বিশ্ব

মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনে নতুন ‘কিংমেকার’ ক্রিপ্টো, এআই ও অনলাইন বেটিং

  • 1:13 am - August 21, 2026
  • পঠিত হয়েছে:৪৭ বার
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ১৯ আগস্ট ২০২৬ ওয়াশিংটন ডিসির হোয়াইট হাউসের রুজভেল্ট কক্ষে ক্রিপ্টোকারেন্সি খাতের নির্বাহীদের সঙ্গে বক্তব্য দেওয়ার সময় কয়েনবেসের সহপ্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ব্রায়ান আর্মস্ট্রংয়ের সঙ্গে করমর্দন করছেন। ছবি: রয়টার্স/কাইলি কুপার

মেলবোর্ন, ২১ আগষ্ট- যুক্তরাষ্ট্রের ২০২৬ সালের মধ্যবর্তী নির্বাচনে করপোরেট অর্থায়নের চিত্র বদলে যাচ্ছে। ওয়াল স্ট্রিট, ওষুধ, জ্বালানি ও গণমাধ্যমের মতো দীর্ঘদিনের প্রভাবশালী শিল্পের পাশাপাশি এবার ক্রিপ্টোকারেন্সি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ও অনলাইন বেটিং খাত বিপুল অর্থ ঢেলে রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করছে।

ক্যাম্পেইন ফাইন্যান্স পর্যবেক্ষক এবং দুই প্রধান দলের এক ডজনের বেশি রাজনৈতিক কৌশলবিদের সঙ্গে রয়টার্সের সাক্ষাৎকার ও বিভিন্ন তথ্য বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ২০২৬ সালের কংগ্রেস নির্বাচনে ব্যবসায়িক অর্থায়ন ইতোমধ্যে রেকর্ড ছাড়িয়েছে।

পাবলিক সিটিজেনের সংগৃহীত তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ১ জানুয়ারি থেকে চলতি বছরের প্রথম প্রান্তিকের শেষ পর্যন্ত ১৫ মাসে মার্কিন কোম্পানিগুলো হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভস ও সিনেট নির্বাচনে অন্তত ৫১৭ মিলিয়ন ডলার ব্যয় করেছে। ২০২৪ সালের নির্বাচনে দুই বছরে করপোরেট ব্যয়ের আগের রেকর্ড ছিল ৪৬১ মিলিয়ন ডলার।

নভেম্বরের ৩ তারিখের নির্বাচনের আগে প্রচারের শেষ পর্যায়ে আরও বিপুল অর্থ ব্যয়ের সম্ভাবনা রয়েছে। এবারের নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটরা প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেট উভয় কক্ষের নিয়ন্ত্রণ ফিরে পাওয়ার চেষ্টা করছে।

পাবলিক সিটিজেনের গবেষণা পরিচালক রিক ক্লেপুল বলেন, “এই নির্বাচনী চক্রে করপোরেট অর্থ ব্যয়ের মাত্রা আগে যা দেখা গেছে, তার তুলনায় সম্পূর্ণ ভিন্ন।”

ক্রিপ্টো, প্রযুক্তি ও বেটিংয়ে ২৯৪ মিলিয়ন ডলার

পাবলিক সিটিজেনের হিসাবে, ক্রিপ্টো, প্রযুক্তি ও অনলাইন গেমিং খাত মিলিয়ে ২০২৫ সালের শুরু থেকে চলতি বছরের প্রথম প্রান্তিক পর্যন্ত মধ্যবর্তী নির্বাচনে করপোরেট অর্থায়নের অন্তত ২৯৪ মিলিয়ন ডলার এসেছে।

দুই দলের রাজনৈতিক কৌশলবিদদের মতে, এক প্রজন্ম আগেও প্রায় অস্তিত্বহীন থাকা এসব শিল্পের নতুন ধনকুবেররা এখন মার্কিন রাজনীতিতে প্রভাবশালী হয়ে উঠছেন। শিল্পগুলোর ওপর আইনপ্রণেতারা যখন আরও কঠোর নজরদারি ও নিয়ন্ত্রণের দাবি তুলছেন, তখন এসব খাতের প্রতিষ্ঠাতা ও কোম্পানিগুলো নিজেদের বিপুল সম্পদ ব্যবহার করে রাজনৈতিক মিত্র তৈরি, নীতিনির্ধারণে প্রভাব বিস্তার এবং নিয়ন্ত্রণের উদ্যোগ ঠেকানোর চেষ্টা করছে।

