বাংলাদেশ

পরিমাণ ছাড়াল ১২ হাজার ৬৭৮ কোটি টাকা

এক বছরে সুইস ব্যাংকে বাংলাদেশিদের জমা অর্থ ৪১ শতাংশ বৃদ্ধি

  • 3:29 am - June 19, 2026
  • পঠিত হয়েছে:১৯০ বার
এক বছরে সুইস ব্যাংকে বাংলাদেশিদের জমা অর্থ ৪১ শতাংশ বৃদ্ধি। ছবিঃ সংগৃহীত

মেলবোর্ন, ১৯ জুন- সুইজারল্যান্ডের ব্যাংকগুলোতে বাংলাদেশিদের জমা অর্থের পরিমাণ এক বছরের ব্যবধানে উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। সর্বশেষ প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে সুইস ব্যাংকে বাংলাদেশিদের আমানত ৪১ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ৮৩ কোটি ৪১ লাখ সুইস ফ্রাঁতে পৌঁছেছে, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ১২ হাজার ৬৭৮ কোটি টাকার সমান।

বৃহস্পতিবার সুইজারল্যান্ডের কেন্দ্রীয় ব্যাংক সুইস ন্যাশনাল ব্যাংক (এসএনবি) তাদের বার্ষিক প্রতিবেদনে এ তথ্য প্রকাশ করে। প্রতিবেদনে দেখা যায়, ২০২৪ সালে সুইস ব্যাংকগুলোতে বাংলাদেশিদের জমা অর্থের পরিমাণ ছিল প্রায় ৫৯ কোটি সুইস ফ্রাঁ। এক বছরের ব্যবধানে তা বেড়ে ২৪ কোটিরও বেশি সুইস ফ্রাঁ যোগ হয়েছে।

বর্তমান বিনিময় হার অনুযায়ী প্রতি সুইস ফ্রাঁর মূল্য প্রায় ১৫২ থেকে ১৫৩ টাকা। সে হিসাবে ২০২৫ সালের শেষে সুইস ব্যাংকগুলোতে বাংলাদেশিদের মোট আমানতের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় ১২ হাজার ৬৭৮ কোটি টাকা।

প্রতিবেদন বিশ্লেষণে দেখা যায়, ২০২১ সালের পর ২০২৫ সালেই সুইস ব্যাংকে বাংলাদেশিদের সর্বোচ্চ পরিমাণ অর্থ জমা হয়েছে। গত এক দশকের হিসাবেও এটি দ্বিতীয় সর্বোচ্চ অবস্থানে রয়েছে।

তবে অর্থনীতিবিদরা মনে করিয়ে দিয়েছেন, সুইস ব্যাংকে জমা থাকা সব অর্থকে অর্থ পাচারের অর্থ হিসেবে বিবেচনা করা ঠিক হবে না। কারণ এসব আমানতের মধ্যে ব্যক্তি, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান এবং বিভিন্ন ব্যাংকের বৈধ আমানতও অন্তর্ভুক্ত থাকে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানায়, বাংলাদেশের বিভিন্ন ব্যাংক আন্তর্জাতিক লেনদেন ও আর্থিক ব্যবস্থাপনার অংশ হিসেবে বৈধ উপায়ে সুইজারল্যান্ডের ব্যাংকে অর্থ জমা রাখে। পাশাপাশি বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বসবাসরত বাংলাদেশি নাগরিক এবং প্রবাসী উদ্যোক্তারাও সুইস ব্যাংকে ব্যক্তিগত বা প্রাতিষ্ঠানিক হিসাব পরিচালনা করে থাকেন।

এছাড়া সুইজারল্যান্ডভিত্তিক ব্যাংকগুলোর বিদেশি শাখায় বাংলাদেশিদের নামে থাকা আমানতও এসএনবির প্রতিবেদনে বাংলাদেশের হিসাব হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। ফলে প্রতিবেদনে উল্লিখিত পুরো অর্থকে অবৈধ বা পাচারকৃত অর্থ হিসেবে দেখার সুযোগ নেই বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

