মেলবোর্ন,০৬জুন-ইরানের গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় উৎসব ঈদুল গাদির উপলক্ষে দুই হাজারের বেশি দণ্ডপ্রাপ্ত বন্দির সাজা মওকুফ করেছেন দেশটির সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ সাইয়্যেদ মোজতবা খামেনি। শুক্রবার ইরানের বিচার বিভাগ এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।
বিচার বিভাগের প্রধান গোলামহোসেইন মোহসেনি-এজেইয়ের সুপারিশের ভিত্তিতে এই সাধারণ ক্ষমা অনুমোদন করা হয়। এর আওতায় আদালত ও সামরিক ট্রাইব্যুনালে বিভিন্ন অপরাধে দণ্ডিত বন্দিদের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
বিচার বিভাগের কর্মকর্তা আলী মোজাফারি জানান, ক্ষমা পাওয়ার জন্য কয়েকটি নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ করতে হয়েছে বন্দিদের। তাঁদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যক্তিগত বাদী থাকা যাবে না, কার্যকর অপরাধমূলক রেকর্ড থাকা চলবে না এবং সাজাভোগের একটি অংশ সম্পন্ন করার পর সংশোধনের স্পষ্ট লক্ষণ দেখাতে হবে।
তিনি বলেন, বন্দিদের বয়স, পারিবারিক অবস্থা, সামাজিক পরিস্থিতি এবং অপরাধের ধরনও বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে। বিচার বিভাগের নীতিমালা অনুযায়ী সাধারণত সাজা সম্পূর্ণ কার্যকর করা হয়। তবে কোনো বন্দি সংশোধিত হয়েছেন বলে প্রমাণ পাওয়া গেলে এবং তাঁর কারাবাস অব্যাহত রাখার প্রয়োজন না থাকলে ক্ষমা বা সাজা কমানোর সুযোগ রাখা হয়।
আলী মোজাফারি আরও জানান, ক্ষমাপ্রাপ্তদের অধিকাংশই দ্রুত মুক্তি পাবেন। তবে জাতীয় নিরাপত্তাবিরোধী কর্মকাণ্ডে জড়িত ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে কোনো ধরনের ছাড় দেওয়া হয়নি।
তিনি স্পষ্ট করে বলেন, রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তাবিরোধী অপরাধ, গুপ্তচরবৃত্তি, অভ্যন্তরীণ ও বৈদেশিক জাতীয় নিরাপত্তার বিরুদ্ধে কর্মকাণ্ড এবং জননিরাপত্তা হুমকির মুখে ফেলার মতো অপরাধে দণ্ডিত ব্যক্তিরা এই সাধারণ ক্ষমার আওতার বাইরে থাকবেন।
বর্তমান আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরান বর্তমানে বৈশ্বিক চাপ এবং যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে চলমান উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির মুখোমুখি। তাই জাতীয় নিরাপত্তা সংশ্লিষ্ট অপরাধের ক্ষেত্রে সরকার সর্বোচ্চ কঠোর অবস্থান বজায় রেখেছে।
এ ছাড়া যেসব মামলায় ব্যক্তিগত বাদী রয়েছেন, তাঁদের সম্মতি ছাড়া কোনো আসামির সাজা মওকুফ বা কমানো হবে না বলেও জানান তিনি।
ইরানে ধর্মীয় ও জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ দিবসগুলো উপলক্ষে নিয়মিতভাবেই বন্দিদের জন্য সাধারণ ক্ষমা বা সাজা হ্রাসের ঘোষণা দেওয়া হয়। এবারও ঈদুল গাদির উপলক্ষে ঘোষিত এই পদক্ষেপকে মানবিক ও পুনর্বাসনমূলক উদ্যোগ হিসেবে দেখা হচ্ছে।