‘পুলিশ হত্যা করেছি’ বলে দাবি করা সেই মাহাদী এবার আশ্রয় নিলেন থানায়
মেলবোর্ন, ১১ জুন- হবিগঞ্জে পুলিশের এক কর্মকর্তাকে হত্যার ঘটনায় নিজের সম্পৃক্ততার দাবি করে কয়েক মাস আগে দেশজুড়ে আলোচনায় আসা বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতা মাহাদী হাসান…
মেলবোর্ন, ১০ জুন- ভারতের ইতিহাসে একটানা নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে নতুন রেকর্ড গড়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। ১০ জুন তিনি দেশের প্রথম প্রধানমন্ত্রী জওহরলাল নেহরুর দীর্ঘদিনের রেকর্ড অতিক্রম করেন। এর মধ্য দিয়ে স্বাধীন ভারতের রাজনৈতিক ইতিহাসে সবচেয়ে দীর্ঘ সময় ধরে বিরতিহীনভাবে নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালনকারী নেতা হিসেবে নতুন মাইলফলক স্পর্শ করলেন তিনি।
নরেন্দ্র মোদী ২০১৪ সালের ২৬ মে প্রথমবার ভারতের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন। এরপর ২০১৯ এবং ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে জয়লাভ করে টানা তৃতীয়বারের মতো সরকার গঠন করেন। সর্বশেষ ২০২৪ সালের ৯ জুন তিনি তৃতীয় মেয়াদের জন্য প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ গ্রহণ করেন। ১০ জুন পর্যন্ত তার টানা দায়িত্ব পালনের সময় দাঁড়ায় ৪ হাজার ৩৯৯ দিন, যা জওহরলাল নেহরুর ৪ হাজার ৩৯৮ দিনের রেকর্ডকে ছাড়িয়ে যায়।
ভারতের রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, এই রেকর্ড কেবল সময়ের হিসাব নয়, বরং দেশের রাজনৈতিক ধারার একটি বড় পরিবর্তনেরও প্রতীক। কারণ স্বাধীনতার পর দীর্ঘ সময় ধরে ভারতীয় রাজনীতিতে যে রাজনৈতিক কাঠামো ও আদর্শিক ধারা প্রভাব বিস্তার করেছিল, মোদীর নেতৃত্বে তার অনেক ক্ষেত্রেই উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। ছবিঃ সংগৃহীত
ভারতের সাবেক রাষ্ট্রপতি রামনাথ কোবিন্দ ও বর্তমান রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর সাবেক প্রেস সচিব অজয় সিং বলেছেন, কোনো মাইলফলকই একটি যুগের পরিবর্তনকে পুরোপুরি সংজ্ঞায়িত করে না। তবে তার মতে, মোদীকে শুধু পরিসংখ্যানের জন্য নয়, বরং ভারতের রাজনীতিকে নতুনভাবে বিন্যস্ত করার জন্য স্মরণ করা হবে।
তিনি বলেন, মোদীর আমলে দীর্ঘদিন ধরে অমীমাংসিত থাকা বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক ও জাতীয় ইস্যুতে বড় ধরনের পরিবর্তন এসেছে। এর মধ্যে রয়েছে অযোধ্যায় রামমন্দির নির্মাণ, জম্মু ও কাশ্মীরের বিশেষ মর্যাদা প্রদানকারী সংবিধানের ৩৭০ অনুচ্ছেদের কার্যকারিতা বিলোপ, উত্তর-পূর্বাঞ্চলে বিদ্রোহ দমন এবং নকশাল আন্দোলনের প্রভাব উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে আনা।
অজয় সিংয়ের ভাষায়, স্বাধীনতা-পরবর্তী ভারতের রাজনীতিতে ক্ষমতার প্রয়োগ ও রাষ্ট্র পরিচালনার ক্ষেত্রে নরেন্দ্র মোদী অন্যতম প্রভাবশালী এবং পরিবর্তনমুখী নেতা হিসেবে বিবেচিত হবেন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষক অধ্যাপক অশ্বিনী কুমারও মনে করেন, মোদীর নেতৃত্বে ভারতের রাজনীতিতে একটি নতুন যুগের সূচনা হয়েছে। তার মতে, জওহরলাল নেহরু যেমন জাতি গঠনের স্থপতি ছিলেন, মার্গারেট থ্যাচার যেমন অর্থনৈতিক সংস্কারের প্রতীক, নেলসন ম্যান্ডেলা যেমন পুনর্মিলনের প্রতীক এবং লি কুয়ান ইউ যেমন উন্নয়নভিত্তিক আধুনিক রাষ্ট্র গঠনের নেতৃত্ব দিয়েছেন, তেমনি মোদীকে অনেকেই ভারতের ‘দ্বিতীয় প্রজাতন্ত্র’-এর অন্যতম প্রধান নির্মাতা হিসেবে দেখেন।
