মেলবোর্ন, ১০ জুন- বাংলাদেশ আজ দাঁড়িয়ে আছে এক কঠিন সন্ধিক্ষণে। ২০২৪-এর রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর রাষ্ট্র, অর্থনীতি, সমাজ—সবখানে এক ধরনের শূন্যতা, অনিশ্চয়তা আর দিকহারা ভাব। মানুষ রাস্তায় নেমেছিল পরিবর্তনের আশায়, পরিবর্তন হবে ভিন্নভাবে—শান্তি আসবে, জীবন সহজ হবে। কিন্তু বাস্তবতা বলছে—পরিবর্তন মানেই মুক্তি নয়, যদি সেই পরিবর্তনের নেপথ্যে থাকে সূক্ষ্ম ষড়যন্ত্র। দেশের দুশমনরা মেটিকুলাস ডিজাইন
ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে জনগণের চোখে ধুলা দিয়ে সরকার পতনের জন্য রাস্তায় নামিয়েছিল। আবেগকে ব্যবহার করে, ন্যায্য দাবিকে ঢাল বানিয়ে রাষ্ট্রের ভিত নড়িয়ে দেওয়া হয়েছিল। আর আজ, প্রায় দুই বছর হতে চললো, যারা রাস্তায় নেমেছিল তারাই বলছেন—“আমরা শেখ হাসিনাকে তাড়িয়ে ভুল করেছি। রাস্তায় নামা উচিত হয়নি। আগে বুঝতে পারিনি”। আজ যখন সেই শূন্যতার ধাক্কা মানুষ বুঝতে পারছে, তখন আপামর বাঙালির কণ্ঠে বারবার ফিরে আসছে একটি নাম—শেখ হাসিনা। বঙ্গবন্ধু কন্যা, পাঁচ বারের প্রধানমন্ত্রী, যিনি এর আগেও ১৯৯৬ থেকে ২০০১ পর্যন্ত দেশের প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেছেন। যিনি বহুবার চক্রান্ত ও বিপদের মুখ থেকে ফিরে এসেছেন। দেশবিরোধী চক্র বারবার তাঁকে থামাতে চেয়েছে। আল্লাহ পাকের অশেষ কৃপায় তিনি বার রক্ষা পেয়েছেন। ৫ আগস্টের ভয়াবহ পরিস্থিতি থেকেও তিনি নিরাপদে সরে এসেছেন। হয়তো মহান আল্লাহ তাঁকে বাঁচিয়ে রেখেছেন, কারণ তাঁর দ্বারা বাংলাদেশের আরও ভালো কাজ বাকি আছে। তাঁর দেশপ্রেম, আন্তরিকতা আর দূরদর্শী নেতৃত্বই আজ দেশের শেষ ভরসা।
১. বিপদসংকুল পথের নেত্রী
শেখ হাসিনার রাজনৈতিক জীবন মানেই সংগ্রামের ইতিহাস। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হারানোর পর ৬ বছর নির্বাসন। ১৯৮১ সালের ১৭ মে ভারত থেকে দেশে ফিরে তিনি হাল ধরেন আওয়ামী লীগের। সামরিক শাসন, গণআন্দোলন, কারাবরণ—সব পেরিয়ে তিনি প্রমাণ করেছেন, ক্ষমতা তাঁর কাছে লক্ষ্য নয়, জনগণের সেবাই ব্রত।
