সুস্মিতা দেব , ছবিঃ সংগৃহীত
মেলবোর্ন, ১০ জুন- ভারতের পশ্চিমবঙ্গের ক্ষমতাসীন তৃণমূল কংগ্রেসে রাজনৈতিক অস্থিরতা আরও গভীর হয়েছে। দলটির রাজ্যসভার সদস্য ও অন্যতম পরিচিত মুখ সুস্মিতা দেব সংসদ সদস্যপদ এবং দলের সব সাংগঠনিক দায়িত্ব থেকে পদত্যাগ করেছেন। চলতি সপ্তাহে তৃণমূল কংগ্রেসের দ্বিতীয় রাজ্যসভার সদস্য হিসেবে পদত্যাগ করলেন তিনি, যা দলটির অভ্যন্তরীণ সংকট নিয়ে নতুন আলোচনা তৈরি করেছে।
রাজ্যসভার চেয়ারম্যান সি. পি. রাধাকৃষ্ণনের কাছে পাঠানো পদত্যাগপত্রে সুস্মিতা দেব তার সদস্যপদ অবিলম্বে কার্যকর করার অনুরোধ জানান। পদত্যাগের পরপরই আসামের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মার দিল্লির বাসভবনে তার সঙ্গে একটি ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। এতে তার ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে জোরালো জল্পনা শুরু হয়েছে।
তবে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে সুস্মিতা দেব বলেন, দল ছাড়ার সিদ্ধান্ত সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত। কেন তিনি এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, তা নিয়ে বিস্তারিত ব্যাখ্যা না দিলেও তিনি জানান, রাজনীতিতে সব সিদ্ধান্ত প্রকাশ্যে ব্যাখ্যা করা হয় না। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, কোনো দলে থেকে অন্য দলের জন্য কাজ করার নীতিতে তিনি বিশ্বাস করেন না এবং নিজের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে কিছু সময় নিতে চান।
আসামের বরাক উপত্যকার মানুষ হিসেবে নিজের রাজ্যের মানুষের জন্য কাজ করার আগ্রহের কথাও তুলে ধরেন তিনি। হিমন্ত বিশ্ব শর্মার সঙ্গে বৈঠক প্রসঙ্গে বলেন, রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে পরামর্শ নেওয়ার জন্যই তিনি আসামের মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করেছেন।
তৃণমূল কংগ্রেসের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে মন্তব্য করতে অনাগ্রহ প্রকাশ করলেও তার পদত্যাগকে দলের অভ্যন্তরীণ অস্থিরতার অংশ হিসেবেই দেখছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। ২০২১ সালে কংগ্রেস ছেড়ে তৃণমূলে যোগ দেওয়া সুস্মিতা দেব তখন ‘জনসেবার নতুন অধ্যায়’ শুরু করার কথা বলেছিলেন। তিনি আসামের প্রবীণ কংগ্রেস নেতা সন্তোষ মোহন দেবের কন্যা এবং একসময় অল ইন্ডিয়া মহিলা কংগ্রেসের সভানেত্রীর দায়িত্বও পালন করেছেন। এছাড়া আসামের শিলচর লোকসভা আসন থেকে সংসদ সদস্য হিসেবেও নির্বাচিত হয়েছিলেন।
সুস্মিতা দেবের পদত্যাগের মাত্র একদিন আগে তৃণমূলের আরেক প্রবীণ নেতা ও রাজ্যসভার সদস্য সুখেন্দু শেখর রায়ও সংসদ সদস্যপদ এবং দলের প্রাথমিক সদস্যপদ ছেড়ে দেওয়ার ঘোষণা দেন। পদত্যাগপত্রে তিনি তৃণমূল কংগ্রেস এবং পশ্চিমবঙ্গে দলটির দীর্ঘ শাসনের কঠোর সমালোচনা করেন।
এদিকে পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভায়ও তৃণমূলের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব প্রকাশ্যে এসেছে। দলের ৫৮ জন বিধায়ক নেতৃত্বের অবস্থানের বিরুদ্ধে গিয়ে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়কে বিরোধী দলীয় নেতা হিসেবে সমর্থন দিয়েছেন এবং দলীয় প্রার্থী শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়কে প্রত্যাখ্যান করেছেন। পরে বিধানসভার স্পিকার ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়কে আনুষ্ঠানিকভাবে বিরোধী দলীয় নেতা হিসেবে স্বীকৃতি দিলে সংকট আরও প্রকট হয়ে ওঠে।
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেসের পরাজয়ের পর থেকেই দলের ভেতরে অসন্তোষ বাড়ছিল। সাম্প্রতিক পদত্যাগ, নেতৃত্ববিরোধী অবস্থান এবং প্রকাশ্য মতবিরোধ ইঙ্গিত দিচ্ছে যে দলটির অভ্যন্তরীণ বিভাজন এখন আর গোপন নেই। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন দলের সামনে এই সংকট মোকাবিলা করা বড় রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠতে পারে।