কালবৈশাখীর তাণ্ডবে কর্ণফুলীতে নৌকাডুবি: খোঁজ মিলছে না নববধূ কনিকা দাসের
মেলবোর্ন, ২৮ মে- চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়ায় কর্ণফুলী নদীতে আকস্মিক কালবৈশাখী ঝড়ের কবলে পড়ে নৌকাডুবির ঘটনায় কনিকা দাশ (১৯) নামে এক নববধূ নিখোঁজ হয়েছেন। তবে স্থানীয় চার…
মেলবোর্ন, ২৭ মে- বাংলাদেশে কর শনাক্তকরণ নম্বর (টিআইএন)ধারীর সংখ্যা বাড়লেও আয়কর দিচ্ছেন না বিপুলসংখ্যক মানুষ। কানাডাভিত্তিক অর্থনীতিবিদ ড. খান জহিরুল ইসলাম জানিয়েছেন, দেশে বর্তমানে এক কোটি ২৮ লাখ টিআইএনধারীর মধ্যে প্রায় ৭২ লাখ মানুষ আয়করই জমা দেন না। এছাড়া প্রায় ৪৬ লাখ ব্যক্তি আয়কর রিটার্নও দাখিল করেন না। ফলে কার্যত খুব অল্পসংখ্যক মানুষই নিয়মিত কর দিচ্ছেন, যা দেশের রাজস্ব ব্যবস্থার জন্য বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
সম্প্রতি বাংলাদেশে রাজস্ব খাত, ব্যাংকিং খাত সংস্কার ও জাতীয় বাজেট নিয়ে আয়োজিত এক উচ্চপর্যায়ের সেমিনারে এসব তথ্য তুলে ধরেন ইউনিভার্সিটি অব ব্রিটিশ কলম্বিয়ার শিক্ষক ও অর্থনীতিবিদ ড. খান জহিরুল ইসলাম।
তিনি বলেন, বাংলাদেশের ট্যাক্স-টু-জিডিপি অনুপাত বিশ্বের সবচেয়ে কম দেশগুলোর মধ্যে একটি। বর্তমানে দেশে এই হার মাত্র ৬ দশমিক ৬ শতাংশ। অথচ উন্নত দেশগুলোতে তা ২৫ থেকে ৩৫ শতাংশের মধ্যে থাকে। প্রতিবেশী ভারত প্রায় ১৮ শতাংশ এবং ভিয়েতনাম ১৯ শতাংশ কর আদায় করতে সক্ষম হলেও বাংলাদেশ অনেক পিছিয়ে রয়েছে।
ড. খান জহিরুল ইসলাম বলেন, যারা আয়কর রিটার্ন জমা দেন, তাদের মধ্যেও প্রায় ৩০ লাখ ব্যক্তি কোনো কর দেন না, কারণ তাদের আয় করযোগ্য সীমার নিচে। সব মিলিয়ে দেশে কার্যকরভাবে কর দেন মাত্র ১৫ থেকে ১৬ লাখ মানুষ। তার ভাষায়, “বাংলাদেশে যাদের করযোগ্য আয় আছে, তাদের মাত্র ৪ শতাংশ মানুষ কর দিচ্ছেন। এই হার বাড়িয়ে অন্তত ৫০ শতাংশে নিতে হবে।”
তিনি মনে করেন, দেশের রাজস্ব খাতকে শক্তিশালী করতে হলে করের আওতা বাড়ানোর পাশাপাশি জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) সংস্কার জরুরি। তিনি অভিযোগ করেন, এনবিআরের ভেতরে দুর্নীতি দীর্ঘদিনের বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। গত বছর এনবিআরের তিন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ১৪৬ কোটি টাকার দুর্নীতির অভিযোগ ওঠার বিষয়টিও উল্লেখ করেন তিনি।
অর্থনীতিবিদ ড. খান জহিরুল ইসলাম বলেন, কর ফাঁকি, জালিয়াতি ও অনিয়ম বন্ধ করতে হলে রাজস্ব প্রশাসনে জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে উৎসে কর কর্তনের পরিধি বাড়ানো এবং কর আদায়ে প্রযুক্তিনির্ভর ব্যবস্থা চালুর ওপরও গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
বিশেষজ্ঞদের মতে, দেশের অর্থনীতি টেকসই করতে এবং উন্নয়ন ব্যয় নির্বাহে কর আদায় বাড়ানোর বিকল্প নেই। তবে কর ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা ও আস্থা তৈরি না হলে সাধারণ মানুষকে কর প্রদানে উৎসাহিত করা কঠিন হয়ে পড়বে।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au