রাজনৈতিক জীবনে বহুবার তিনি ষড়যন্ত্র ও হামলার শিকার হয়েছেন। ১৯৯৮-এর আবাহনী মাঠের বোমা হামলা, ২০০০ সালের ২১ জুলাই গোপালগঞ্জের কোটালিপাড়ায় শেখ লুৎফর রহমান আদর্শ কলেজ মাঠে ৭৬ কেজি শক্তিশালী বোমা পুঁতে রাখা হয়েছিল। সেদিনও আল্লাহর অশেষ রহমতে হামলা ব্যর্থ হয়। এরপর ২০০৪-এর ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামল। ২২ বার মৃত্যুর হাত থেকে বেঁচে ফিরেছেন। প্রতিবারই তিনি অল্পের জন্য রক্ষা পেয়েছেন। ৫ আগস্ট ২০২৪-এর ভয়াবহ পরিস্থিতেও তিনি নিরাপদে সরে আসতে পেরেছেন। আল্লাহর রহমত আর জনগণের দোয়া তাঁকে বার রক্ষা করেছে। হয়তো মহান আল্লাহ চান—তাঁর দ্বারা বাংলাদেশের আরও সেবা হবে, আরও উন্নয়ন হবে।
২. পরিসংখ্যানে শেখ হাসিনার বাংলাদেশ
উন্নয়ন বক্তৃতা দিয়ে হয় না, হিসাব দিয়ে হয়। ১৯৯৬ থেকে ২০২৪—এই দীর্ঘ সময়ে বাংলাদেশের যে রূপান্তর, তা সংখ্যায় ধরা পড়ে:
অর্থনীতি ও দারিদ্র্য:
জিডিপি: ১৯৯৬ সালে ৪৫ বিলিয়ন ডলার → ২০২৪ সালে ৪৩৭ বিলিয়ন ডলার।
মাথাপিছু আয়: ১৯৯৬ সালে ৩৮৯ ডলার → ২০২৪ সালে ২,৭৮৪ ডলার।
দারিদ্র্যের হার: ১৯৯৬ সালে ৪৩.৫% → ২০২৩ সালে ১৮.৭%। বিশ্বব্যাংক বলেছে, “বাংলাদেশ দারিদ্র্য বিমোচনে রোল মডেল”।
বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ: ২০০৯ সালে ৭ বিলিয়ন → ২০২৪ সালে ৪৮ বিলিয়ন ডলার ছুঁয়েছিল।
অবকাঠামো ও বিদ্যুৎ:
১৯৯৬ সালে বিদ্যুৎ পেত ২৫% মানুষ। ২০২৪ সালে ১০%।
পদ্মা সেতু: নিজস্ব অর্থায়নে ৩০,১৯৩ কোটি টাকায় নির্মিত। বিশ্বব্যাংক ঋণ বন্ধ করে দিলেও তিনি “নিজের টাকায় পদ্মা সেতু” করে দেখিয়েছেন। এটি ছিল ষড়যন্ত্রের দাঁতভাঙা জবাব।
মেট্রো রেল, এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে, কর্ণফুলী টানেল—ঢাকার চেহারা পাল্টে দিয়েছে।
রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র: ২৪০ মেগাওয়াট, যা দেশের বিদ্যুৎ চাহিদার ১০% মেটাবে।
মানব উন্নয়ন:
শিশু মৃত্যুর হার: ১৯৯৬ সালে প্রতি হাজারে ৮ → ২০২৩ সালে ২৮।
গড় আয়ু: ১৯৯৬ সালে ৬০ বছর → ২০২৪ সালে ৭২.৩ বছর।
সাক্ষরতার হার: ১৯৯৬ সালে ৪৫% → ২০২৪ সালে ৭৬.৪%।
বিনামূল্যে বই: ২০১০ সাল থেকে বছরের প্রথম দিনেই প্রাথমিক ও মাধ্যমিকের ৩৫ কোটির বেশি বই শিক্ষার্থীর হাতে।
ডিজিটাল বিপ্লব:
“ডিজিটাল বাংলাদেশ” ছিল ২০০৯-এর স্লোগান। আজ বাস্তবতা: ১৮ কোটি মোবাইল গ্রাহক, ১৩ কোটি ইন্টারনেট ব্যবহারকারী, ৮ হাজারের বেশি ইউনিয়ন ডিজিটাল সেন্টার। ফ্রিল্যান্সিং-এ বাংলাদেশ এখন বিশ্বে ২য়। বিকাশ, নগদ—মোবাইল ব্যাংকিং-এ বিপ্লব তাঁর আমলেই।
