জামায়াত-শিবির নিষিদ্ধের পক্ষে রাজনৈতিক ঐকমত্য চান নুরুল হক
মেলবোর্ন, ২১ আগষ্ট- প্রয়োজনে রাজনৈতিক ঐকমত্য তৈরি করে জামায়াতে ইসলামী ও ইসলামী ছাত্রশিবিরকে নিষিদ্ধ করার উদ্যোগ নিতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান…
মেলবোর্ন, ২০ আগষ্ট- রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের এক আদিবাসী শিক্ষার্থীকে নিজ মেসে মারধর এবং জাতিগত ও সাম্প্রদায়িক বিদ্বেষমূলক মন্তব্য করার অভিযোগ উঠেছে। বুধবার (১৯ আগস্ট) সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের একটি আবাসিক মেসে এ ঘটনা ঘটে।
ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর নাম লেবানন বম। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষের সংস্কৃত বিভাগের শিক্ষার্থী।
লেবাননের অভিযোগ, তুচ্ছ একটি বিষয়কে কেন্দ্র করে মেসের বাসিন্দা হাসানের সঙ্গে তার কথা কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে হাসান তাকে মারধর করেন। পরে আশপাশের কয়েকজনকে ডেকে এনে দ্বিতীয় দফায় তার ওপর হামলা চালানো হয়। এ সময় হাসানের স্ত্রীসহ কয়েকজন তাকে কিল-ঘুষি ও ইট দিয়ে আঘাত করেন বলে অভিযোগ করেছেন তিনি।
হামলায় লেবাননের মুখ, গলা ও পিঠে আঘাত লাগে বলে জানা গেছে।
লেবাননের অভিযোগ, হামলার সময় তাকে ‘পাহাড়ি’, ‘অসভ্য’ এবং ‘তোরা পাহাড় থেকে আসছিস’সহ বিভিন্ন জাতিগত ও সাম্প্রদায়িক বিদ্বেষমূলক কথা বলা হয়।একপর্যায়ে হাসানের স্ত্রী বটি খুঁজছিলেন এবং তাকে জবাই করে ফেলার হুমকি দেন বলেও অভিযোগ করেছেন লেবানন।
ঘটনার সময় একই কক্ষে লেবাননের সঙ্গে ছিলেন একই বর্ষের শিক্ষার্থী ওসল চাকমা। তিনি পরে বিষয়টি সিনিয়র শিক্ষার্থী সুমন চাকমাকে জানান। সুমন চাকমা বিষয়টি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক মাহবুবুর রহমানকে অবহিত করেন।
খবর পেয়ে প্রক্টর ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন।
ঘটনার পর অভিযুক্ত হাসান মেস ছেড়ে চলে যান। পরে শিক্ষার্থীদের অনুরোধে পুলিশ তাকে প্রক্টর কার্যালয়ে নিয়ে আসে।সেখানে উপস্থিত শিক্ষার্থীদের দাবি, ঘটনার বিষয়ে হাসানের মধ্যে কোনো অনুশোচনা দেখা যায়নি। বরং তিনি উগ্র আচরণ করেছেন বলে অভিযোগ করেন তারা।
পরে লেবাননের বিভাগের শিক্ষার্থীদের উপস্থিতিতে তার বক্তব্য নেওয়া হয়। এরপর পুলিশ হাসানকে চন্দ্রিমা থানায় নিয়ে যায়।
অভিযুক্ত হাসান রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের গণিত বিভাগের সাবেক শিক্ষার্থী বলে জানা গেছে।
ঘটনার পর লেবাননের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবিতে শিক্ষার্থীরা চন্দ্রিমা থানায় যান। সেখানে তার নিরাপত্তার জন্য একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছে বলে শিক্ষার্থীরা জানান।এ ছাড়া হামলার ঘটনায় ফৌজদারি মামলা দায়ের করা হয়েছে বলেও তারা জানিয়েছেন।
শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, মামলা না করার জন্য অভিযুক্তের পক্ষ থেকে বিভিন্নভাবে চাপ প্রয়োগের চেষ্টা করা হয়েছিল। তবে শেষ পর্যন্ত লেবানন বম মামলা দায়ের করেন।
ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, হামলায় জড়িত প্রত্যেকের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা এবং ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন শিক্ষার্থীরা।
একই বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ও বর্তমান শিক্ষার্থীর মধ্যে এ ধরনের ঘটনায় জাতিগত পরিচয়কে আক্রমণের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার এবং সাম্প্রদায়িক বিদ্বেষমূলক মন্তব্যের অভিযোগ ওঠায় শিক্ষার্থীদের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au