‘পুলিশ হত্যা করেছি’ বলে দাবি করা সেই মাহাদী এবার আশ্রয় নিলেন থানায়
মেলবোর্ন, ১১ জুন- হবিগঞ্জে পুলিশের এক কর্মকর্তাকে হত্যার ঘটনায় নিজের সম্পৃক্ততার দাবি করে কয়েক মাস আগে দেশজুড়ে আলোচনায় আসা বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতা মাহাদী হাসান…
মেলবোর্ন, ১০ জুন- ভিক্টোরিয়ার প্রিমিয়ার জাসিন্তা অ্যালানকে লক্ষ্য করে পরিচালিত বিতর্কিত ‘ডিচ দ্য উইচ’ বা ‘ডাইনিকে বিদায় দাও’ রাজনৈতিক প্রচারণা ঘিরে অস্ট্রেলিয়ার রাজনীতিতে নতুন বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। প্রচারণাটিকে অনেকেই নারী বিদ্বেষী ও লিঙ্গবৈষম্যমূলক হিসেবে আখ্যা দিলেও ওয়ান নেশন দলের সিনেটর পলিন হ্যানসন তার সমালোচনাকে আরও জোরালো করেছেন।
সম্প্রতি ভিক্টোরিয়া অঙ্গরাজ্যের বিভিন্ন স্থানে ‘ডিচ দ্য উইচ’ স্লোগানসংবলিত প্রচারণা চালানো হয়। এ প্রচারণার আংশিক অর্থায়ন করেছেন গথাম সিটি নামে একটি পতিতালয়ের মালিক ফ্রাঙ্কো পুলেও। স্লোগানটি প্রকাশ্যে আসার পরপরই ব্যাপক সমালোচনার জন্ম দেয়। অনেকেই উল্লেখ করেন, ২০১১ সালে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী জুলিয়া গিলার্ডের বিরুদ্ধে পরিচালিত বিতর্কিত প্রচারণার সঙ্গে এর উল্লেখযোগ্য মিল রয়েছে।
প্রথমে এ বিষয়ে মন্তব্য করতে গিয়ে পলিন হ্যানসন বলেন, জাসিন্তা অ্যালানের উচিত বিষয়টিকে সহজভাবে নেওয়া। তিনি দাবি করেন, প্রায় ৩০ বছরের রাজনৈতিক জীবনে তিনি নিজেও বহু আক্রমণ ও কটূক্তির শিকার হয়েছেন। তবে সোমবার রাতে স্কাই নিউজকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি আরও কঠোর অবস্থান নেন।
হ্যানসন বলেন, জাসিন্তা অ্যালানকে নিয়ে আরও কঠোর ভাষাও ব্যবহার করা যেতে পারে। তার ভাষায়, “জুতা যদি পায়ে মাপে, তাহলে তা পরাই উচিত।” তিনি দাবি করেন, অ্যালানের নেতৃত্বে ভিক্টোরিয়া অঙ্গরাজ্যের অবস্থা মারাত্মকভাবে অবনতি হয়েছে।
তিনি বলেন, “লোকজন তাকে কেন ডাইনি বলে, তা বুঝতে খুব একটা কষ্ট হয় না। তার জন্য হয়তো আরও কঠিন শব্দও ব্যবহার করা যেতে পারে। জাসিন্তা, যদি কথাগুলো আপনার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হয়, তাহলে তা মেনে নিন। কারণ আপনি এই অঙ্গরাজ্যকে ধ্বংস করেছেন।”
হ্যানসন আরও অভিযোগ করেন, ভিক্টোরিয়ায় অপরাধ বৃদ্ধি পেয়েছে, রাস্তায় গ্যাং কার্যক্রম বেড়েছে, ধারালো অস্ত্র নিয়ে সহিংসতা ঘটছে, বাড়িঘরে চুরি ও গাড়ি চুরির ঘটনা বাড়ছে। পাশাপাশি বিদ্যুৎ সঞ্চালন লাইন স্থাপনের বিরুদ্ধে কৃষকদের ক্ষোভ ও প্রতিবাদের কথাও তুলে ধরেন তিনি।
তিনি বলেন, “ভিক্টোরিয়ার জনগণের জন্য আমার দুঃখ হয়। তারা জাসিন্তা অ্যালান সম্পর্কে এভাবেই অনুভব করে, কারণ তার নীতির কারণে অঙ্গরাজ্যের এই অবস্থা হয়েছে।”
পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে হ্যানসন লেখেন, তার রাজনৈতিক জীবনে তাকে অসংখ্য নামে ডাকা হয়েছে এবং এখন এসব বিষয় তার কাছে আর গুরুত্ব বহন করে না।
তিনি প্রশ্ন তোলেন, “কিছু কটু কথা যদি একজন নেতাকে এতটাই বিচলিত করে, তাহলে কোটি মানুষের দায়িত্ব নিয়ে একটি অঙ্গরাজ্য পরিচালনা করার ক্ষেত্রে তাকে কীভাবে বিশ্বাস করা যায়?”