এগুলো কোনো ম্যাজিক নয়। এগুলো পরিকল্পনা, দৃঢ়তা আর দেশপ্রেমের ফসল। ষড়যন্ত্রকারীরা যতই ষড়যন্ত্র করুক—উন্নয়নের এই ভিত তারা নাড়াতে পারেনি। কারণ তাঁর সাথে আছে জনগণের দোয়া আর আল্লাহর রহমত।
৩. ২০০৯-২০২৪: পাঁচ বারের প্রধানমন্ত্রীর সরকারের উন্নয়ন চিত্র সংক্ষেপে
২০০৯ সালে দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে ২০২৪ পর্যন্ত টানা ১৫ বছরে শেখ হাসিনার সরকার দেশকে এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে যায়। সংক্ষেপে মূল অর্জন:
ডিজিটাল বাংলাদেশ: ২০০৯-এ ইন্টারনেট ব্যবহারকারী ছিল ৩০ লাখের কম, ২০২৪-এ ১৩ কোটি ছাড়ায়। ইউনিয়ন পর্যায়ে ডিজিটাল সেন্টার, অনলাইনে জমি রেজিস্ট্রি, ই-নামজারি, পাসপোর্ট—সেবা এখন মানুষের হাতে।
মেগা প্রকল্প: পদ্মা সেতু নিজস্ব অর্থায়নে, মেট্রো রেল, বঙ্গবন্ধু টানেল, এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র, পায়রা সমুদ্র বন্দর—সব তাঁর সময়ে দৃশ্যমান।
বিদ্যুৎ ও জ্বালানি: ২০০৯-এ বিদ্যুৎ সুবিধা ছিল ৪৭% মানুষের, ২০২৪-এ ১০%। ঘরে ঘরে বিদ্যুৎ, লোডশেডিং মুক্ত শিল্পাঞ্চল।
সামাজিক নিরাপত্তা: বয়স্ক ভাতা, বিধবা ভাতা, প্রতিবন্ধী ভাতা, মাতৃত্বকালীন ভাতা—৫ কোটির বেশি মানুষ সরাসরি উপকারভোগী। বিনামূল্যে বই, উপবৃত্তি, কমিউনিটি ক্লিনিক।
জঙ্গিবাদ দমন: ২০১৬-এর পর জিরো টলারেন্স নীতি। র্যাব-পুলিশের সমন্বিত অভিযানে বাংলাদেশ আর জঙ্গিদের নিরাপদ আশ্রয়স্থল থাকেনি।
রোহিঙ্গা মানবিকতা: ২০১৭-এ ১০ লাখের বেশি রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দিয়ে বিশ্বে মানবতার উদাহরণ স্থাপন।
এই ১৫ বছর প্রমাণ করে—পরিকল্পনা আর সততা থাকলে দেশ এগোয়। ষড়যন্ত্র থেমে থাকে না, কিন্তু উন্নয়ন থেমে থাকে না।
৪. শেখ হাসিনার হাত ধরেই ১৯৯৬ সালে বাংলাদেশ স্থিতিশীলতার পথে হাঁটতে শুরু করে। সেই ৫ বছরের অর্জন:
গঙ্গা চুক্তি ১৯৯৬: ভারতের সাথে ৩০ বছরের পানিবণ্টন চুক্তি। ফারাক্কার কারণে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের মানুষ যে পানির অভাবে কষ্ট পেত, তার সমাধান।
পার্বত্য শান্তি চুক্তি ১৯৯৭: ২৫ বছরের রক্তক্ষয়ী সংঘাতের অবসান। পার্বত্য চট্টগ্রামে শান্তি ফেরানো।
খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা: ১৯৯৮-এর বন্যার পরও দেশে খাদ্য ঘাটতি হতে দেননি। খাদ্য মজুদ ও বিতরণ ব্যবস্থা শক্তিশালী করেন।
নারীর ক্ষমতায়ন: সংসদে নারীর জন্য ৩০টি সংরক্ষিত আসন বরাদ্দ, মেয়েদের উপবৃত্তি চালু।