সমালোচকদের আশঙ্কা, বিপুল করপোরেট অর্থায়নের কারণে অল্প কয়েকটি বিশেষ খাতের স্বার্থ অতিরিক্ত গুরুত্ব পেতে পারে। এর ফলে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয়, জ্বালানির দাম বা স্বাস্থ্যসেবার মতো বিষয় আড়ালে পড়ে যেতে পারে।

ক্লেপুল বলেন, রাজনৈতিক আলোচনায় করপোরেট অর্থের ব্যাপক প্রভাব থাকলে সাধারণ মানুষের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনার জায়গা কমে যায়। তার মতে, কংগ্রেসে ক্রিপ্টো নিয়ন্ত্রণের মতো বিশেষায়িত নীতিগত বিষয় নিয়ে অতিরিক্ত সময় ব্যয় হচ্ছে, অথচ সাধারণ মানুষ কম দামে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য চায়।

তবে বিপুল অর্থ ব্যয়েরও সীমাবদ্ধতা রয়েছে। জনমত জরিপগুলোতে দেখা যায়, অধিকাংশ মার্কিন নাগরিক মনে করেন রাজনীতিতে অর্থের প্রভাব অতিরিক্ত। টেক্সাসের জেমস টালারিকো ও মিশিগানের আবদুল এল-সাইদের মতো প্রগতিশীল ডেমোক্র্যাট প্রার্থীরা ধনী দাতা ও কোম্পানির রাজনৈতিক প্রভাবের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েও প্রচারণা চালাচ্ছেন।

সুপার পিএসি ও ‘ডার্ক মানি’ নেটওয়ার্ক

ক্রিপ্টো শিল্প গত নির্বাচনে যে কৌশল ব্যবহার করেছিল, এবার এআই, স্পোর্টস বেটিং ও অন্যান্য শিল্পও একই পথ অনুসরণ করছে।

এসব শিল্পের অর্থায়নের বড় অংশ যাচ্ছে তথাকথিত সুপার পিএসি, সহযোগী পিএসি এবং ‘ডার্ক মানি’ অলাভজনক সংগঠনের মাধ্যমে। ডার্ক মানি সংগঠনগুলোকে তাদের অর্থের উৎস প্রকাশ করতে হয় না।

সুপার পিএসিগুলো সীমাহীন অর্থ সংগ্রহ করতে পারে। তবে তারা সরাসরি কোনো প্রার্থীকে অর্থ দিতে বা প্রার্থীর সঙ্গে সমন্বয় করে প্রচারণা চালাতে পারে না। তারা মূলত রাজনৈতিক বিজ্ঞাপন, ভোটার সংগঠিত করা ও নির্বাচনী সমাবেশে অর্থ ব্যয় করে।

কোম্পানি ও তাদের প্রতিষ্ঠাতারা এসব নেটওয়ার্কের পাশাপাশি সরাসরি নির্দিষ্ট প্রার্থীদেরও অর্থ দিচ্ছেন।

স্পেসএক্সের প্রতিষ্ঠাতা ইলন মাস্ক ২০২৬ সালের ফেডারেল নির্বাচনে ইতোমধ্যে ৯০ মিলিয়ন ডলারের বেশি ব্যয় করেছেন। নভেম্বরের নির্বাচনের আগে তার ব্যয় আরও বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে।

গুগলের সহপ্রতিষ্ঠাতা সের্গেই ব্রিনও ক্যালিফোর্নিয়ায় প্রস্তাবিত সম্পদ করসহ বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যভিত্তিক ইস্যুতে ১০৬ মিলিয়ন ডলারের বেশি ব্যয় করেছেন বলে ফেডারেল ও অঙ্গরাজ্যের নথিতে দেখা গেছে।

এদিকে ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রামের মালিক মেটা চারটি সুপার পিএসিকে ৬৫ মিলিয়ন ডলার দিয়েছে। এসব অর্থ ক্যালিফোর্নিয়া, টেক্সাস, ইলিনয়সহ বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যের নির্বাচনে উভয় দলের প্রার্থীদের সমর্থনে ব্যয় করা হচ্ছে।

