ডিজিটাল মাধ্যমে নকলের জন্য শাস্তির বিধান রেখে ‘পাবলিক পরীক্ষা আইন’ পাস
মেলবোর্ন, ১৯ জুন- প্রযুক্তির অপব্যবহার রোধ এবং পাবলিক পরীক্ষার স্বচ্ছতা ও সুষ্ঠু পরিবেশ নিশ্চিত করতে ডিজিটাল মাধ্যমে নকলের বিরুদ্ধে শাস্তির বিধান যুক্ত করে ‘পাবলিক পরীক্ষা…
মেলবোর্ন, ১৯ জুন- রাতভর টানা ভারী বৃষ্টিতে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে ভারতের পশ্চিমবঙ্গের উত্তরবঙ্গে পাহাড়ি ও সমতল এলাকা। পাহাড় থেকে সমতল পর্যন্ত বিভিন্ন জায়গায় ধস, সেতু ভাঙন এবং নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় জনজীবন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে। দার্জিলিং–শিলিগুড়ি সড়ক যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় পুরো এলাকায় তৈরি হয়েছে অচলাবস্থা।
বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা থেকে শুক্রবার ভোর পর্যন্ত দার্জিলিং, কার্শিয়াং, মিরিকসহ আশপাশের এলাকায় প্রায় ২০০ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়। ভারী বৃষ্টির কারণে বালাসন, তিস্তা ও মহানন্দা নদীর পানি দ্রুত বেড়ে যায়।
সবচেয়ে বড় ক্ষতি হয়েছে দুধিয়া এলাকায়। বালাসন নদীর প্রবল স্রোতে দুধিয়ার অস্থায়ী বিকল্প সেতু সম্পূর্ণভাবে ভেসে গেছে। এতে মিরিকের সঙ্গে দুধিয়া এবং শিলিগুড়ির সড়ক যোগাযোগ প্রায় বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে।
একই সময় ভারী বৃষ্টি ও মহানন্দা নদীর জলস্তর বাড়ার কারণে ১১০ নম্বর জাতীয় সড়কের একাধিক স্থানে ধস নামে। এতে দার্জিলিং–শিলিগুড়ি সড়ক যোগাযোগ সম্পূর্ণভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। তবে ১০ নম্বর জাতীয় সড়ক এবং কালিম্পং ও সিকিমমুখী রাস্তায় যান চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে।
খারসাং থেকে শিলিগুড়িগামী তিন লেনের সড়কের একটি অংশও ধসে গেছে। পাশাপাশি একটি বড় গাছ রাস্তার ওপর উপড়ে পড়ে যান চলাচল আরও বাধাগ্রস্ত করে। প্রশাসন জানিয়েছে, ধস সরানো এবং রাস্তা মেরামত শেষ না হওয়া পর্যন্ত যোগাযোগ স্বাভাবিক করা সম্ভব নয়।
এদিকে দার্জিলিং হিমালয়ান রেলওয়ের টয়ট্রেন পরিষেবাও বন্ধ রাখা হয়েছে। সংস্থার পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, শুক্রবার সব ট্রেন বন্ধ ছিল। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে শনিবার দার্জিলিং থেকে কার্শিয়াং পর্যন্ত সীমিত পরিষেবা চালু করা হবে।
স্থানীয় প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার রাত থেকেই বালাসন নদীর পানি বিপজ্জনকভাবে বাড়তে থাকে। একই সময়ে মহানন্দা ব্যারেজের কিছু গেট খুলে দেওয়ায় পানির চাপ আরও বেড়ে যায়। এতে দুধিয়া এলাকার অস্থায়ী সেতুটি মধ্যরাতে সম্পূর্ণভাবে ডুবে যায়।
স্থানীয়রা জানান, বর্ষা শুরুর পর থেকেই নদীর পানি বাড়ছিল। গত বছর ভাঙা মূল সেতুর জায়গায় অস্থায়ীভাবে যে কাঠামো তৈরি করা হয়েছিল, তা এবার পানির চাপ সহ্য করতে পারেনি।
পরিস্থিতি নিয়ে প্রশাসন সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। পর্যটনমন্ত্রী শঙ্কর ঘোষ জানিয়েছেন, পুরো পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে এবং জেলা প্রশাসনের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখা হচ্ছে। পর্যটকদের নিরাপদ স্থানে থাকার এবং প্রশাসনের নির্দেশ মেনে চলার অনুরোধ জানানো হয়েছে।
আবহাওয়া বিভাগ জানিয়েছে, ভুটান ও সিকিম পাহাড়ে এখনও ভারী মেঘ রয়েছে। ফলে আবারও ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা আছে। নতুন করে বৃষ্টি হলে ডুয়ার্সসহ সমতল অঞ্চলের নদীগুলোতে পানি আরও বাড়তে পারে এবং বন্যার ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।
সূত্রঃ আনন্দবাজার
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au