এই ৫ বছরই প্রমাণ করেছিল—তিনি শুধু আবেগের নেত্রী নন, রাষ্ট্র পরিচালনার কারিগর। দেশের দুশমনরা তখনও ষড়যন্ত্র করেছে, থামাতে চেয়েছে। কিন্তু আল্লাহ তাঁকে বাঁচিয়ে রেখেছেন জাতির খেদমতের জন্য।
৫. ষড়যন্ত্র, ৫ আগস্ট ও জনতার আফসোস
২০২৪ সালের জুলাই-আগস্ট। কোটা সংস্কার আন্দোলন দিয়ে শুরু। দাবি ন্যায্য ছিল। মানুষ রাস্তায় নেমেছিল পরিবর্তনের আশায়, পরিবর্তন হবে ভিন্নভাবে—কিন্তু দেশের দুশমনরা মেটিকুলাস ডিজাইন ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে জনগণের চোখে ধুলা দিয়ে সরকার পতনের জন্য রাস্তায় নামিয়ে দেয়। সামাজিক মাধ্যমে গুজব, বিদেশি অর্থায়ন, এনজিও নেটওয়ার্ক—সব ব্যবহার করে একটি নির্বাচিত সরকারকে অস্থিতিশীল করা হয়।
আন্দোলন ন্যায্য দাবি থেকে সরে গিয়ে সহিংস রূপ নেয়। সরকারি স্থাপনা ভাঙচুর, পুলিশ হত্যা, মেট্রো স্টেশন পোড়ানো—এগুলো কোনো ছাত্র আন্দোলনের চেহারা হতে পারে না। এটি ছিল পরিকল্পিত ধ্বংসযজ্ঞ। ৫ আগস্ট ২০২৪-এর ভয়াবহ পরিস্থিতিতে পাঁচ বারের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সরকারের পতন ঘটে। তিনি ভারতে চলে যান। সেদিনও তিনি নিরাপদে সরে আসতে পেরেছেন। আল্লাহর রহমতে তিনি রক্ষা পেয়েছেন। হয়তো মহান আল্লাহ তাঁকে বাঁচিয়ে রেখেছেন—কারণ তাঁর দ্বারা দেশের আরও ভালো কাজ বাকি আছে, সোনার বাংলা গড়ার কাজ বাকি আছে।
আর আজ, প্রায় দুই বছর হতে চললো, বাস্তবতা মানুষের সামনে খুলে গেছে। যারা রাস্তায় নেমেছিল তারা এখন বলছেন—“আমরা শেখ হাসিনাকে তাড়িয়ে ভুল করেছি। রাস্তায় নামা উচিত হয়নি। আগে বুঝতে পারিনি”। রিকশাওয়ালা থেকে শিক্ষক, গার্মেন্টস কর্মী থেকে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী—সবাই আজ টের পাচ্ছে, ষড়যন্ত্রের ফাঁদে পা দিয়ে তারা নিজেদের পায়ে কুড়াল মেরেছেন।
পতনের পরের প্রায় দুই বছরের চিত্র:
আইনশৃঙ্খলা ভেঙে পড়া, রাজনৈতিক প্রতিহিংসা, সংখ্যালঘু নির্যাতন।
বিনিয়োগকারীদের আস্থা কমে যাওয়া, রপ্তানিতে মন্দা।
দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি, বেকারত্ব বৃদ্ধি।
গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলো দুর্বল হয়ে পড়া।
মানুষ আজ বুঝছে—ষড়যন্ত্র করে সরকার ফেলা যায়, কিন্তু রাষ্ট্র চালানো যায় না। আফসোস এখন জনতার কণ্ঠে।
৬. ভারত থেকে প্রত্যাবর্তন: ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি
১৯৮১ সালের ১৭ মে। ৬ বছর নির্বাসনের পর শেখ হাসিনা ঢাকায় ফেরেন। সেদিন কুর্মিটোলা বিমানবন্দর থেকে মিছিল শুরু হয়ে মানিক মিয়া এভিনিউ পর্যন্ত মানুষের ঢল নামে। সেই ফেরা ছিল ভাঙা দলের পুনর্গঠন, মুক্তিযুদ্ধের চেতনার পুনর্জাগরণ।
আজকের প্রেক্ষাপটে ভারত থেকে তাঁর ফিরে আসার গুরুত্ব আরও বেশি:
১. সংকট মোকাবিলার অভিজ্ঞতা: ১/১, করোনা, রোহিঙ্গা সংকট, কোটালিপাড়ার ৭৬ কেজি বোমা, ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা—সব সামলেছেন পাঁচ বারের প্রধানমন্ত্রী। ২০২৪-পরবর্তী অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক সংকট সামলানোর সক্ষমতা তাঁরই আছে।
২. আন্তর্জাতিক সম্পর্ক: ভারত, চীন, যুক্তরাষ্ট্র, সৌদি আরব, রাশিয়া—সবার সাথে ভারসাম্যপূর্ণ সম্পর্ক রেখেছেন। ষড়যন্ত্রকারীদের আন্তর্জাতিক লবির মোকাবিলায় এই সম্পর্ক জরুরি।
৩. সাংগঠনিক শক্তি: আওয়ামী লীগ গ্রাম থেকে শহর পর্যন্ত ছড়ানো একটি রাজনৈতিক শক্তি। রাষ্ট্র পুনর্গঠনে এই কাঠামো কাজে লাগানো সম্ভব।
ইতিহাস দুবার সুযোগ দেয় না, কিন্তু শেখ হাসিনার জীবন দেখায়—তিনি বারবার ফিরে এসেছেন জাতিকে বাঁচাতে। ১৯৮১-তে ষড়যন্ত্র ভেঙে ফিরেছিলেন, ২০২৪-পরবর্তী ষড়যন্ত্রও তিনি ভাঙবেন। কারণ আল্লাহ তাঁকে বাঁচিয়ে রেখেছেন। কারণ জনগণ এখন নিজের ভুল বুঝতে পেরেছে।
৭. দেশবিরোধী চক্র বিতাড়ন ও গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা
সংকটের সময় সবচেয়ে সক্রিয় হয় দেশবিরোধী শক্তি। জঙ্গিবাদ, সাম্প্রদায়িকতা, বিচ্ছিন্নতাবাদ—এরা মাথাচাড়া দেয়। ২০১৬ সালের হলি আর্টিজান হামলার পর শেখ হাসিনা “জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স” নীতি নেন। র্যাব, পুলিশ, গোয়েন্দা সংস্থার সমন্বিত অভিযানে বাংলাদেশ জঙ্গিদের নিরাপদ আশ্রয়স্থল হতে পারেনি।
২০২৪-এর ষড়যন্ত্রের পর এই চক্র আরও সক্রিয়। তাই এখন দরকার:
১. ষড়যন্ত্রকারীদের চিহ্নিতকরণ: যারা বারবার হামলা ও ষড়যন্ত্র করেছে, রাষ্ট্র ধ্বংস করতে চায়, তাদের বিচারের আওতায় আনা।
২. গণতান্ত্রিক সরকারের নতুন সূচনা: গণতন্ত্র মানে সবার জন্য সমান সুযোগ, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা, সংবাদপত্রের স্বাধীনতা, স্থানীয় সরকারকে ক্ষমতায়ন।
