অস্ট্রেলিয়া

অভিবাসন কমাতে বিভিন্ন দলের ভিন্ন পরিকল্পনা, কী ভাবছেন অস্ট্রেলীয় ভোটাররা?

  • 12:55 pm - June 20, 2026
  • পঠিত হয়েছে:২৭ বার
অস্ট্রেলিয়ার প্রধান রাজনৈতিক দলগুলো অভিবাসন নিয়ে ভিন্ন ভিন্ন অবস্থান নিয়েছে। ছবিঃ সংগৃহীত

মেলবোর্ন, ২০ জুন- মহামারির পর সীমান্ত পুনরায় খুলে দেওয়ার পর থেকে অস্ট্রেলিয়ায় নিট অভিবাসন এখন সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে এসেছে। তবে ২০২৬ সালে দেশটির রাজনীতিতে অভিবাসন প্রশ্নটি অন্যতম বড় বিতর্কের বিষয়ে পরিণত হয়েছে।

অস্ট্রেলিয়ান ব্যুরো অব স্ট্যাটিস্টিকস (এবিএস)-এর বৃহস্পতিবার প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে নিট বিদেশি অভিবাসনের সংখ্যা ছিল ৩ লাখ ১ হাজার। আগের বছর এ সংখ্যা ছিল ৩ লাখ ৬ হাজার।

সংখ্যা কিছুটা কমলেও এটি এখনো ক্ষমতাসীন লেবার পার্টির নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি। এ কারণে বিরোধী জোট এবং ওয়ান নেশন পার্টি দাবি করছে, বর্তমান অভিবাসনের হার এখনো “টেকসই নয়”।

তথ্য প্রকাশের একদিন আগে ওয়ান নেশন নেত্রী পলিন হ্যানসন জাতীয় প্রেস ক্লাবে দেওয়া ভাষণে আবাসন সংকটের জন্য অভিবাসনকে দায়ী করেন।

যদিও অনেক বিশেষজ্ঞ মনে করেন, অভিবাসনের সঙ্গে আবাসন সংকটের কিছু সম্পর্ক রয়েছে, তবে এ প্রভাব কতটা বড় তা নিয়ে তাদের মধ্যে মতভেদ রয়েছে।

অস্ট্রেলিয়া ইনস্টিটিউটের জ্যেষ্ঠ অর্থনীতিবিদ ম্যাট গ্রুডনফ সম্প্রতি এসবিএসকে বলেন, তথ্য-উপাত্তে দেখা যায় অভিবাসীরা আবাসন ব্যয় বৃদ্ধির মূল কারণ নন। বরং সামগ্রিকভাবে তারা অর্থনীতিতে ইতিবাচক অবদান রাখেন।

তাহলে অস্ট্রেলিয়ার প্রধান রাজনৈতিক দলগুলো অভিবাসন নিয়ে কী অবস্থান নিয়েছে, আর ভোটাররা আসলেই এ বিষয়টি নিয়ে কতটা উদ্বিগ্ন?

লেবার পার্টি

লেবার সরকার অভিবাসন কমানোর পক্ষে থাকলেও ধীরে ও নিয়ন্ত্রিতভাবে তা করতে চায়।

২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য তাদের স্থায়ী অভিবাসন কর্মসূচিতে ১ লাখ ৮৫ হাজার জনের সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মধ্যে ১ লাখ ৩২ হাজার ২৪০টি স্থান দক্ষ জনবলের ঘাটতি পূরণের জন্য রাখা হয়েছে।

দীর্ঘমেয়াদে সরকার আগামী তিন বছরে বছরে গড়ে ২ লাখ ২৫ হাজার নিট অভিবাসনের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে।

অর্থমন্ত্রী জিম চালমার্স বলেন, সর্বশেষ পরিসংখ্যান প্রমাণ করছে অভিবাসনের হার ইতোমধ্যে কমতে শুরু করেছে এবং সর্বোচ্চ পর্যায়ের তুলনায় এটি ৪৫ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে।

আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে ২০২৬ সালের জন্য ২ লাখ ৯৫ হাজার শিক্ষার্থী ভর্তির সীমা নির্ধারণ করেছে সরকার। তাদের মতে, এটি নিয়ন্ত্রিত ও টেকসই প্রবৃদ্ধি নিশ্চিত করবে এবং একই সঙ্গে অভিবাসন ব্যবস্থার স্বচ্ছতা বজায় রাখবে।

আবাসন সংকটের বিষয়ে অভিবাসনমন্ত্রী টনি বার্ক বলেন, ভুলভাবে অভিবাসন কমানোর চেষ্টা করলে আবাসন পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে পারে। তার মতে, অভিবাসনের সংখ্যা আবাসন সরবরাহের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হতে হবে।

তবে লেবার পার্টি মনে করে, আবাসন সংকটের প্রধান সমাধান হলো নতুন ঘরবাড়ি নির্মাণ, নির্মাণশ্রমিক তৈরি, রাজ্যভিত্তিক প্রণোদনা এবং সামাজিক আবাসনে বিনিয়োগ বৃদ্ধি; শুধুমাত্র অভিবাসন কমানো নয়।

কোয়ালিশন

বিরোধী কোয়ালিশনের অভিবাসন নীতির নাম ‘অস্ট্রেলিয়ান ভ্যালুজ মাইগ্রেশন প্ল্যান’।

তারা এখনো নির্দিষ্ট কোনো সংখ্যা ঘোষণা করেনি, তবে ইঙ্গিত দিয়েছে যে অভিবাসনের সংখ্যা ২ লাখের অনেক নিচে রাখা হবে।

কোয়ালিশনের প্রস্তাব অনুযায়ী, প্রতি বছর যত নতুন বাড়ি নির্মাণ হবে, তার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে অভিবাসনের সীমা নির্ধারণ করা হবে।

বিরোধীদলীয় নেতা অ্যাঙ্গাস টেইলর বলেছেন, এই পরিকল্পনার লক্ষ্য হলো “গণ-অভিবাসন” নিয়ন্ত্রণ করা।

তার ভাষায়, “অস্ট্রেলিয়া যত মানুষকে আবাসন দিতে পারে, তত মানুষকেই দেশে আনা উচিত।”

কোয়ালিশন অভিবাসীদের জন্য একটি বাধ্যতামূলক ‘অস্ট্রেলিয়ান মূল্যবোধ ঘোষণাপত্র’ চালু করতে চায়। এতে ধর্মীয় স্বাধীনতা, জাতীয় ভাষা হিসেবে ইংরেজি এবং সবার জন্য সমান সুযোগের মতো বিষয় থাকবে।

টেইলর বলেন, কেউ যদি গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ ক্ষুণ্ন করে, আইন অমান্য করে বা দেশের মৌলিক মূল্যবোধের প্রতি অসম্মান দেখায়, তাহলে তার ভিসা বাতিল করে তাকে অস্ট্রেলিয়া থেকে বহিষ্কার করা হবে।

আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের বিষয়ে ন্যাশনালস দলের নেতা ম্যাট কানাভান বর্তমান শিক্ষার্থী ভিসা ব্যবস্থাকে “সম্পূর্ণ প্রতারণা” বলে আখ্যা দিয়েছেন এবং এটি উল্লেখযোগ্যভাবে কমানোর কথা বলেছেন।

এছাড়া মেয়াদোত্তীর্ণ ভিসাধারী, ভিত্তিহীন আশ্রয় আবেদনকারী এবং উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে দলটি।

ওয়ান নেশন

ওয়ান নেশনের নীতির মূল স্লোগান ‘অস্ট্রেলিয়া ফার্স্ট’।

দলটি বছরে সর্বোচ্চ ১ লাখ ৩০ হাজার ভিসা দেওয়ার প্রস্তাব করেছে। তাদের দাবি, এতে আবাসন, অবকাঠামো এবং মজুরির ওপর চাপ কমবে।

