যে কারণে বিশ্বকাপ ইতিহাসের অংশ হচ্ছে জাপান-তিউনিসিয়া ম্যাচ
মেলবোর্ন, ২০ জুন- প্রায় এক শতাব্দীর গৌরবময় যাত্রায় আরেকটি ঐতিহাসিক মাইলফলকের সামনে দাঁড়িয়ে ফিফা বিশ্বকাপ। ১৯৩০ সালে উরুগুয়েতে যাত্রা শুরু করা বিশ্ব ফুটবলের সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ…
মেলবোর্ন, ২০ জুন- ইরানের সঙ্গে চলমান সংঘাতের ব্যয় বহন এবং সামরিক ও বেসামরিক বিভিন্ন জরুরি খাতের কার্যক্রম সচল রাখতে অতিরিক্ত ৮০ বিলিয়ন ডলার বরাদ্দ চেয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা বিভাগ (পেন্টাগন)। মার্কিন সংবাদমাধ্যম ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল-এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দেশটির উপপ্রতিরক্ষামন্ত্রী স্টিফেন ফেইনবার্গ সম্প্রতি আইনপ্রণেতাদের সঙ্গে আলোচনায় এই অর্থের প্রয়োজনীয়তার বিষয়টি তুলে ধরেছেন।
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, নতুন এই অর্থের একটি বড় অংশ ইরানের বিরুদ্ধে চলমান সামরিক অভিযানের ব্যয় মেটাতে ব্যবহার করা হবে। পাশাপাশি কৃষি সহায়তা, দুর্যোগ মোকাবিলা এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ বেসামরিক খাতেও অর্থ ব্যয় করা হবে। কয়েক দিনের মধ্যেই এ সংক্রান্ত পূর্ণাঙ্গ অর্থ বরাদ্দ প্রস্তাব কংগ্রেসে পাঠানো হতে পারে বলে জানা গেছে।
তবে এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত আনুষ্ঠানিক কোনো মন্তব্য করেনি পেন্টাগন। হোয়াইট হাউসও বিষয়টি নিয়ে প্রকাশ্যে কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি।
মার্কিন কর্মকর্তাদের আশঙ্কা, অতিরিক্ত অর্থ বরাদ্দ অনুমোদন না হলে আগামী কয়েক মাসের মধ্যেই প্রতিরক্ষা বিভাগের বাজেট সংকট দেখা দিতে পারে। সেক্ষেত্রে সামরিক প্রশিক্ষণ কর্মসূচি, যুদ্ধ প্রস্তুতি এবং যুক্তরাষ্ট্র-মেক্সিকো সীমান্তে মোতায়েন থাকা অতিরিক্ত সেনা কার্যক্রমেও প্রভাব পড়তে পারে। বর্তমানে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অভিবাসনবিরোধী নীতির অংশ হিসেবে ওই সীমান্তে অতিরিক্ত সেনা মোতায়েন রয়েছে।
প্রস্তাবিত ৮০ বিলিয়ন ডলারের বড় একটি অংশ অস্ত্র, গোলাবারুদ, যুদ্ধজাহাজ পরিচালনা এবং সামরিক সদস্যদের বেতন-ভাতার জন্য ব্যয় করা হবে। এর আগে পেন্টাগনের এক কর্মকর্তা জানিয়েছিলেন, ইরান যুদ্ধের পেছনে ইতোমধ্যে প্রায় ২৫ বিলিয়ন ডলার ব্যয় হয়েছে। তবে সংঘাতের প্রকৃত মোট ব্যয়ের হিসাব এখনো প্রকাশ করা হয়নি।
এর আগে যুদ্ধ ও সামরিক খাতের জন্য অতিরিক্ত ২০০ বিলিয়ন ডলার বরাদ্দের একটি প্রস্তাব কংগ্রেসে তীব্র বিরোধিতার মুখে পড়ে। ফলে নতুন বরাদ্দ প্রস্তাব নিয়েও রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে।
গত এপ্রিল মাসে প্রতিনিধি পরিষদের বাজেট কমিটির শুনানিতে হোয়াইট হাউসের বাজেট পরিচালক রাসেল ভট বলেন, ইরান যুদ্ধের মোট ব্যয়ের নির্দিষ্ট হিসাব তার কাছে নেই। তবে তিনি ট্রাম্প প্রশাসনের প্রস্তাবিত ১ দশমিক ৫ ট্রিলিয়ন ডলারের সামরিক বাজেটের পক্ষে অবস্থান নেন।
এদিকে আগামী মধ্যবর্তী নির্বাচন সামনে রেখে যুদ্ধ ব্যয় নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে বিতর্ক ক্রমেই তীব্র হচ্ছে। অনেক মার্কিন নাগরিকের অভিযোগ, মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘমেয়াদি সামরিক অভিযান ও যুদ্ধ ব্যয়ের চাপ দেশের অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি, জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি এবং সামাজিক খাতে বিনিয়োগ কমে যাওয়ার জন্যও তারা যুদ্ধ ব্যয়কে দায়ী করছেন।
বিশ্লেষকদের মতে, দেশের অর্থনৈতিক চাপের মধ্যে বিদেশি সামরিক অভিযানে বিপুল অর্থ ব্যয়ের কারণে ট্রাম্প প্রশাসন জনমতের চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে পারে। একই সঙ্গে নতুন বরাদ্দ প্রস্তাব কংগ্রেসে কতটা সমর্থন পায়, সেটিও যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক অঙ্গনের গুরুত্বপূর্ণ আলোচ্য বিষয়ে পরিণত হয়েছে।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au