শেখ হাসিনা ২০০৯-এ তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিল করেছিলেন এই যুক্তিতে—“জনগণই সর্বোচ্চ আদালত”। আজকের সংকটে সেই জনগণের কাছেই ফিরে যেতে হবে। যারা এখন বলছে “ভুল করেছি, রাস্তায় নামা উচিত হয়নি”—তাদের ভোটই হবে ষড়যন্ত্রের জবাব। একটি অংশগ্রহণমূলক, অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে গণতান্ত্রিক বৈধতা নিয়ে পাঁচ বারের প্রধানমন্ত্রী তিনি আবার রাষ্ট্রের হাল ধরতে পারবেন।
৮. ২০৩০ রোডম্যাপ থেকে ভিশন ২০৪১: সোনার বাংলা গড়ার কারিগর
“সোনার বাংলা” বঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন। সেই স্বপ্নের রোডম্যাপ দিয়েছেন শেখ হাসিনা—ভিশন ২০২১, ২০৩০ সালের রোডম্যাপ, ভিশন ২০৪১, স্মার্ট বাংলাদেশ ২০৪১।
২০৩০ সালের রোডম্যাপ ছিল এসডিজি বাস্তবায়নের জাতীয় কৌশল। ক্ষুধা ও দারিদ্র্য নির্মূল, সবার জন্য মানসম্মত শিক্ষা ও স্বাস্থ্য, লিঙ্গ সমতা, বিশুদ্ধ পানি ও স্যানিটেশন, সাশ্রয়ী জ্বালানি, টেকসই শিল্প ও অবকাঠামো—এই লক্ষ্যগুলো ২০৩০-এর মধ্যে অর্জনের পরিকল্পনা তিনি দিয়েছিলেন। এই রোডম্যাপ ধরেই বাংলাদেশ ২০১৮ সালে “নিম্ন-মধ্যম আয়ের দেশ” থেকে “উন্নয়নশীল দেশ”-এর কাতারে উঠে আসে।
ভিশন ২০৪১-এর লক্ষ্য:
উচ্চ-মধ্যম আয়ের দেশে উন্নীত হওয়া,
মাথাপিছু আয় ১২,৫০ ডলারে নেওয়া,
জ্ঞানভিত্তিক অর্থনীতি গড়া,
জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় বিশ্বনেতৃত্ব দেওয়া।
এই স্বপ্ন বাস্তবায়নের জন্য যা লাগবে:
১. মেগা প্রকল্পের ধারাবাহিকতা: পদ্মা সেতু, মেট্রো রেল, বঙ্গবন্ধু টানেল—এগুলো থেমে গেলে উন্নয়ন থেমে যাবে। শেখ হাসিনাই এগুলোর জন্মদাত্রী। ষড়যন্ত্রকারীরা পদ্মা সেতুর ঋণ বন্ধ করেছিল, তিনি নিজের টাকায় করেছেন।
২. তরুণ শক্তির বিকাশ: আইটি, কৃষি প্রযুক্তি, নবায়নযোগ্য জ্বালানি, মহাকাশ গবেষণা—তরুণদের দক্ষ করে তুলতে হবে।
৩. সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি: বাংলাদেশের শক্তি তার বৈচিত্র্য। হিন্দু-মুসলিম-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান সবাই মিলেই বাংলাদেশ। এই সম্প্রীতি রক্ষা করতে কঠোর হাত লাগবে।
৪. আত্মনির্ভরশীলতা: খাদ্য, জ্বালানি, ওষুধ, প্রতিরক্ষা—এই চার খাতে স্বয়ংসম্পূর্ণতা। করোনাকালে বাংলাদেশ ইনসেপ্টা, বেক্সিমকোর মাধ্যমে ভ্যাকসিন উৎপাদন করে দেখিয়েছে—আমরা পারি।
