ইনজুরি কাটিয়ে দলে ফিরছেন নেইমার
মেলবোর্ন, ২০ জুন- নেইমার জুনিয়রকে বিশ্বকাপে ফেরানোর বিষয়ে আশাবাদী বার্তা দিয়েছেন ব্রাজিল জাতীয় দলের কোচ কার্লো আনচেলত্তি। চোটের কারণে টুর্নামেন্টের প্রথম দুই ম্যাচে মাঠে নামতে…
মেলবোর্ন, ২০ জুন- টিকা ক্যাম্পেইনের পরও হামের সংক্রমণ পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আসেনি। জাতীয় পর্যায়ের হাম–রুবেলা টিকা ক্যাম্পেইন শেষ হয়েছে এক মাস আগে, ২০ মে। এরপরও প্রতিদিন গড়ে প্রায় এক হাজার মানুষ হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে যাচ্ছে। মৃত্যুর সংখ্যা কিছুটা কমলেও নতুন রোগী আসা থামেনি। জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, টিকাদান কার্যক্রমের পরও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে না আসার বিষয়টি উদ্বেগজনক এবং এ ক্ষেত্রে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের আরও কার্যকর নজরদারি প্রয়োজন।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ঢাকা কার্যালয়ের অভ্যন্তরীণ বিশ্লেষণ অনুযায়ী, ১ থেকে ৭ জুনের মধ্যে আগের সপ্তাহের তুলনায় হামের উপসর্গ ও নিশ্চিত রোগীর মৃত্যুর সংখ্যা কিছুটা কমেছে। তবে একই সময়ে হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি রোগী এবং নিশ্চিত রোগীর সংখ্যা সামান্য বেড়েছে। অর্থাৎ মৃত্যুহার কমলেও সংক্রমণ পুরোপুরি কমার প্রবণতা স্পষ্ট হয়নি।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাস বলেন, হামে আক্রান্তের সংখ্যা কমার একটি প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। মে মাসের তুলনায় জুনে রোগী কম এসেছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, জুনের শেষ নাগাদ সংক্রমণ আরও কমে আসবে।
তবে জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, সংক্রমণ কমার প্রবণতা দেখা গেলেও সেটিকে নিয়ন্ত্রণে আসা বলা যায় না। মার্চের শুরুতে হামের প্রাদুর্ভাব দেখা দেওয়ার পর সরকার ৫ এপ্রিল থেকে জাতীয় টিকাদান ক্যাম্পেইন শুরু করে, যা শেষ হয় ২০ মে। বিশেষজ্ঞদের মতে, টিকা নেওয়ার দুই থেকে তিন সপ্তাহের মধ্যেই শরীরে প্রতিরোধক্ষমতা তৈরি হয়। সেই হিসেবে ক্যাম্পেইন শেষ হওয়ার চার সপ্তাহ পরও প্রতিদিন এত বিপুলসংখ্যক রোগী হাসপাতালে আসা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টার তথ্য অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার সকাল থেকে শুক্রবার সকাল পর্যন্ত সারা দেশে হামের উপসর্গ নিয়ে ১ হাজার ৭৮ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। একই সময়ে সন্দেহভাজন হামে ৪ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং ৯৬ জনের নিশ্চিত হামের সংক্রমণ শনাক্ত হয়েছে। বর্তমানে তিন হাজারের বেশি রোগী সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, রোগী হাসপাতালে আসা বন্ধ হলে এবং মৃত্যু শূন্যের কাছাকাছি নামলে তখনই বলা যাবে সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে এসেছে। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতি সে অবস্থার কাছাকাছি নয়।
টিকাদান ক্যাম্পেইনে ছয় মাস থেকে পাঁচ বছর বয়সী শিশুদের টিকা দেওয়া হলেও বাস্তবে এর বাইরে থাকা শিশু এবং প্রাপ্তবয়স্কদের মধ্যেও সংক্রমণ দেখা যাচ্ছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর বয়সভিত্তিক আলাদা তথ্য প্রকাশ না করায় পরিস্থিতির প্রকৃত চিত্র পাওয়া যাচ্ছে না বলে অভিযোগ রয়েছে।
এ বিষয়ে জনস্বাস্থ্যবিদরা বলছেন, শুধু টিকা দেওয়া নয়, টিকা কাজ করছে কি না তা মূল্যায়ন করাও জরুরি। পাশাপাশি সংক্রমণ ছড়ানো বন্ধে হাসপাতাল ও সামাজিক পর্যায়ে আরও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া দরকার ছিল।
রোগতত্ত্ব, রোগনিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের সাবেক পরিচালক অধ্যাপক মাহমুদুর রহমান বলেন, হাসপাতালে জ্বর ও র্যাশ থাকা রোগীদের আলাদা করার ব্যবস্থা রাখা, হাসপাতালের পরিবেশ খোলা রাখা, মাস্ক ব্যবহার নিশ্চিত করা, হাত ধোয়ার ব্যবস্থা এবং ভিজিটর নিয়ন্ত্রণের মতো পদক্ষেপগুলো এখনো যথাযথভাবে বাস্তবায়িত হচ্ছে না বলে মনে হয়।
তিনি আরও বলেন, ছয় মাসের কম বয়সী শিশুদের হামে আক্রান্ত হলে তাদের আলাদা রাখার পাশাপাশি পরিবার ও সমাজ পর্যায়ে সচেতনতা বাড়ানো প্রয়োজন ছিল, যা এখনো যথেষ্টভাবে দেখা যাচ্ছে না।
সব মিলিয়ে টিকাদান ক্যাম্পেইন শেষ হলেও হামের সংক্রমণ পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে না আসায় জনস্বাস্থ্য খাতে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au