এছাড়া তারা অবৈধ অভিবাসী হিসেবে চিহ্নিত ৭৫ হাজার মানুষকে বহিষ্কার করতে চায় এবং নতুন অভিবাসীদের নাগরিকত্ব বা সরকারি ভাতা পাওয়ার আগে আট বছর অপেক্ষার শর্ত আরোপ করতে চায়।

আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে তারা এমন ভিসা ব্যবস্থার বিরোধিতা করে, যা পড়াশোনাকে স্থায়ী বসবাস বা স্বল্প মজুরির চাকরির পথ হিসেবে ব্যবহার করার সুযোগ দেয়।

দলটি আরও চায়, যেসব দেশ থেকে তাদের মতে উগ্রপন্থী মতাদর্শ ছড়ায়, সেসব দেশের অভিবাসীদের প্রবেশ সীমিত করা হোক।

এছাড়া তারা জাতিসংঘের শরণার্থী কনভেনশন থেকেও বেরিয়ে আসার পক্ষে।

ওয়ান নেশন সরাসরি অভিবাসনকে আবাসন সংকটের সঙ্গে যুক্ত করে এবং মনে করে, অভিবাসন উল্লেখযোগ্যভাবে কমালে বাড়ি ও ভাড়া বাজারে চাপ কমবে।

গ্রিনস

গ্রিনস একমাত্র বড় দল, যারা সামগ্রিক অভিবাসন কমানোর প্রস্তাব দেয়নি।

তাদের মতে, অভিবাসন অস্ট্রেলিয়ার জন্য উপকারী এবং শরণার্থী ও পরিবার পুনর্মিলনকে অগ্রাধিকার দেওয়া উচিত।

আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের তারা আবাসন সংকটের জন্য দায়ী মনে করে না। দলের মতে, প্রকৃত কারণ আড়াল করতে অভিবাসী ও বিদেশি শিক্ষার্থীদের বলির পাঁঠা বানানো হচ্ছে।

শরণার্থী ও আশ্রয়প্রার্থীদের ক্ষেত্রে গ্রিনস মানবিক কর্মসূচির আওতা বাড়িয়ে বছরে ৫০ হাজার জনকে গ্রহণ করার পক্ষে। তারা অফশোর আটককেন্দ্র বন্ধ এবং পরিবার বিচ্ছিন্নতার অবসান চায়।

আবাসন সংকটের সমাধান হিসেবে তারা ভাড়াটিয়াদের সুরক্ষা, সরকারি ও সাশ্রয়ী আবাসন নির্মাণ বৃদ্ধি এবং ধনী সম্পত্তি বিনিয়োগকারীদের ওপর বেশি কর আরোপের প্রস্তাব দিয়েছে।

ভোটাররা কী ভাবছেন?

এবিএসের সাম্প্রতিক জরিপে দেখা গেছে, ২০২৫ সালে ৭৫ শতাংশ অস্ট্রেলীয় মনে করেন বহুসাংস্কৃতিক সমাজ দেশের জন্য ইতিবাচক।

তবে ২০২০ সালের তুলনায় বহুসাংস্কৃতিকতার প্রতি সমর্থন ১০ শতাংশ কমেছে।

রেডব্রিজ গ্রুপের পরিচালক ও জনমত বিশ্লেষক কস সামারাস বলেন, দীর্ঘদিন ধরেই অধিকাংশ অস্ট্রেলীয় মনে করেন অভিবাসনের হার বেশি, সরকারে যে দলই থাকুক না কেন।

তবে তিনি বলেন, এই উদ্বেগ রাজনৈতিকভাবে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু হয়ে ওঠেনি। এমনকি ওয়ান নেশনের ভোটারদের মধ্যেও মাত্র ৩০ শতাংশ অভিবাসনকে প্রধান অগ্রাধিকার হিসেবে দেখেন।

তার মতে, অভিবাসন নিয়ে অনেক আলোচনা হলেও এটি বর্তমানে অস্ট্রেলিয়ার রাজনীতির সবচেয়ে বড় চালিকাশক্তি নয়।

সামারাস বলেন, মানুষের সবচেয়ে বড় উদ্বেগ হলো জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি। এরপর রয়েছে আবাসন ও স্বাস্থ্যসেবা।

