রোনালদোর শেষ বিশ্বকাপ মিশনে শিরোপা স্বপ্নে উজ্জীবিত পর্তুগাল
মেলবোর্ন, ১৭ জুন- বিশ্বকাপ ২০২৬-এ নতুন আশার আলো নিয়ে মাঠে নামছে পর্তুগাল। ছয়টি বিশ্বকাপ খেলা কিংবদন্তি ফরোয়ার্ড ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর জন্য এটি হতে পারে ক্যারিয়ারের শেষ বিশ্বকাপ।…
লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জ উপজেলায় একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ছাত্রাবাসে আইফোন চুরির অপবাদ দিয়ে অষ্টম শ্রেণির এক শিক্ষার্থীকে পিটিয়ে ও শ্বাসরোধ করে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় এলাকায় তীব্র ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে। বিক্ষুব্ধ জনতা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করেছে। ঘটনার পর অভিযুক্ত কয়েকজন শিক্ষার্থী পালিয়ে গেছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
নিহত শিক্ষার্থীর নাম মেহেদী হাসান (১৪)। তিনি রামগঞ্জ উপজেলার ফরিদ আহমেদ ভূঁইয়া একাডেমির অষ্টম শ্রেণির ছাত্র ছিলেন। তার বাবা জিয়া উদ্দিন ও মা শারমিন আক্তার। তাদের বাড়ি সোনাপুর বাজার এলাকার রাঘবপুর গ্রামে।
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের আবাসিক শিক্ষক মো. ইসমাইল হোসেন জানান, গত ১৪ জুন কলেজ শাখার এক শিক্ষার্থীর আইফোন হারিয়ে যায়। এরপর মেহেদী হাসানের বিরুদ্ধে ফোন চুরির অভিযোগ তোলা হয়। মঙ্গলবার সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টার দিকে ফোন হারানো শিক্ষার্থীসহ কয়েকজন সিনিয়র ছাত্র মেহেদীকে ছাত্রাবাসের একটি কক্ষে ডেকে নেয়। সেখানে চুরির স্বীকারোক্তি আদায়ের জন্য তাকে মারধর করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।
শিক্ষক ইসমাইল হোসেনের দাবি, দীর্ঘ সময় ধরে মারধরের ফলে মেহেদী গুরুতর আহত হয় এবং একপর্যায়ে তার মৃত্যু ঘটে। পরে ঘটনাটি আত্মহত্যা হিসেবে দেখানোর জন্য তার গলায় মাফলার পেঁচিয়ে জানালার গ্রিলের সঙ্গে ঝুলিয়ে রাখা হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি।
মাগরিবের নামাজের আগে মেহেদীকে উদ্ধার করে চাটখিল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
ঘটনার পরপরই অভিযুক্ত নয়জন শিক্ষার্থী ছাত্রাবাস থেকে পালিয়ে যায়। পুলিশ জানিয়েছে, তাদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।
রামগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. ফিরোজ উদ্দিন চৌধুরী বলেন, প্রাথমিকভাবে জানা গেছে মোবাইল ফোন চুরির অভিযোগকে কেন্দ্র করে মেহেদীকে মারধর করা হয়েছিল। তবে তার মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হতে ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন প্রয়োজন। এজন্য মরদেহ নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।
এদিকে ছাত্রের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে মঙ্গলবার রাতেই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সামনে কয়েকশ অভিভাবক ও স্থানীয় বাসিন্দা জড়ো হন। রাত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। একপর্যায়ে বিক্ষুব্ধ জনতা ক্যাম্পাসে প্রবেশ করে ব্যাপক ভাঙচুর চালায় এবং কয়েকটি যানবাহনে আগুন ধরিয়ে দেয়।
প্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষের দাবি, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগে কয়েক কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়। রামগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কাজী আতিকুর রহমান জানান, গভীর রাত পর্যন্ত অভিযান চালিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়। ঘটনার পর শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটি সাত দিনের জন্য বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।
বুধবার ময়নাতদন্ত শেষে মেহেদীর মরদেহ নিয়ে থানার সামনে বিক্ষোভ করেন স্বজন ও স্থানীয়রা। তারা দ্রুত অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।
নিহতের চাচা জুয়েল রানা বলেন, ‘আইফোন চুরির অপবাদ দিয়ে আমার ভাতিজাকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছে। আমরা হত্যাকারীদের সর্বোচ্চ শাস্তি চাই।’
পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার তদন্ত চলছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে বিস্তারিত জানা যাবে। বর্তমানে অভিযুক্ত শিক্ষার্থীদের খুঁজে বের করতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর একাধিক দল কাজ করছে।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au