তৃণমূলে নতুন সংকট, রাজ্যসভা থেকে পদত্যাগ করলেন সুখেন্দুশেখর
মেলবোর্ন, ৮ জুন- ভারতের পশ্চিমবঙ্গের সাবেক ক্ষমতাসীন দল তৃণমূল কংগ্রেসে নতুন করে ভাঙনের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। দলের রাজ্যসভার সদস্য সুখেন্দুশেখর রায় তৃণমূলের সদস্যপদ থেকে পদত্যাগের…
মেলবোর্ন, ৮ জুন- ফিলিপাইনের দক্ষিণাঞ্চলীয় উপকূলে আঘাত হানা ৭ দশমিক ৮ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্পে নিহতের সংখ্যা বেড়ে তিনজনে দাঁড়িয়েছে। এ ঘটনায় অন্তত পাঁচজন আহত হয়েছেন বলে দেশটির পুলিশ নিশ্চিত করেছে। সোমবার স্থানীয় সময় সকাল ৭টা ৩৭ মিনিটে সংঘটিত এ ভূমিকম্পে বিস্তীর্ণ এলাকা কেঁপে ওঠে এবং বিভিন্ন স্থানে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া গেছে।
ভূমিকম্পের পরপরই সুনামির আশঙ্কায় সতর্কতা জারি করা হয়, যা এখনো বহাল রয়েছে। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সমুদ্রপৃষ্ঠে অস্বাভাবিক পরিবর্তন এবং ছোট আকারের ঢেউ রেকর্ড হওয়ায় পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, ভূমিকম্পে অন্তত ৩৭টি ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, যার অধিকাংশই বাণিজ্যিক স্থাপনা। সবচেয়ে বেশি ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থলের কাছাকাছি অবস্থিত জেনারেল সান্তোস সিটিতে। সেখানে কয়েকটি বহুতল ভবনের অংশ ধসে পড়েছে এবং বিভিন্ন সড়কে বড় বড় ফাটল দেখা দিয়েছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে জনপ্রিয় ফাস্টফুড প্রতিষ্ঠান ‘জলিবি’র অন্তত দুটি শাখা ভবন ক্ষতিগ্রস্ত বা আংশিক ধসে পড়ার দৃশ্য দেখা গেছে। ভূমিকম্পের সময় আতঙ্কিত মানুষ ঘরবাড়ি ও কর্মস্থল ছেড়ে খোলা জায়গা ও নিরাপদ আশ্রয়ের দিকে ছুটে যান।
দেশটির ভূমিকম্প পর্যবেক্ষণ সংস্থা ফিলিপাইন ইনস্টিটিউট অব ভলকানোলজি অ্যান্ড সিসমোলজি (ফিভলকস) জানিয়েছে, মূল ভূমিকম্পের পর অন্তত ১৬টি আফটারশক বা পরাঘাত অনুভূত হয়েছে। এসব পরাঘাতের মাত্রা ছিল ১ দশমিক ৩ থেকে ৬ দশমিক ৭ পর্যন্ত। ফলে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় বাসিন্দাদের মধ্যে এখনও আতঙ্ক বিরাজ করছে।
ফিভলকস জানিয়েছে, শক্তিশালী পরাঘাতের আশঙ্কা পুরোপুরি শেষ হয়নি। তাই ক্ষতিগ্রস্ত ভবনে প্রবেশের আগে সতর্কতা অবলম্বন এবং স্থানীয় প্রশাসনের নির্দেশনা মেনে চলার আহ্বান জানানো হয়েছে।
এদিকে সুনামি সতর্কতা কেন্দ্র জানিয়েছে, ভূমিকম্পের পর সমুদ্রপৃষ্ঠে কয়েক সেন্টিমিটার উচ্চতার ঢেউ ও পানির স্তরে অস্বাভাবিক ওঠানামা লক্ষ্য করা গেছে। যদিও এখন পর্যন্ত বড় ধরনের জলোচ্ছ্বাসের খবর পাওয়া যায়নি, তবুও ঝুঁকি পুরোপুরি কেটে না যাওয়ায় সতর্কতা জারি রাখা হয়েছে।
ফিলিপাইন রেড ক্রস জানিয়েছে, উদ্ধার ও ত্রাণকর্মীরা সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় কাজ করছেন। ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় উদ্ধার তৎপরতার পাশাপাশি ভবনগুলোর কাঠামোগত নিরাপত্তা যাচাই করা হচ্ছে। আহতদের চিকিৎসা নিশ্চিত করতে হাসপাতালগুলোকে প্রস্তুত রাখা হয়েছে।
স্থানীয় প্রশাসন উপকূলীয় এলাকার বাসিন্দাদের সমুদ্রসৈকত, নদীমোহনা ও নিচু এলাকা এড়িয়ে চলার নির্দেশ দিয়েছে। একই সঙ্গে সম্ভাব্য ঝুঁকি মোকাবিলায় উঁচু ও নিরাপদ স্থানে অবস্থান করতে বলা হয়েছে।
ফিলিপাইন প্রশান্ত মহাসাগরীয় ‘রিং অব ফায়ার’ অঞ্চলে অবস্থিত হওয়ায় দেশটিতে প্রায়ই ভূমিকম্প ও আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাত ঘটে। তবে সাম্প্রতিক এই ভূমিকম্পকে সাম্প্রতিক বছরগুলোর অন্যতম শক্তিশালী ভূমিকম্প হিসেবে বিবেচনা করছেন বিশেষজ্ঞরা। পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে দেশটির দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সংস্থাগুলো সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au