তিনি আরও বলেন, অভিবাসন ও আবাসন সংকটের মধ্যে যে সরাসরি সম্পর্ক দেখানো হয়, বাস্তবে তা সবসময় তথ্য-উপাত্তে প্রমাণিত হয় না। আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীরা যেখানে থাকে, ভাড়া সংকটের অনেক এলাকা তার সঙ্গে মেলে না। আবার শরণার্থী ও আশ্রয়প্রার্থীরাও সাধারণত বড় শহরের ব্যয়বহুল এলাকায় বাড়ি কেনা বা ভাড়া নেওয়ার অবস্থায় থাকে না। তার ভাষায়, অর্থনীতি যখন ভালো অবস্থায় থাকে না, তখন অভিবাসীদের দোষারোপ করা সহজ হয়ে যায়।

এই শাখার আরও খবর

হাইতিকে উড়িয়ে গ্রুপসেরা ব্রাজিল, কুনহার জোড়া গোলে ৩-০ ব্যবধানের জয়

মেলবোর্ন, ২০ জুন- মরক্কোর বিপক্ষে ড্র করে সমালোচনার মুখে পড়েছিল ব্রাজিল। তবে সেই হতাশা বেশিক্ষণ স্থায়ী হতে দেয়নি পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। ২০২৬ বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বে নিজেদের…

বাংলাদেশে তৈরি জার্সি গায়ে বিশ্বকাপে ইতিহাস গড়ল কেপ ভার্দে

মেলবোর্ন, ২০ জুন- ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপে নিজেদের অভিষেক ম্যাচে স্পেনের মতো শক্তিশালী দলের বিপক্ষে ড্র করে ইতিহাস গড়েছে পশ্চিম আফ্রিকার দেশ কেপ ভার্দে। তবে মাঠের…

‘এখনো সময় আছে’, জুলাইপন্থীদের উদ্দেশে মাহফুজ আলম

মেলবোর্ন, ২০ জুন- জুলাই আন্দোলনের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ, মধ্যবিত্ত সমাজের ভূমিকা এবং রাষ্ট্র রূপান্তরের প্রশ্নে গুরুত্বপূর্ণ মন্তব্য করেছেন অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক উপদেষ্টা মাহফুজ আলম। তিনি মনে…

রামের প্রতিকৃতি অবমাননা ও মূর্তি নির্মাণে বাধার ঘটনায় উদ্বেগ, নিন্দা জানাল অস্ট্রেলিয়াভিত্তিক সংস্থা AFERMB

মেলবোর্ন, ১৯ জুন: বাংলাদেশে ভগবান রামের প্রতিকৃতি অবমাননা এবং গাইবান্ধার পলাশবাড়ীতে নির্মাণাধীন রামমূর্তি ভেঙে ফেলার হুমকির ঘটনায় গভীর উদ্বেগ ও তীব্র নিন্দা জানিয়েছে অস্ট্রেলিয়ান ফেডারেশন…

মাঠে নামছে বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ – শনিবার দেশব্যাপী মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিলের ঘোষণা

মেলবোর্ন ১৯ জুন: গাইবান্ধারের পলাশবাড়ীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে মন্দিরে হামলা, ভাঙচুর ও ধর্মীয় উপাসনালয়ে আক্রমণের ঘটনার প্রতিবাদে দেশব্যাপী মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিলের কর্মসূচি ঘোষণা করেছে…

যুক্তরাষ্ট্রের কাছে ২-০ গোলে বিধ্বস্ত অস্ট্রেলিয়া

মেলবোর্ন, ২০ জুন: ফিফা বিশ্বকাপে গ্রুপ ডি-তে যুক্তরাষ্ট্রের বিপক্ষে হতাশাজনক পারফরম্যান্সের পর কঠিন পরিস্থিতিতে পড়েছে অস্ট্রেলিয়ার সকারুজ। সিয়াটলে অনুষ্ঠিত ম্যাচে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে ২-০ গোলের পরাজয়ের…

স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au