরাষ্ট্র আবার হামলা চালালে ইরান আরও বিধ্বংসী পাল্টা হামলা চালাবে।
বিশ্লেষকদের আশঙ্কা, বর্তমান সংকট আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি বিপজ্জনক পর্যায়ে পৌঁছেছে। তাদের মতে, সরাসরি নৌ সংঘর্ষ শুরু হলে মাত্র ৪৮ থেকে ৭২ ঘণ্টার মধ্যেই পরিস্থিতি বড় ধরনের আঞ্চলিক যুদ্ধে রূপ নিতে পারে।
সূত্রঃ আল জাজিরা
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au