জামায়াত-শিবির নিষিদ্ধের পক্ষে রাজনৈতিক ঐকমত্য চান নুরুল হক
মেলবোর্ন, ২১ আগষ্ট- প্রয়োজনে রাজনৈতিক ঐকমত্য তৈরি করে জামায়াতে ইসলামী ও ইসলামী ছাত্রশিবিরকে নিষিদ্ধ করার উদ্যোগ নিতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান…
মেলবোর্ন, ২০ আগষ্ট- বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের আগামী মাসে ব্রিকস সম্মেলনে যোগ দিতে ভারত সফরের সম্ভাবনা এখনো ‘ক্ষীণ’। দুই দেশের মধ্যে নির্দিষ্ট কিছু বিষয়ে পারস্পরিক আস্থা ও সমঝোতার ভিত্তিতে উপযুক্ত পরিবেশ তৈরি এবং ভারত থেকে ‘মর্যাদাপূর্ণ আমন্ত্রণ’ না এলে এ সফর হওয়ার সম্ভাবনা কম বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির।
তিনি বলেছেন, জাতীয় স্বার্থ স্পষ্টভাবে নির্ধারিত না হলে উচ্চপর্যায়ের সফর আয়োজনের জন্য বাংলাদেশ কোনো তাড়াহুড়ো করতে চায় না।
বৃহস্পতিবার রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা বাসসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে হুমায়ুন কবির বলেন, জাতীয় স্বার্থের বাইরে গিয়ে কোনো উচ্চপর্যায়ের সফর দ্রুত আয়োজন করার যৌক্তিকতা নেই। ১৭ আগস্ট সাক্ষাৎকারটি নেওয়া হয়েছিল।
আগামী ১২ ও ১৩ সেপ্টেম্বর নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠেয় ব্রিকস সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সম্ভাব্য সফর নিয়ে অনিশ্চয়তার মধ্যেই উপদেষ্টার এই মন্তব্য এল। সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ নিয়ে বাংলাদেশের দাবিকে কেন্দ্র করে দুই দেশের সম্পর্কে নতুন করে টানাপোড়েন তৈরি হয়েছে।
হুমায়ুন কবির বলেন, “দুই দেশের মধ্যে নির্দিষ্ট কিছু বিষয়ে সমঝোতা এবং একটি মর্যাদাপূর্ণ আমন্ত্রণের মাধ্যমে উপযুক্ত পরিবেশ তৈরি না হলে আসন্ন ব্রিকস সম্মেলনকে সামনে রেখে প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফরের সম্ভাবনা ক্ষীণ।”
তবে পারস্পরিক আস্থা ও দুই দেশের মধ্যে সমঝোতার ভিত্তিতে উপযুক্ত দ্বিপক্ষীয় পরিবেশ তৈরি হলে ব্রিকস সম্মেলনে বাংলাদেশের অংশগ্রহণকে ইতিবাচকভাবে বিবেচনা করা হতে পারে বলেও জানান তিনি।
এর আগে মঙ্গলবার ঢাকায় নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার দিনেশ ত্রিবেদী বলেছিলেন, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি মনে করেন দুই দেশের প্রধানমন্ত্রীর বৈঠক হওয়া প্রয়োজন। একই সঙ্গে তারেক রহমানের প্রস্তাবিত ভারত সফরকে ‘স্মরণীয়’ করে তুলতে চান বলেও তিনি জানান।
বাংলাদেশি ব্যবসায়ী নেতাদের সম্মানে ভারতীয় হাইকমিশন আয়োজিত এক সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে এবং ভারতের কনফেডারেশন অব ইন্ডাস্ট্রির (সিআইআই) একটি প্রতিনিধিদলকে দেওয়া বক্তব্যে ত্রিবেদী বলেন, প্রধানমন্ত্রী মোদির পক্ষ থেকে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে যথাযথ সম্মান ও মর্যাদার সঙ্গে অভ্যর্থনা জানানোর নিশ্চয়তা দেওয়া হয়েছে।
হুমায়ুন কবির, যিনি ক্ষমতাসীন বিএনপির আন্তর্জাতিকবিষয়ক কমিটির যুগ্ম মহাসচিবও, বলেন, বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের ভবিষ্যৎ এবং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সম্ভাব্য ভারত সফর অনেকটাই নির্ভর করবে ভারতের নেতৃত্বের দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন এবং বাংলাদেশের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক ঘটনাবলি সম্পর্কে তাদের উপলব্ধির ওপর।
২০২৪ সালের তরুণদের নেতৃত্বে হওয়া আন্দোলনের প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, ওই আন্দোলনের বাস্তবতা এবং এতে মানুষের আত্মত্যাগ ভারতকে সঠিকভাবে বুঝতে হবে। ওই আন্দোলনের পর সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগ সরকারের পতন ঘটে।
ভারতে অবস্থান করে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড ও গণমাধ্যমে বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ দেওয়ায় ক্ষোভও প্রকাশ করেন পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা।
তিনি বলেন, বিষয়টি বাংলাদেশের মানুষের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি করেছে। ফৌজদারি মামলায় অভিযুক্ত বা দণ্ডিত ব্যক্তিদের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড কিংবা গণমাধ্যমে বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ করে দেওয়া ভারতের ‘গণতান্ত্রিক রীতিনীতির’ সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
তবে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, শেখ হাসিনাকে ঘিরে ওই গণমাধ্যম অনুষ্ঠানের সঙ্গে তাদের কোনো সম্পৃক্ততা ছিল না। অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ সরকার সম্পর্কে যে বক্তব্য দেওয়া হয়েছে, তার সঙ্গেও ভারত সরকার একমত নয়।
হুমায়ুন কবির জানান, এ বিষয়ে বাংলাদেশ সরকার ইতোমধ্যে ভারতের কাছে কূটনৈতিক প্রতিবাদ জানিয়েছে। ভারতীয় ভূখণ্ড থেকে বাংলাদেশবিরোধী কর্মকাণ্ড বন্ধে কূটনৈতিক চ্যানেল ব্যবহার অব্যাহত রাখা হবে।
২০২৪ সালের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর শেখ হাসিনা ভারত চলে যান। এরপর তার বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে মামলা হয়।
২০২৫ সালের নভেম্বরে বাংলাদেশের একটি বিশেষ ট্রাইব্যুনাল ২০২৪ সালের তরুণদের নেতৃত্বে হওয়া আন্দোলনে বিক্ষোভকারীদের ওপর দমন-পীড়নের ঘটনায় ‘মানবতাবিরোধী অপরাধের’ অভিযোগে শেখ হাসিনাকে অনুপস্থিতিতে মৃত্যুদণ্ড দেন।
এরপর থেকেই ভারত থেকে শেখ হাসিনাকে প্রত্যর্পণের দাবি জানিয়ে আসছে ঢাকা।
অন্যদিকে নয়াদিল্লি বলছে, বাংলাদেশের প্রত্যর্পণ অনুরোধ প্রযোজ্য আইন ও প্রচলিত আইনি প্রক্রিয়া অনুযায়ী পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হচ্ছে।
সূত্র-দ্য নিউ ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au