ম্যানচেস্টার সিটির ড্রয়ে নিশ্চিত হলো আর্সেনালের শিরোপা
মেলবোর্ন, ২০ মে- ম্যানচেস্টার সিটির ড্রয়ের পর নিশ্চিত হয়ে গেছে ২২ বছর পর ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের শিরোপা জিতেছে আর্সেনাল। বোর্নমাউথের মাঠে ১-১ গোলে ড্র করে…
মেলবোর্ন, ২০ মে- বাংলাদেশে যুদ্ধজাহাজ মোতায়েনের পরিকল্পনা করছে যুক্তরাষ্ট্র। এ লক্ষ্যে ওয়াশিংটন ও ঢাকার মধ্যে প্রতিরক্ষা সহযোগিতা চুক্তি স্বাক্ষরের প্রক্রিয়া চলছে বলে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। এই চুক্তি কার্যকর হলে বঙ্গোপসাগরে মার্কিন নৌবাহিনীর উপস্থিতি আরও জোরদার হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
মেরিটাইম ইনসাইটের প্রতিবেদন অনুযায়ী, চুক্তির আওতায় যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনীর যুদ্ধজাহাজগুলো বাংলাদেশের সমুদ্রবন্দর ও বিমানবন্দর ব্যবহার করতে পারবে। বিশেষ করে রক্ষণাবেক্ষণ, জ্বালানি সংগ্রহ এবং সরঞ্জাম পুনরায় সরবরাহের কাজে চট্টগ্রাম ও মাতারবাড়ী বন্দর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এ ছাড়া যুক্তরাষ্ট্র ও বাংলাদেশের মধ্যে গোয়েন্দা তথ্য আদান-প্রদানেও সহযোগিতা বাড়ানো হবে। এর ফলে বঙ্গোপসাগর ও ভারত মহাসাগরজুড়ে মার্কিন নৌবাহিনীর কার্যক্রম আরও বিস্তৃত হতে পারে বলে বিশ্লেষকদের ধারণা।
প্রতিবেদনগুলোতে বলা হয়েছে, চলতি বছরের ৫ থেকে ৭ মে পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য প্রতিনিধির দপ্তরের কর্মকর্তারা ঢাকা সফর করেন। সফরে তারা দুই দেশের মধ্যে স্বাক্ষরিত পারস্পরিক বাণিজ্য চুক্তির বাস্তবায়ন নিয়ে আলোচনা করেন।
চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে চূড়ান্ত হওয়া ওই চুক্তির আওতায় বাংলাদেশের কিছু তৈরি পোশাক পণ্যের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের শুল্ক কমিয়ে ১৯ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়েছে। একই সঙ্গে বাংলাদেশে উৎপাদিত কিছু বস্ত্র ও পোশাকপণ্যের ক্ষেত্রে শূন্য পারস্পরিক শুল্ক সুবিধাও রাখা হয়েছে, যদি সেগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রে উৎপাদিত তুলা ও কৃত্রিম তন্তু ব্যবহার করা হয়।

চট্টগ্রাম বন্দর। ছবিঃ সংগৃহীত
এ উন্নয়নকে যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘমেয়াদি ১৫ বছরের কৌশলগত পরিকল্পনার অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে। এতে বাংলাদেশে মার্কিন প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম, কৃষিপণ্য এবং রাসায়নিক পণ্যের আমদানি বৃদ্ধির বিষয়ও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, এই চুক্তি বাস্তবায়িত হলে দক্ষিণ এশিয়া ও বঙ্গোপসাগরীয় অঞ্চলের শক্তির ভারসাম্যে পরিবর্তন আসতে পারে। এতদিন এই অঞ্চলে ভারত ও চীনের প্রভাব সবচেয়ে বেশি ছিল। তবে যুক্তরাষ্ট্রের সক্রিয় উপস্থিতি নতুন ভূরাজনৈতিক বাস্তবতা তৈরি করতে পারে।
বাংলাদেশ ঐতিহ্যগতভাবে চীনের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক বজায় রেখে এসেছে। বিশেষ করে বন্দর অবকাঠামো উন্নয়ন এবং প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম সংগ্রহে চীনের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশের প্রায় ৭০ শতাংশ অস্ত্র চীন থেকে আসে।
এ পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্রের বাড়তি সামরিক ও কৌশলগত সম্পৃক্ততা ভারত ও চীনের উভয়ের জন্যই গুরুত্বপূর্ণ বার্তা বহন করছে বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষকেরা।
সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও একসময় অভিযোগ করেছিলেন, যুক্তরাষ্ট্র বঙ্গোপসাগরের সেন্টমার্টিন দ্বীপে সামরিক ঘাঁটি স্থাপনের অনুমতি দিতে তার ওপর চাপ সৃষ্টি করেছিল। তিনি দাবি করেছিলেন, ওই প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় তাকে রাজনৈতিক মূল্য দিতে হয়েছে। যদিও যুক্তরাষ্ট্র তখন এসব অভিযোগকে মিথ্যা বলে প্রত্যাখ্যান করেছিল।
শেখ হাসিনা আরও বলেছিলেন, ক্ষমতায় টিকে থাকার বিনিময়ে দ্বীপটি ব্যবহারের অনুমতি চাওয়া হয়েছিল এবং এর লক্ষ্য ছিল ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাব আরও বিস্তৃত করা।

মার্কিন নৌবাহিনীর বিমানবাহী রণতরী ইউএসএস ফোর্ড ক্যারিবীয় সাগরে মোতায়েন রয়েছে, যেখানে রয়েছে অসংখ্য উন্নত যুদ্ধবিমান।
(US Navy: Seaman Abigail Reyes via Reuters)
ভূরাজনৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকে বঙ্গোপসাগর ভারতের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশাল উপকূলরেখা এবং সামুদ্রিক কৌশলগত অবস্থানের কারণে এই অঞ্চল ভারতের নিরাপত্তা ও প্রভাব বিস্তারের ক্ষেত্রে বড় ভূমিকা রাখে।
দীর্ঘ কয়েক দশক ধরে বঙ্গোপসাগর বৈশ্বিক শক্তিগুলোর সরাসরি নৌ প্রতিযোগিতা থেকে তুলনামূলকভাবে দূরে ছিল। তবে এখন যুক্তরাষ্ট্রের সক্রিয় সম্পৃক্ততার ফলে সেই পরিস্থিতিতে পরিবর্তন আসতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
ভারতেরও এই অঞ্চলে একাধিক নৌঘাঁটি রয়েছে। এর মধ্যে পারমাণবিক সাবমেরিন ঘাঁটিও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। ফলে বঙ্গোপসাগরকে কেন্দ্র করে আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক শক্তিগুলোর প্রতিযোগিতা ভবিষ্যতে আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন বিশ্লেষকেরা।
সূত্রঃ মেরিটাইম ইনসাইট
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au