এই কাজগুলো করার জন্য দরকার একজন রাষ্ট্রনায়ক। যাকে বারবার থামাতে চেয়েও থামানো যায়নি। যাকে আল্লাহ পাক বার রক্ষা করেছেন। যাকে জনগণ তাড়িয়ে দিয়ে এখন বলছে “ভুল করেছি”। যার হাতে নকশা আছে, যার হাতে অভিজ্ঞতা আছে, যার হৃদয়ে দেশ আছে। সেই নাম শেখ হাসিনা। পাঁচ বারের প্রধানমন্ত্রী, জনতার আফসোসের নাম—তিনিই পারবেন।
বাংলাদেশের মানুষ আজ ক্লান্ত। আন্দোলন-পাল্টা আন্দোলন, ষড়যন্ত্র-পাল্টা ষড়যন্ত্র—আর চায় না। মানুষ চায় শান্তি, চায় ভাত-কাপড়, চায় সন্তানের নিরাপদ ভবিষ্যৎ।
ইতিহাস সাক্ষী—বাংলার মানুষ যখনই পথ হারিয়েছে, তখনই একজন নেতা পথ দেখিয়েছেন। ১৯৭১-এ বঙ্গবন্ধু, ১৯৮১-তে শেখ হাসিনা। ২০২৪-এর এই ঘোর অন্ধকারেও মানুষের চোখ সেই একই দিকে। কারণ তাঁর দেশপ্রেম প্রমাণিত। ১৯৭৫-এর পর তিনি চাইলে বিদেশে বিলাসী জীবন কাটাতে পারতেন। করেননি। কারণ বাংলাদেশ তাঁর রক্তে মিশে আছে।
দেশের দুশমনরা বারবার ষড়যন্ত্র করে তাঁকে থামাতে চেয়েছে, জনগণের চোখে ধুলা দিয়ে সরকার ফেলেছে। কোটালিপাড়ায় ৭৬ কেজি বোমা, ২১ আগস্ট গ্রেনেড—সব ফাঁদ পাতা হয়েছিল। কিন্তু আল্লাহ পাকের অশেষ কৃপায় পাঁচ বারের প্রধানমন্ত্রী তিনি বার রক্ষা পেয়েছেন। ৫ আগস্টের ভয়াবহ পরিস্থিতি থেকেও তিনি নিরাপদে সরে এসেছেন। আর আজ জনগণ নিজেই বলছে—“আমরা ভুল করেছি, রাস্তায় নামা উচিত হয়নি”। নিশ্চয়ই মহান আল্লাহ তাঁকে বাঁচিয়ে রেখেছেন—কারণ তাঁর দ্বারা বাংলাদেশের আরও ভালো কাজ হবে।
শেখ হাসিনার ফিরে আসা মানে শুধু একজন মানুষের প্রত্যাবর্তন নয়। এটি মুক্তিযুদ্ধের চেতনার প্রত্যাবর্তন। এটি উন্নয়নের ধারাবাহিকতার প্রত্যাবর্তন। এটি ২০০৯-২০২৪ উন্নয়নের ধারাবাহিকতা থেকে ২০৩০ রোডম্যাপ হয়ে ভিশন ২০৪১ পর্যন্ত স্বপ্নের ধারাবাহিকতা। এটি ১৮ কোটি মানুষের শেষ ভরসার প্রত্যাবর্তন। এটি জনতার আফসোসের প্রায়শ্চিত্ত।
দেশবিরোধী চক্রকে বিতাড়িত করে, গণতান্ত্রিক সরকার প্রতিষ্ঠা করে, নতুন করে সোনার বাংলা গড়ে তুলতে—এই সংকটে দেশকে উদ্ধার করতে একমাত্র তিনিই পারবেন। কারণ তিনি বঙ্গবন্ধুর রক্ত। কারণ তিনি আল্লাহর রহমতে রক্ষা পেয়েছেন। কারণ তিনি বাংলাদেশকে ভালোবাসেন মায়ের মতো।
জনগণ আজও অপেক্ষা করে। সেই অপেক্ষার অবসান হোক। শেখ হাসিনা আসুন, নেতৃত্ব দিন। বাংলাদেশ আবার হাসুক, আবার গড়ে উঠুক—২০০৯-২০২৪ উন্নয়নের ধারা ধরে ২০৩০ রোডম্যাপ পেরিয়ে ভিশন ২০৪১-এর সোনার বাংলার স্বপ্ন নিয়ে। ষড়যন্ত্র ভেঙে, জনতার আফসোস মুছে দিয়ে।