মেলবোর্ন, ১০ জুন- বিমান চলাচলের নিরাপত্তায় যুগান্তকারী অগ্রগতির দাবি করেছেন গবেষকরা। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক (এআই) নতুন একটি প্রযুক্তি তৈরি করা হয়েছে, যা বিমানের জন্য অত্যন্ত বিপজ্জনক ‘উইন্ড শিয়ার’ ধরনের টার্বুলেন্স সৃষ্টি হওয়ার অন্তত ১৫ সেকেন্ড আগেই পাইলটদের সতর্ক করতে সক্ষম। গবেষকদের মতে, এই প্রযুক্তি ভবিষ্যতে বিমান দুর্ঘটনা প্রতিরোধ এবং যাত্রী নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
নতুন এই প্রযুক্তির উন্নয়ন করেছেন চীনের সিংহুয়া বিশ্ববিদ্যালয়-এর ইন্ডাস্ট্রিয়াল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক শিয়াওওয়েই ইউয়ে এবং তার গবেষক দল। তারা জেনারেটিভ এআই প্রযুক্তির সঙ্গে উড্ডয়ন গতিবিদ্যার বৈজ্ঞানিক নীতিগুলো সমন্বয় করে একটি উন্নত পূর্বাভাস মডেল তৈরি করেছেন।
গবেষণার ফলাফল সম্প্রতি পিএনএএস নেক্সাস-এ প্রকাশিত হয়েছে। গবেষণায় মূলত ‘উইন্ড শিয়ার’ নামে পরিচিত এক ধরনের বিপজ্জনক বায়ুপ্রবাহের পরিবর্তন নিয়ে কাজ করা হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের ভাষায়, স্বল্প দূরত্বের মধ্যে বাতাসের গতি বা দিক হঠাৎ পরিবর্তিত হলে এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়, যা উড্ডয়ন কিংবা অবতরণের সময় বিমানের ভারসাম্য নষ্ট করতে পারে।
গবেষণায় উল্লেখ করা হয়েছে, ২০২২ সালে বিশ্বব্যাপী সংঘটিত বিমান দুর্ঘটনার প্রায় ১৮ শতাংশের সঙ্গে উইন্ড শিয়ারের সম্পর্ক ছিল। ফলে দীর্ঘদিন ধরেই এটি বিমান নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের অন্যতম উদ্বেগের বিষয় হিসেবে বিবেচিত হয়ে আসছে।
এই সমস্যা মোকাবিলায় গবেষকরা নাসা-র ফ্লাইট ডেটা ব্যবহার করে এআই মডেলকে প্রশিক্ষণ দিয়েছেন। বিপুল পরিমাণ উড্ডয়ন তথ্য বিশ্লেষণের মাধ্যমে প্রযুক্তিটি সম্ভাব্য ঝুঁকির ধরন শনাক্ত করতে শিখেছে।
গবেষকদের দাবি, নতুন মডেলটি উইন্ড শিয়ার সৃষ্টির অন্তত ১৫ সেকেন্ড আগে সতর্কবার্তা দিতে পারে। বিমান চলাচলের ক্ষেত্রে এই সময়কে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হয়। কারণ কয়েক সেকেন্ডের আগাম প্রস্তুতিও পাইলটদের জরুরি সিদ্ধান্ত নিতে এবং বিমানকে নিরাপদ অবস্থানে নিয়ে যেতে সহায়তা করতে পারে।
পরীক্ষামূলক বিশ্লেষণে প্রযুক্তিটির নির্ভুলতাও আশাব্যঞ্জক ফল দেখিয়েছে। গবেষকদের তথ্য অনুযায়ী, বাস্তব আবহাওয়ার উপাত্তের সঙ্গে তুলনা করলে এই মডেলের ভুলের হার ৫ শতাংশেরও কম। ফলে এটি ভবিষ্যতে বাণিজ্যিক বিমান পরিবহনে ব্যবহারের সম্ভাবনা তৈরি করেছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এবং বিমানবিজ্ঞানের সমন্বয়ে তৈরি এ ধরনের প্রযুক্তি শুধু টার্বুলেন্স শনাক্ত করতেই নয়, বরং সামগ্রিকভাবে উড্ডয়ন নিরাপত্তার মান আরও উন্নত করতে পারে। ভবিষ্যতে উন্নত সংস্করণ তৈরি হলে পাইলটদের সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়া আরও দ্রুত ও কার্যকর হবে, যা বিশ্বব্যাপী বিমান চলাচলকে আরও নিরাপদ করে তুলতে সহায়তা করবে।