অধ্যাপক কুমারের মতে, মোদীর জনপ্রিয়তা শুধু নির্বাচনী সাফল্যের কারণে নয়, বরং তিনি দেশের রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক পরিচয়ের ভিত্তিগুলোকে নতুনভাবে উপস্থাপন করতে সক্ষম হয়েছেন। তার নেতৃত্বে প্রশাসনকে কেবল সরকারি ব্যবস্থাপনার মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে জাতীয় পুনর্গঠনের একটি অংশ হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে।
এদিকে মোদীর রেকর্ড গড়ার ঘটনাকে ঘিরে তার শাসনামলে ভারতের অর্থনীতির বিভিন্ন সূচকের অগ্রগতিও আলোচনায় এসেছে। ২০১৪ সালে তিনি প্রধানমন্ত্রী হওয়ার সময় মুম্বাই শেয়ারবাজারের প্রধান সূচক সেনসেক্স ছিল প্রায় ২৪ হাজার ৬৯৩ পয়েন্ট এবং নিফটি ছিল ৭ হাজার ৩৬৭ পয়েন্টে। সে সময় বোম্বে স্টক এক্সচেঞ্জে তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোর মোট বাজারমূল্য ছিল ৮৫ লাখ কোটি রুপিরও কম।

গত বছর দিল্লির হায়দ্রাবাদ হাউসে ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ফন ডার লিয়েন ও ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। ছবি: রয়টার্স
প্রায় ১২ বছর পর সেই চিত্রে বড় পরিবর্তন এসেছে। এই সময়ে সেনসেক্স প্রায় ১৯৮ শতাংশ এবং নিফটি প্রায় ২১৪ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। একই সঙ্গে বোম্বে স্টক এক্সচেঞ্জে তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোর মোট বাজারমূল্য বেড়েছে প্রায় ৩৭৪ লাখ কোটি রুপি।
খাতভিত্তিক হিসাবেও বেশ কয়েকটি সূচক উল্লেখযোগ্য প্রবৃদ্ধি অর্জন করেছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি রিটার্ন দিয়েছে ধাতু খাত। নিফটি মেটাল সূচক প্রায় ৩০৯ শতাংশ বেড়েছে। আর্থিক সেবা ও অটোমোবাইল খাতের সূচকও প্রায় ৩০০ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছে।
এ ছাড়া ব্যাংকিং খাতের সূচক বেড়েছে ২৫৪ শতাংশ, ওষুধ খাত ২২২ শতাংশ, তথ্যপ্রযুক্তি খাত ২২০ শতাংশ, আবাসন খাত ১৯৪ শতাংশ এবং ভোগ্যপণ্য খাত ১৭১ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। তবে এই সময়ে গণমাধ্যম খাতের সূচক প্রায় ২৩ শতাংশ কমেছে, যা নেতিবাচক প্রবৃদ্ধির একমাত্র বড় উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ করা হচ্ছে।
মধ্যম ও ক্ষুদ্র মূলধনী কোম্পানির শেয়ারও এ সময় উল্লেখযোগ্য উত্থান দেখিয়েছে। নিফটি মিডক্যাপ ১০০ সূচক প্রায় ৪৭৩ শতাংশ এবং নিফটি মিডক্যাপ ৫০ সূচক প্রায় ৪৩৪ শতাংশ বেড়েছে। অন্যদিকে নিফটি স্মলক্যাপ ১০০ সূচক বেড়েছে প্রায় ২৫৫ শতাংশ, যা বৃহৎ কোম্পানিভিত্তিক নিফটি ৫০ সূচকের প্রবৃদ্ধিকেও ছাড়িয়ে গেছে।
বর্তমানে মোদীর নেতৃত্বাধীন জাতীয় গণতান্ত্রিক জোট সরকার টানা ১২ বছর ক্ষমতায় থাকার বর্ষপূর্তি পালন করছে। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, মোদীর শাসনামলের চূড়ান্ত মূল্যায়ন ইতিহাসই করবে। তবে তার নেতৃত্বে ভারতের রাজনীতিতে যে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে, সে বিষয়ে সমর্থক ও সমালোচক উভয় পক্ষই একমত। ফলে নেহরুর রেকর্ড ভেঙে নতুন মাইলফলক স্পর্শ করা শুধু একটি ব্যক্তিগত অর্জন নয়, বরং ভারতের সমসাময়িক রাজনৈতিক ইতিহাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হিসেবেও বিবেচিত হচ্ছে।
সূত্র: দ্য হিন্দু
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au