সব ধরনের রাজনৈতিক ব্যয়, অর্থাৎ ধনকুবেরদের ব্যক্তিগত অর্থ, শ্রমিক সংগঠন ও সামাজিক ইস্যুতে ব্যয়ও হিসাবের মধ্যে ধরলে ২০২৬ সালের মধ্যবর্তী নির্বাচনে রাজনৈতিক বিজ্ঞাপনে মোট ব্যয় ১১.৬ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছাতে পারে। রাজনৈতিক বিজ্ঞাপন গবেষণা প্রতিষ্ঠান অ্যাডইমপ্যাক্টের হিসাবে, এর মধ্য দিয়ে ২০২৪ সালের নির্বাচনী চক্রের ১১.২ বিলিয়ন ডলারের রেকর্ডও ভেঙে যাবে।

ক্রিপ্টোর পথ অনুসরণ করছে অন্য শিল্প

ক্রিপ্টো কোম্পানি কয়েনবেস ও রিপল এবং বিনিয়োগকারী আন্দ্রেসেন হোরোভিটজ ২০২৪ সালের নির্বাচনে তাদের ‘ফেয়ারশেক’ সুপার পিএসির মাধ্যমে বিপুল অর্থ ব্যয় করেছিল।

ওহাইওর দীর্ঘদিনের ডেমোক্র্যাট সিনেটর শেরড ব্রাউনকে পরাজিত করতেও এই নেটওয়ার্ক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।পাবলিক সিটিজেন ওই সময় ফেয়ারশেককে করপোরেট অর্থের ‘ডেথ স্টার’ হিসেবে বর্ণনা করেছিল, যা একক প্রার্থীর রাজনৈতিক ক্যারিয়ার ধ্বংস করে দিতে পারে।

ফেয়ারশেকের কৌশলের একটি বড় বৈশিষ্ট্য ছিল দলীয় আনুগত্যের বাইরে গিয়ে ক্রিপ্টো শিল্পের নীতির পক্ষে থাকা প্রার্থীদের সমর্থন করা। যারা এসব নীতির বিরোধিতা করেছেন, তাদের পরাজিত করতে বিপুল অর্থ ব্যয় করা হয়েছে।

এবার একই কৌশল অনুসরণ করছে বিগ টেক, স্পোর্টস বেটিংসহ অন্যান্য শিল্প।

ফেয়ারশেক চলতি বছর ১৯৩ মিলিয়ন ডলারের তহবিল নিয়ে শুরু করেছিল। নথি অনুযায়ী, বর্তমানে তাদের হাতে প্রায় ১৩০ মিলিয়ন ডলার রয়েছে। মূলত কয়েনবেস, রিপল এবং ক্যালিফোর্নিয়ার ভেঞ্চার ক্যাপিটাল প্রতিষ্ঠান আন্দ্রেসেন হোরোভিটজ এই তহবিলে অর্থ দিয়েছে।

আন্দ্রেসেন হোরোভিটজের দুই সহপ্রতিষ্ঠাতা বেন হোরোভিটজ ও মার্ক আন্দ্রেসেন ব্যক্তিগতভাবে এ নির্বাচনী চক্রে প্রায় ৪ মিলিয়ন ডলার করে দিয়েছেন। তাদের বিনিয়োগ প্রতিষ্ঠানটি মূলত ক্রিপ্টো ও এআই-সংশ্লিষ্ট পিএসিগুলোকে ৮১ মিলিয়ন ডলারের বেশি দিয়েছে। এর মধ্যে অন্তত ২৩.৮ মিলিয়ন ডলার গেছে ফেয়ারশেকে।

নির্বাচনী মাঠে এআইয়ের বড় প্রবেশ

২০২৪ সালের নির্বাচনে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা খুব বেশি গুরুত্ব না পেলেও এবার এআই শিল্প সরাসরি নির্বাচনী রাজনীতিতে প্রবেশ করেছে।

জুন মাসেই নিউইয়র্ক সিটির একটি ডেমোক্র্যাট-প্রধান নির্বাচনী এলাকায় দুই ডেমোক্র্যাট প্রার্থীকে ঘিরে এআই কোম্পানি ওপেনএআই ও অ্যানথ্রপিক-সমর্থিত রাজনৈতিক সংগঠন এবং তাদের নির্বাহীরা ২৩ মিলিয়ন ডলারের বেশি ব্যয় করেছে।

নির্দলীয় ক্যাম্পেইন ফাইন্যান্স পর্যবেক্ষক প্রতিষ্ঠান ওপেনসিক্রেটসের পরিচালক ব্রেন্ডন গ্লাভিন বলেন, ঘটনাটি মূলত দুই এআই গোষ্ঠীর পরস্পরের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে পরিণত হয়েছিল, যেখানে প্রার্থীরা ছিলেন গৌণ।

