শেখ হাসিনার সংবাদ সম্মেলন নির্ধারিত সময়েই অনুষ্ঠিত হবে: জয়
মেলবোর্ন, ৫ আগষ্ট: আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার সংবাদ সম্মেলন নির্ধারিত সময়েই অনুষ্ঠিত হবে বলে জানিয়েছেন তাঁর ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয়। সোমবার (৪ আগস্ট) বাংলাদেশ…
মেলবোর্ন, ৫ আগষ্ট- আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম বলেছেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার স্বাভাবিক বক্তব্য প্রচারে কোনো আইনি বাধা নেই। আদালতের আদেশে কেবল বিদ্বেষমূলক বক্তব্য দেওয়া বা প্রচারের বিষয়ে নিষেধাজ্ঞা রয়েছে বলে তিনি জানিয়েছেন।
মঙ্গলবার (৫ আগস্ট) দুপুরে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে চিফ প্রসিকিউটরের কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।
চিফ প্রসিকিউটর বলেন, আদালতের আদেশে শেখ হাসিনাকে বক্তব্য দেওয়া থেকে বিরত থাকতে বলা হয়নি। বরং আদেশে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে, তিনি যেন বিদ্বেষমূলক কোনো বক্তব্য না দেন।
তিনি বলেন, “কোর্টের অর্ডারে বলা ছিল, উনি যেন বিদ্বেষমূলক কোনো কথা না বলেন। সেখানে তাঁকে কিন্তু বক্তব্য দিতে বারণ করা হয়নি। যদি তিনি স্বাভাবিক কথাবার্তা বলেন, সেটার ওপর তো কোনো নিষেধাজ্ঞা নেই।”
সংবাদ সম্মেলনে শেখ হাসিনার দেশে প্রত্যাবর্তন এবং তাঁর বিরুদ্ধে দেওয়া মৃত্যুদণ্ডের রায় কার্যকর করার বিষয়েও কথা বলেন চিফ প্রসিকিউটর। তিনি জানান, বর্তমানে ভারতে অবস্থানরত শেখ হাসিনা দেশে ফিরে এলে আইন অনুযায়ী পরবর্তী প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হবে।
তিনি বলেন, শেখ হাসিনা দেশে ফিরলে আদালতের দেওয়া রায় কার্যকর করার আইনি প্রক্রিয়া শুরু হবে। যদি তাঁর আপিল করার সুযোগ থাকে, তাহলে সেই আপিল নিষ্পত্তির পর রায় কার্যকর হবে। আর আপিলের সুযোগ না থাকলে আইন অনুযায়ী অন্য প্রক্রিয়ায় রায় বাস্তবায়ন করা হবে।
এ সময় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আইনের ২১(৩) ধারার প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, রায় ঘোষণার ৩০ দিনের মধ্যে আপিল করতে হয়। নির্ধারিত সময় অতিক্রম করায় শেখ হাসিনার আপিলের সুযোগ আর নেই বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত কোনো আসামির জামিনের বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে চিফ প্রসিকিউটর বলেন, বাংলাদেশে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তিকে জামিন দেওয়ার কোনো নজির নেই।
সংবাদ সম্মেলনের শুরুতে গুম-সংক্রান্ত প্রস্তাবিত আইন নিয়েও কথা বলেন মো. আমিনুল ইসলাম। তিনি জানান, খসড়া আইনে গুমের ঘটনাকে দুটি শ্রেণিতে ভাগ করা হয়েছে। বিচ্ছিন্নভাবে সংঘটিত গুমের ঘটনা স্বতন্ত্র ফৌজদারি অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হবে। তবে যদি কোনো গুম পদ্ধতিগতভাবে এবং ব্যাপক পরিসরে সংঘটিত হয়, তাহলে সেটিকে মানবতাবিরোধী অপরাধ হিসেবে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে বিচার করা হবে।
জুলাই গণঅভ্যুত্থান-সংক্রান্ত হত্যা মামলার তদন্ত ও বিচার কার্যক্রমের অগ্রগতি তুলে ধরে চিফ প্রসিকিউটর বলেন, এ পর্যন্ত ৫৯০টি অভিযোগ জমা পড়েছে। এর মধ্যে প্রাথমিকভাবে ১০৯টি অভিযোগ তদন্তের জন্য বাছাই করা হয়েছে, যাতে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের ঘটনাগুলো অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
তিনি জানান, যাত্রাবাড়ী, উত্তরা, নরসিংদীসহ কয়েকটি এলাকার পৃথক ঘটনাকে একীভূত তদন্তের আওতায় আনা গেলে তদন্ত ও বিচার প্রক্রিয়া আরও দ্রুত সম্পন্ন করা সম্ভব হবে।
চিফ প্রসিকিউটর বলেন, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউশন টিমের লক্ষ্য আগামী এক বছরের মধ্যে জুলাই গণঅভ্যুত্থান-সংক্রান্ত মামলাগুলোর তদন্ত ও বিচার কার্যক্রম সম্পন্ন করা।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au