বাংলা-ইতিহাসসহ ৬ বিষয়ের অনার্স বন্ধের কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি
মেলবোর্ন, ৯ জুন- বাংলা, ইতিহাস, দর্শনসহ কয়েকটি বিষয়ের অনার্স কোর্স বন্ধ হতে যাচ্ছে বলে বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত খবরে বিভ্রান্তি তৈরি হলেও এ ধরনের কোনো সিদ্ধান্ত…
মেলবোর্ন, ৯ জুন- ঢাকার এক সাধারণ মধ্যবিত্ত পরিবার থেকে উঠে এসে বিশ্ব প্রযুক্তি খাতের অন্যতম সফল উদ্যোক্তায় পরিণত হয়েছেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত অস্ট্রেলীয় ব্যবসায়ী রবিন খুদা। সীমিত সামর্থ্য, কঠোর পরিশ্রম, দূরদর্শী চিন্তা এবং ঝুঁকি নেওয়ার সাহসের মাধ্যমে তিনি আজ আন্তর্জাতিক ব্যবসা অঙ্গনের পরিচিত এক নাম। মাত্র ৪৪ বছর বয়সেই তিনি অস্ট্রেলিয়ার শীর্ষ ধনকুবেরদের তালিকায় জায়গা করে নিয়েছেন।
রবিন খুদার জন্ম ও বেড়ে ওঠা ঢাকায়। তিনি শের-ই-বাংলা নগর সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয় থেকে মাধ্যমিক এবং মিরপুরের এসওএস হারম্যান মেইনার কলেজ থেকে উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা সম্পন্ন করেন। ছোটবেলা থেকেই পড়াশোনার পাশাপাশি ব্যবসা ও অর্থনীতি বিষয়ে তার আগ্রহ ছিল প্রবল।
১৯৯৭ সালে উচ্চশিক্ষার উদ্দেশ্যে অস্ট্রেলিয়ায় পাড়ি জমান রবিন। নতুন দেশে গিয়ে তাকে শুরু করতে হয় সংগ্রামের জীবন। সিডনি প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে হিসাববিজ্ঞান বিষয়ে পড়াশোনার পাশাপাশি বিভিন্ন খণ্ডকালীন কাজ করে নিজের খরচ চালাতেন। পরবর্তীতে তিনি যুক্তরাজ্যের ম্যানচেস্টার বিজনেস স্কুল থেকে ফাইন্যান্স বিষয়ে এমবিএ ডিগ্রি অর্জন করেন।
শিক্ষাজীবন শেষে অস্ট্রেলিয়ার বিভিন্ন তথ্যপ্রযুক্তি ও টেলিযোগাযোগ প্রতিষ্ঠানে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন রবিন। জাপানি প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান ফুজিৎসুসহ একাধিক প্রতিষ্ঠানে শীর্ষ পর্যায়ের নির্বাহী হিসেবে কাজ করার সময় তিনি উপলব্ধি করেন যে ভবিষ্যৎ বিশ্বে ক্লাউড কম্পিউটিং, ডেটা সংরক্ষণ এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার চাহিদা ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পাবে।
এই উপলব্ধি থেকেই ২০১৫ সালে তিনি প্রতিষ্ঠা করেন ডেটা সেন্টার কোম্পানি ‘এয়ারট্রাংক’। নতুন প্রতিষ্ঠান গড়তে গিয়ে তাকে বড় আর্থিক ঝুঁকির মুখে পড়তে হয়। ব্যাংক থেকে ঋণ না পেয়ে নিজের বাড়ি বিক্রি করেন, সঞ্চয় ও অবসরভাতা পর্যন্ত ব্যবসায় বিনিয়োগ করেন। একপর্যায়ে তিনি প্রায় দেউলিয়া হওয়ার অবস্থায় পৌঁছে যান।
তবে তার দূরদর্শী পরিকল্পনা সফল হয়। অস্ট্রেলিয়ায় আধুনিক ও পরিবেশবান্ধব ডেটা সেন্টার নির্মাণের মাধ্যমে দ্রুতই প্রযুক্তি খাতের বড় প্রতিষ্ঠানগুলোর আস্থা অর্জন করে এয়ারট্রাংক। পরবর্তীতে সিঙ্গাপুর, হংকং, জাপান এবং মালয়েশিয়াসহ এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলের বিভিন্ন দেশে ব্যবসা সম্প্রসারণ করে প্রতিষ্ঠানটি।
২০২৪ সালে বিশ্বের বৃহত্তম বিনিয়োগ প্রতিষ্ঠান ব্ল্যাকস্টোন এবং কানাডা পেনশন প্ল্যান যৌথভাবে প্রায় ২৪ বিলিয়ন অস্ট্রেলীয় ডলারে এয়ারট্রাংক অধিগ্রহণের ঘোষণা দেয়। এই চুক্তি বিশ্ব ডেটা সেন্টার শিল্পের ইতিহাসে অন্যতম বৃহৎ অধিগ্রহণ হিসেবে বিবেচিত হয়। কোম্পানির শেয়ার মালিকানা থেকে রবিন খুদার ব্যক্তিগত সম্পদের পরিমাণ দুই বিলিয়ন মার্কিন ডলার ছাড়িয়ে যায় এবং তিনি বিলিয়নিয়ারদের কাতারে যোগ দেন।
ব্যবসায় অসামান্য অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে তিনি ‘বিজনেস পারসন অব দ্য ইয়ার ২০২৪’ এবং ‘সিডনিসাইডার অব দ্য ইয়ার ২০২৫’ সম্মাননায় ভূষিত হন। বর্তমানে তিনি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক অবকাঠামো খাতে বৃহৎ বিনিয়োগ পরিকল্পনা বাস্তবায়নে কাজ করছেন।
রবিন খুদার সাফল্যের গল্প প্রমাণ করে যে সীমিত সুযোগ কিংবা প্রতিকূলতা কোনো মানুষের স্বপ্নকে থামিয়ে রাখতে পারে না। অধ্যবসায়, মেধা ও সাহস থাকলে একজন সাধারণ তরুণও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে অসাধারণ সাফল্য অর্জন করতে পারেন। বাংলাদেশের তরুণ প্রজন্মের কাছে রবিন খুদা তাই শুধু একজন সফল ব্যবসায়ী নন, বরং এক অনুপ্রেরণার নাম।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au