এআই-সমর্থক সুপার পিএসি লিডিং দ্য ফিউচার মধ্যবর্তী নির্বাচনের জন্য ১৪০ মিলিয়ন ডলার সংগ্রহ করেছে বলে সংশ্লিষ্ট এক ব্যক্তি জানিয়েছেন। ওপেনএআইয়ের সহপ্রতিষ্ঠাতা ও প্রেসিডেন্ট গ্রেগ ব্রকম্যান, তার স্ত্রী আনা এবং আন্দ্রেসেন হোরোভিটজ এ তহবিলে বড় অঙ্কের অর্থ দিয়েছেন।

ওপেনএআই জানিয়েছে, লিডিং দ্য ফিউচারের কার্যক্রমে তাদের কোনো নিয়ন্ত্রণ বা অর্থায়ন নেই এবং ব্রকম্যানসহ কর্মীরা ব্যক্তিগতভাবে রাজনৈতিক অনুদান দেওয়ার স্বাধীনতা রাখেন।

তবে নথি অনুযায়ী, ব্রকম্যান ও তার স্ত্রী আলাদাভাবে ট্রাম্প-সমর্থিত সুপার পিএসি ম্যাগা ইনককে ২৫ মিলিয়ন ডলার দিয়েছেন।

অন্যদিকে অ্যানথ্রপিক চলতি নির্বাচনী চক্রে ‘পাবলিক ফার্স্ট অ্যাকশন’ নামের একটি ডার্ক মানি অলাভজনক সংগঠনের মাধ্যমে অন্তত ৪০ মিলিয়ন ডলার দিয়েছে। সংগঠনটি এখন পর্যন্ত ১০০ মিলিয়ন ডলার সংগ্রহ করেছে।

এ ছাড়া অ্যানথ্রপিকের সহপ্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী দারিও আমোদেই একটি সংশ্লিষ্ট সুপার পিএসিকে ১ মিলিয়ন ডলার দিয়েছেন বলে নথিতে দেখা গেছে।অ্যানথ্রপিক বলেছে, তাদের অনুদান নির্দিষ্ট কোনো প্রার্থীকে সমর্থন বা বিরোধিতা করার জন্য নয়, বরং নীতিগত বিষয়ে জনসচেতনতা তৈরির কাজে ব্যবহৃত হচ্ছে।

স্পোর্টস বেটিংয়েও কোটি কোটি ডলার

অনলাইন স্পোর্টস বেটিং শিল্পও একই ধরনের রাজনৈতিক কৌশল গ্রহণ করেছে। খাতটি বর্তমানে ক্রমবর্ধমান সরকারি নজরদারি ও নিয়ন্ত্রণের মুখে রয়েছে।

ড্রাফটকিংস, ফ্যানডুয়েল, ফ্যানাটিকস এবং যুক্তরাজ্যভিত্তিক বেটিং প্রতিষ্ঠান bet365 এখন পর্যন্ত মধ্যবর্তী নির্বাচনে ৭২ মিলিয়ন ডলারের বেশি দিয়েছে। পাবলিক সিটিজেনের হিসাবে, এ চক্রে করপোরেট অর্থদাতাদের মধ্যে বেটিং শিল্প তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে।

নথি অনুযায়ী, প্রতিষ্ঠানগুলো মূলত দুটি সহযোগী পিএসি, আমেরিকান কনজারভেটিভ ফান্ড ও আমেরিকান ফিউচার-এর মাধ্যমে অর্থ ব্যয় করছে। যেসব অঙ্গরাজ্যে বেটিং শিল্প সবচেয়ে বেশি নিয়ন্ত্রণের মুখে, সেসব জায়গার নির্বাচনে অর্থের বড় অংশ যাচ্ছে।

এদিকে প্রেডিকশন মার্কেট প্ল্যাটফর্ম পলিমার্কেটের মূল প্রতিষ্ঠান ব্লকরাটাইজ ইনক জুন মাসে ১ মিলিয়ন ডলার দিয়েছে রিপাবলিকান সুপার পিএসি কংগ্রেশনাল লিডারশিপ ফান্ডকে। এই সংগঠনটি প্রতিনিধি পরিষদের স্পিকার মাইক জনসনের সমর্থনপুষ্ট।

‘নির্বাচনী অর্থায়নের মাত্রা নজিরবিহীন’

ক্যাম্পেইন ফাইন্যান্স পর্যবেক্ষকদের মতে, ২০২৬ সালের নির্বাচনে যে পরিমাণ করপোরেট অর্থ প্রবেশ করছে, তা নজিরবিহীন।