তবে সাম্প্রতিক এই বৃদ্ধি অর্থ পাচার নিয়ে নতুন করে আলোচনা সৃষ্টি করেছে। কারণ এর আগে টানা দুই বছর সুইস ব্যাংকে বাংলাদেশিদের আমানত উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গিয়েছিল।

এসএনবির তথ্য অনুযায়ী, ২০২২ সালে বাংলাদেশিদের জমা অর্থ নেমে আসে প্রায় সাড়ে ৫ কোটি সুইস ফ্রাঁতে। ২০২৩ সালে তা আরও কমে দাঁড়ায় প্রায় পৌনে ২ কোটি সুইস ফ্রাঁতে। সেই তুলনায় ২০২৪ ও ২০২৫ সালে আমানতের পরিমাণ দ্রুত বেড়েছে।

এ বিষয়ে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের সাবেক অধ্যাপক মইনুল ইসলাম বলেন, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর অনেকের ধারণা ছিল যে দেশ থেকে অর্থ পাচারের প্রবণতা কমে আসবে। কিন্তু সুইস ব্যাংকের সর্বশেষ পরিসংখ্যান সেই প্রত্যাশার সঙ্গে পুরোপুরি সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।

তার মতে, অর্থ পাচার কেবল সুইস ব্যাংকে সীমাবদ্ধ নয়। বিশ্বের বিভিন্ন আর্থিক কেন্দ্র, অফশোর ব্যাংকিং ব্যবস্থা এবং ব্যবসা-বাণিজ্যের আড়ালেও বিপুল পরিমাণ অর্থ স্থানান্তর হয়ে থাকে। তাই কেবল সুইস ব্যাংকের তথ্য দিয়ে সামগ্রিক চিত্র মূল্যায়ন করা সম্ভব নয়।

তিনি বলেন, বর্তমান সরকারের জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হচ্ছে নতুন করে অর্থ পাচার বন্ধ করা এবং অতীতে বিদেশে চলে যাওয়া অর্থ ফিরিয়ে আনার কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করা। অন্যথায় অর্থ পাচার রোধ করা কঠিন হবে।

বিশ্লেষকদের মতে, ২০২৪ সালের রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর আওয়ামী লীগ সরকারের সাবেক মন্ত্রী, সংসদ সদস্য এবং সরকারঘনিষ্ঠ অনেক ব্যবসায়ী দেশ ছাড়েন। তাদের মধ্যে অনেকের সম্পদ জব্দ বা তদন্তের আওতায় আনা হয়। এ পরিস্থিতিতে কেউ কেউ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে নিজেদের সম্পদ ও অর্থ স্থানান্তর করে থাকতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।

এছাড়া সাবেক অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রকাশিত অর্থনীতি বিষয়ক শ্বেতপত্রেও বিগত বছরগুলোতে বিপুল অঙ্কের অর্থ বিদেশে পাচারের তথ্য উঠে এসেছিল। সেই অর্থের একটি অংশ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক আর্থিক প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে সুইস ব্যাংকেও জমা হয়ে থাকতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।

একসময় সুইজারল্যান্ডের ব্যাংকগুলোকে অবৈধ সম্পদ গোপন রাখার অন্যতম নিরাপদ আশ্রয়স্থল হিসেবে বিবেচনা করা হতো। ব্যাংকিং গোপনীয়তার কঠোর নীতির কারণে দেশটির ব্যাংকগুলো দীর্ঘদিন বিদেশি হিসাবধারীদের তথ্য প্রকাশ করত না। ফলে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের বিত্তশালী ব্যক্তি, ব্যবসায়ী এবং রাজনৈতিকভাবে প্রভাবশালী ব্যক্তিরা সেখানে অর্থ জমা রাখতেন।

তবে গত এক দশকে আন্তর্জাতিক আর্থিক ব্যবস্থায় বড় ধরনের পরিবর্তন এসেছে। অর্থ পাচার, কর ফাঁকি ও সন্ত্রাসে অর্থায়ন প্রতিরোধে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক চুক্তি ও তথ্য বিনিময় ব্যবস্থার আওতায় এখন সুইজারল্যান্ড অনেক দেশের সরকারকে প্রয়োজনীয় ব্যাংকিং তথ্য সরবরাহ করে থাকে।

