ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে খাদে বাস, নিহত ৪, আহত অন্তত ১০
মেলবোর্ন, ৮ জুন- ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল উপজেলায় ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় চারজন নিহত হয়েছেন। নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে একটি যাত্রীবাহী লোকাল বাস সড়কের পাশের গভীর খাদে উল্টে…
মেলবোর্ন, ৮ জুন- ভারতের পশ্চিমবঙ্গের সাবেক ক্ষমতাসীন দল তৃণমূল কংগ্রেসে নতুন করে ভাঙনের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। দলের রাজ্যসভার সদস্য সুখেন্দুশেখর রায় তৃণমূলের সদস্যপদ থেকে পদত্যাগের ঘোষণা দিয়েছেন। একই সঙ্গে তিনি রাজ্যসভার সদস্য পদ থেকেও ইস্তফা দিয়েছেন বলে জানিয়েছেন।
সোমবার দিল্লি থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে দল ছাড়ার ঘোষণা দিয়ে তিনি দলের বিরুদ্ধে দুর্নীতি, প্রশাসনিক ব্যর্থতা এবং আরজি কর মেডিকেল কলেজের আলোচিত ধর্ষণ ও হত্যাকাণ্ডের ঘটনাকে কেন্দ্র করে একাধিক অভিযোগ তোলেন।
সোমবার বিজেপিবিরোধী জোট ‘ইন্ডিয়া’র গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে যোগ দিতে তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় দিল্লিতে অবস্থান করছিলেন। ঠিক সেই সময়েই সুখেন্দুশেখরের পদত্যাগের ঘোষণায় দলটি রাজনৈতিকভাবে বড় ধাক্কার মুখে পড়ে।
দল ছাড়ার কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে সুখেন্দুশেখর রায় বলেন, আরজি কর মেডিকেল কলেজের ঘটনাকে কেন্দ্র করে তিনি প্রকাশ্যে দলের অবস্থানের সমালোচনা করেছিলেন। ওই ঘটনার পর থেকেই তিনি দল ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন, তবে উপযুক্ত সময়ের অপেক্ষায় ছিলেন। তাঁর অভিযোগ, ঘটনাটির তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ নষ্ট করার ক্ষেত্রে কিছু পুলিশ কর্মকর্তার ভূমিকা ছিল এবং তিনি তাদের বিরুদ্ধে অভ্যন্তরীণ তদন্তের দাবি জানিয়েছিলেন। এর পর থেকেই দলীয় পরিসরে তিনি ক্রমশ কোণঠাসা হয়ে পড়েন।
পদত্যাগপত্রে শিক্ষা, স্বাস্থ্যসহ বিভিন্ন খাতে ব্যাপক দুর্নীতির অভিযোগ তুলে সুখেন্দুশেখর দাবি করেন, দলের ভেতরে অনিয়ম ও দুর্নীতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছিল যে সাধারণ মানুষের মধ্যে ক্ষোভ বাড়ছিল। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, এই পরিস্থিতির কারণে দলের রাজনৈতিক ক্ষয় অনিবার্য হয়ে উঠেছিল। তবে তিনি একই সঙ্গে উল্লেখ করেন, দলের সব নেতা অসৎ নন; বরং অনেক সৎ নেতা ও কর্মী দলীয় কাঠামোর মধ্যে উপেক্ষিত ও কোণঠাসা অবস্থায় রয়েছেন।
তিনি আরও দাবি করেন, দলের জাতীয় পর্যায়ের নেতাদের আয়-ব্যয়ের হিসাব খতিয়ে দেখা প্রয়োজন এবং দুর্নীতির অভিযোগগুলোর স্বচ্ছ তদন্ত হওয়া উচিত।
এদিকে সুখেন্দুশেখরের পদত্যাগের পর তৃণমূলের আরেক রাজ্যসভার সদস্য কোয়েল মল্লিককে ঘিরেও রাজনৈতিক মহলে জল্পনা শুরু হয়েছে। তিনি দল ছাড়তে পারেন বলে বিভিন্ন মহলে আলোচনা থাকলেও এখন পর্যন্ত এ বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসেনি।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূলের প্রত্যাশার তুলনায় খারাপ ফলাফলের পর থেকেই দলের অভ্যন্তরে অসন্তোষ বাড়ছিল। সাম্প্রতিক সময়ে রাজ্য বিধানসভাতেও নেতৃত্ব নিয়ে মতবিরোধ প্রকাশ্যে এসেছে। বিরোধী দলনেতা নির্বাচনকে কেন্দ্র করে কয়েকজন বিধায়কের প্রকাশ্য আপত্তি দলীয় বিভাজনের ইঙ্গিত দেয়।
এমন পরিস্থিতিতে দিল্লিতে ‘ইন্ডিয়া’ জোটের বৈঠকের দিনই সুখেন্দুশেখরের পদত্যাগ তৃণমূলের জন্য অস্বস্তিকর পরিস্থিতি তৈরি করেছে। রাজনৈতিক মহলে এখন আলোচনা চলছে, এই পদত্যাগ বিচ্ছিন্ন ঘটনা নাকি দলের সংসদীয় শাখায় আরও বড় ধরনের ভাঙনের সূচনা। যদিও এ বিষয়ে তৃণমূল কংগ্রেসের শীর্ষ নেতৃত্বের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au