পাবলিক সিটিজেনের রিক ক্লেপুল বলেন, ২০১০ সালের পর করপোরেট অর্থে নির্বাচনে ব্যয় হওয়া মোট অর্থের প্রায় এক-তৃতীয়াংশই এবার ব্যয় হয়েছে, অথচ নির্বাচন এখনো শেষ হয়নি।

তার মতে, মার্কিন নির্বাচনে করপোরেট অর্থের এমন প্রবাহ আগে কখনো দেখা যায়নি।

তবে এ বিপুল অর্থ রাজনৈতিক ফলাফল কতটা বদলাতে পারবে, সেটি এখনো নিশ্চিত নয়। কারণ ভোটারদের কাছে অর্থনীতি, দ্রব্যমূল্য, জ্বালানি ও স্বাস্থ্যসেবার মতো সরাসরি জীবনযাত্রার বিষয়গুলো এখনো গুরুত্বপূর্ণ।

ফলে ক্রিপ্টো, এআই বা অনলাইন বেটিংয়ের মতো বিশেষায়িত শিল্পের স্বার্থে বিপুল অর্থ ব্যয় হলেও তা সবসময় ভোটারদের অগ্রাধিকারের সঙ্গে মিলবে কি না, সেটিই এবারের নির্বাচনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন।

সূত্র-রয়টার্স

এই শাখার আরও খবর

জামায়াত-শিবির নিষিদ্ধের পক্ষে রাজনৈতিক ঐকমত্য চান নুরুল হক

মেলবোর্ন, ২১ আগষ্ট- প্রয়োজনে রাজনৈতিক ঐকমত্য তৈরি করে জামায়াতে ইসলামী ও ইসলামী ছাত্রশিবিরকে নিষিদ্ধ করার উদ্যোগ নিতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান…

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে আদিবাসী শিক্ষার্থীকে মারধরের অভিযোগ, সাম্প্রদায়িক বিদ্বেষমূলক মন্তব্যের দাবি

মেলবোর্ন, ২০ আগষ্ট- রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের এক আদিবাসী শিক্ষার্থীকে নিজ মেসে মারধর এবং জাতিগত ও সাম্প্রদায়িক বিদ্বেষমূলক মন্তব্য করার অভিযোগ উঠেছে। বুধবার (১৯ আগস্ট) সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের…

পারস্পরিক আস্থা ও মর্যাদাপূর্ণ আমন্ত্রণ না হলে ভারতে প্রধানমন্ত্রীর সফরের সম্ভাবনা কম: উপদেষ্টা

মেলবোর্ন, ২০ আগষ্ট- বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের আগামী মাসে ব্রিকস সম্মেলনে যোগ দিতে ভারত সফরের সম্ভাবনা এখনো ‘ক্ষীণ’। দুই দেশের মধ্যে নির্দিষ্ট কিছু বিষয়ে পারস্পরিক…

মক্কা চুক্তিতে বাংলাদেশ যুক্ত হলে কী বদলাবে, কেন উদ্বিগ্ন ভারত?

মেলবোর্ন, ২০ আগষ্ট- সৌদি আরব, পাকিস্তান ও তুরস্কের মধ্যে মক্কা চুক্তি স্বাক্ষরের পরপরই তুরস্কের সংবাদমাধ্যম ইয়েনি শাফাক একটি প্রতিবেদনে বাংলাদেশকে ওই চুক্তিতে যুক্ত করার সম্ভাবনা…

বাংলাদেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর

মেলবোর্ন, ২০ আগষ্ট- দীর্ঘ ৩৫ বছর পর সংসদ সদস্যদের সরাসরি প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ভোটে বাংলাদেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হয়েছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে…

ডিসেম্বরে শেষ হচ্ছে গঙ্গা পানি বণ্টন চুক্তির মেয়াদ, নতুন চুক্তিতে ‘গ্যারান্টি ক্লজ’ চায় বাংলাদেশ

মেলবোর্ন, ২০ আগষ্ট- ভারতের সঙ্গে ১৯৯৬ সালে স্বাক্ষরিত গঙ্গা পানি বণ্টন চুক্তির মেয়াদ আগামী ডিসেম্বরে শেষ হচ্ছে। এর আগে নতুন চুক্তিতে শুষ্ক মৌসুমে বাংলাদেশকে গঙ্গার…

স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au