ফলে অর্থ গোপনের জন্য শুধু সুইস ব্যাংকের ওপর নির্ভরশীলতা আগের তুলনায় কমেছে। এর পরিবর্তে ব্যবসা-বাণিজ্য, বিনিয়োগ, অফশোর কোম্পানি এবং বিভিন্ন জটিল আর্থিক কাঠামোর মাধ্যমে অর্থ বিদেশে সরিয়ে নেওয়ার অভিযোগ এখন বেশি শোনা যায়।

অর্থনীতিবিদদের মতে, সুইস ব্যাংকে বাংলাদেশিদের আমানত বৃদ্ধির পেছনে বৈধ ও অবৈধ উভয় ধরনের কারণ থাকতে পারে। প্রকৃত চিত্র জানতে হলে আমানতের উৎস, হিসাবধারীর পরিচয় এবং অর্থের প্রকৃতি নিয়ে আরও বিস্তারিত তথ্য বিশ্লেষণের প্রয়োজন রয়েছে। তবে সামগ্রিকভাবে সুইস ব্যাংকে বাংলাদেশিদের অর্থের পরিমাণ বৃদ্ধির বিষয়টি দেশের অর্থনীতি, বৈদেশিক মুদ্রার প্রবাহ এবং অর্থ পাচার প্রতিরোধের প্রশ্নে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

এই শাখার আরও খবর

ডেঙ্গুতে এক সপ্তাহে প্রাণ হারালেন ২৪ জন

দেশে ডেঙ্গুর প্রকোপ ক্রমেই বাড়ছে। গতকাল সোমবার সকাল ৮টা পর্যন্ত আগের ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে আরও চারজনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে নতুন করে ১…

নতুন বাসায় ওঠার পরদিনই হিন্দু চিকিৎসকের ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার

সিলেট নগরীর মির্জাজাঙ্গাল এলাকার একটি ভাড়া বাসা থেকে পদ্মজিৎ চক্রবর্তী প্রান্ত (৩১) নামে এক শিক্ষানবিশ চিকিৎসকের ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। নতুন বাসায় ওঠার পরদিনই…

‘ঘৃণা নয়, শুদ্ধ সাত্ত্বিক প্রেমই আরএসএসের ভিত্তি’: লন্ডনে মোহন ভাগবত

লন্ডনে রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘের (আরএসএস) কাজের মূল দর্শন তুলে ধরে সংগঠনটির সরসংঘচালক মোহন ভাগবত বলেছেন, তীব্র ঘৃণা নয়, ‘শুদ্ধ সাত্ত্বিক প্রেম’ই আরএসএসের কর্মকাণ্ডের ভিত্তি। পারস্পরিক…

নিখোঁজের ৮ ঘণ্টা পর গর্ত থেকে শিশু বিথি রায়ের মরদেহ উদ্ধার

কুড়িগ্রাম সদর উপজেলায় নিখোঁজ হওয়ার প্রায় আট ঘণ্টা পর বিথি রায় নামে ছয় বছর বয়সী এক শিশুর মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। সোমবার রাত ৮টার দিকে…

যুক্তরাজ্যে ফিরলেও রাজপরিবারের দায়িত্বে ফিরছেন না হ্যারি-মেগান

যুক্তরাজ্যে প্রিন্স হ্যারি ও তাঁর স্ত্রী মেগান মার্কেলের ফেরার খবরে রাজপরিবারের সঙ্গে তাঁদের সম্পর্ক নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। এর মধ্যেই হ্যারি ও মেগানের…

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ওপর স্বাধীন নজরদারি প্রতিষ্ঠান গঠনের আহ্বান ফলকার টুর্কের

বাংলাদেশের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কর্মকাণ্ডের ওপর নজরদারি এবং তাদের জবাবদিহি নিশ্চিত করতে একটি শক্তিশালী ও স্বাধীন জাতীয় প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনার…

স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au