তার মতে, রাজনীতিবিদদের হাতে মানুষের জীবন ও ভবিষ্যৎ নির্ভর করে। তাই অপমানজনক মন্তব্য নিয়ে বিতর্কের চেয়ে দেশের বাস্তব সমস্যাগুলো সমাধান করাই বেশি গুরুত্বপূর্ণ।
এদিকে অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি আলবানিজ প্রচারণাটির তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন। সোমবার তিনি বলেন, রাজনৈতিক বক্তব্য ও প্রচারণার ভাষা ক্রমেই বিপজ্জনক হয়ে উঠছে এবং এর পরিণতি ভয়াবহ হতে পারে।
তিনি সতর্ক করে বলেন, “আমি চাই না কোনো মর্মান্তিক ঘটনার পর এই প্রাঙ্গণে দাঁড়িয়ে সংবাদ সম্মেলন করতে হোক।”
আলবানিজ বলেন, জাসিন্তা অ্যালানসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতাকে নিয়ে যেভাবে আক্রমণাত্মক ও অবমাননাকর উপস্থাপন করা হচ্ছে, তা রাজনৈতিক পরিবেশকে আরও উত্তপ্ত করে তুলছে। তিনি সবাইকে উত্তেজনা কমানোর আহ্বান জানান এবং বলেন, এ ধরনের আচরণের পরিণতির দায়ও সংশ্লিষ্টদেরই নিতে হবে।
অন্যদিকে প্রচারণার অর্থদাতা ফ্রাঙ্কো পুলেও সংবাদমাধ্যমকে বলেন, তিনি মনে করেন না যে ‘ডিচ দ্য উইচ’ স্লোগানটি নারী বিদ্বেষী।
তবে জাসিন্তা অ্যালান সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক প্রতিক্রিয়ায় বলেন, মানুষ তার সঙ্গে দ্বিমত পোষণ করার অধিকার রাখে। কিন্তু তিনি উদ্বিগ্ন কারণ এ ধরনের প্রচারণা শুধু তাকে নয়, রাজনীতিতে থাকা সব নারীকেই আক্রমণের মুখে ঠেলে দেয়।
তিনি বলেন, “আমি উদ্বিগ্ন কারণ এটি নারীদের লক্ষ্যবস্তু বানায়। আর আমি ভাবছি, এর পরের লক্ষ্য কে হবে?”
অ্যালানের মতে, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে অস্ট্রেলিয়ার রাজনৈতিক বিতর্ক ক্রমেই বিষাক্ত ও বিভাজনমূলক হয়ে উঠেছে।
ভিক্টোরিয়ার বিরোধীদলীয় নেতা জেস উইলসনও প্রচারণাটির সমালোচনা করেছেন। তিনি বলেন, ব্যবহৃত ভাষা মোটেও উপযুক্ত নয়। তবে তার দাবি, এ ধরনের প্রচারণার সঙ্গে খুব সীমিতসংখ্যক মানুষ জড়িত।
সাবেক প্রধানমন্ত্রী জুলিয়া গিলার্ডও বিরল এক বিবৃতিতে জাসিন্তা অ্যালানের প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন। তিনি স্মরণ করিয়ে দেন, প্রায় ১৫ বছর আগে তার বিরুদ্ধেও একই ধরনের স্লোগান ব্যবহার করা হয়েছিল।
গিলার্ড বলেন, সে সময় এ ধরনের আচরণ ব্যাপকভাবে নিন্দিত হয়েছিল। পরবর্তী বছরগুলোতে তিনি মনে করেছিলেন রাজনীতিতে নারীদের প্রতি আচরণ ধীরে ধীরে উন্নত হচ্ছে। নারীরা নেতৃত্বের গুরুত্বপূর্ণ স্থানে পৌঁছাচ্ছেন এবং প্রকাশ্য রাজনৈতিক পরিসরে লিঙ্গবৈষম্যমূলক আচরণ কিছুটা কমেছে।
তবে তিনি আক্ষেপ করে বলেন, সাম্প্রতিক এই ঘটনা সেই ইতিবাচক অগ্রগতিকে পেছনের দিকে ঠেলে দিয়েছে এবং পুরোনো নারী বিদ্বেষী রাজনৈতিক কৌশল আবারও সামনে নিয়ে এসেছে।
উল্লেখ্য, ২০২৩ সালে বিতর্কিত সাবেক প্রিমিয়ার ড্যানিয়েল অ্যান্ড্রুজের স্থলাভিষিক্ত হয়ে ভিক্টোরিয়ার প্রিমিয়ার হন জাসিন্তা অ্যালান। তবে জনপ্রিয়তা হ্রাস, অবকাঠামো প্রকল্প নিয়ে বিতর্ক, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে সমালোচনা এবং ওয়ান নেশন দলের প্রতি জনসমর্থন বৃদ্ধির কারণে আগামী নভেম্বরে অনুষ্ঠিতব্য নির্বাচনে তিনি কঠিন রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে পারেন বলে বিশ্লেষকদের ধারণা।
সাম্প্রতিক দিনগুলোতে তার নেতৃত্বের ভবিষ্যৎ নিয়েও প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে, যা ভিক্টোরিয়ার রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন অনিশ্চয়তার জন্ম দিয়েছে।
সূত্র: News.com.au
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au